পল্লব শাহরিয়ার

একসময় যুদ্ধ মানে ছিল সৈন্যের মুখোমুখি লড়াই। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ভর করত সৈন্যসংখ্যা, শারীরিক শক্তি ও সাহসের ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে মহাকাশ ও ডিজিটাল জগতে। আজকের যুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র অনেক সময় বন্দুক নয়, বরং ড্রোন, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি। প্রযুক্তির এই অগ্রগতি যুদ্ধকে যেমন আরও ভয়ংকর করে তুলেছে, তেমনি মানবিকতা ও নৈতিকতার সামনে দাঁড় করিয়েছে নতুন প্রশ্ন।
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার তাই শুধু সামরিক বিষয় নয়, এটি আধুনিক সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। ইউক্রেন থেকে গাজা, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র—সর্বত্র যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাতে। প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কি মানুষের হাতে থাকবে, নাকি পুরোপুরি যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে?
ইউক্রেন: প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের বাস্তব উদাহরণ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের উদাহরণ। শক্তির দিক থেকে রাশিয়া অনেক এগিয়ে থাকলেও ইউক্রেন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই যুদ্ধে ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ছোট ও তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়ে শত্রুপক্ষের সেনা অবস্থান, ট্যাংক, অস্ত্রভান্ডার শনাক্ত এবং আক্রমণ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে আগেভাগে শত্রুর গতিবিধি জানা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের শুরুতে উভয় পক্ষ একে অপরের যোগাযোগ ও তথ্যব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল তথ্যও যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠে। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে আধুনিক যুদ্ধে শুধু বড় সেনাবাহিনী নয়, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই অনেক সময় জয়-পরাজয়ের ফয়সালা করে দেয়।
ড্রোন: আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন সবচেয়ে কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর একটি। এটি মূলত চালকবিহীন উড়োজাহাজ, যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের প্রধান ব্যবহার হচ্ছে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলা চালানো। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে ড্রোন শত্রুপক্ষের অবস্থান, অস্ত্রভান্ডার ও সেনা চলাচলের তথ্য সরবরাহ করে।

এটি ব্যবহারের সুবিধা হলো, এতে সৈন্যদের সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে হয় না। তুলনামূলক কম খরচে ড্রোন তৈরি করা যায় এবং দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করায় এটি যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে পারে। ইউক্রেন, গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার দেখা গেছে। ছোট ড্রোন দিয়েও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন ব্যবহারের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ভুল তথ্য বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বেসামরিক লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবু বাস্তবতা হলো, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন শুধু সহায়ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এখন যন্ত্রের হাতে
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতেন সামরিক কমান্ডাররা অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে। এখন সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এআই প্রযুক্তি। ড্রোনের ভিডিও, স্যাটেলাইট ছবি, রাডার তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মতো বিপুল তথ্য এআই
খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে কোথায় শত্রুর উপস্থিতি বেশি, কোন এলাকায় হামলার ঝুঁকি আছে কিংবা কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ ও যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে যুদ্ধের গতি বেড়েছে, তবে একই সঙ্গে নৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, এআই যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার দায় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাস্তবতা হলো, আধুনিক যুদ্ধে এআই ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে।

স্যাটেলাইট ও জিপিএস
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ও জিপিএস প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থান, সেনা চলাচল এবং সামরিক ঘাঁটির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা সম্ভব হয়। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করা হয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। ফলে হামলার কার্যকারিতা বেড়েছে এবং যুদ্ধ আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তির কারণে যুদ্ধক্ষেত্র এখন অনেকটাই স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে।

রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো কিংবা পাহারার কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি কমে আসে। অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও এই পরিবর্তনের অংশ। তবে এসব প্রযুক্তি যুদ্ধকে যেমন কার্যকর করছে, তেমনি মানবিক ও নৈতিক প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসছে।
ভবিষ্যতের যুদ্ধ: মানুষ কোথায়
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন বড় ধরনের সুফল এসেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন ঝুঁকি ও নৈতিক প্রশ্ন। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সৈন্যদের প্রাণহানি কমেছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং হামলার নির্ভুলতা বেড়েছে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যুদ্ধ পরিকল্পনা আরও কার্যকর হয়েছে। তবে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুদ্ধকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলছে, যা সংঘাত বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে। ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানুষের ভূমিকা আরও কমে গিয়ে যন্ত্রের ভূমিকা বাড়তে পারে।
প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি যন্ত্র নেবে, নাকি মানবিক বিবেচনার জায়গা বজায় থাকবে?

একসময় যুদ্ধ মানে ছিল সৈন্যের মুখোমুখি লড়াই। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ভর করত সৈন্যসংখ্যা, শারীরিক শক্তি ও সাহসের ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে মহাকাশ ও ডিজিটাল জগতে। আজকের যুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র অনেক সময় বন্দুক নয়, বরং ড্রোন, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি। প্রযুক্তির এই অগ্রগতি যুদ্ধকে যেমন আরও ভয়ংকর করে তুলেছে, তেমনি মানবিকতা ও নৈতিকতার সামনে দাঁড় করিয়েছে নতুন প্রশ্ন।
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার তাই শুধু সামরিক বিষয় নয়, এটি আধুনিক সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। ইউক্রেন থেকে গাজা, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র—সর্বত্র যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাতে। প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কি মানুষের হাতে থাকবে, নাকি পুরোপুরি যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে?
ইউক্রেন: প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের বাস্তব উদাহরণ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের উদাহরণ। শক্তির দিক থেকে রাশিয়া অনেক এগিয়ে থাকলেও ইউক্রেন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই যুদ্ধে ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ছোট ও তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়ে শত্রুপক্ষের সেনা অবস্থান, ট্যাংক, অস্ত্রভান্ডার শনাক্ত এবং আক্রমণ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে আগেভাগে শত্রুর গতিবিধি জানা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের শুরুতে উভয় পক্ষ একে অপরের যোগাযোগ ও তথ্যব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল তথ্যও যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠে। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে আধুনিক যুদ্ধে শুধু বড় সেনাবাহিনী নয়, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই অনেক সময় জয়-পরাজয়ের ফয়সালা করে দেয়।
ড্রোন: আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন সবচেয়ে কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর একটি। এটি মূলত চালকবিহীন উড়োজাহাজ, যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের প্রধান ব্যবহার হচ্ছে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলা চালানো। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে ড্রোন শত্রুপক্ষের অবস্থান, অস্ত্রভান্ডার ও সেনা চলাচলের তথ্য সরবরাহ করে।

এটি ব্যবহারের সুবিধা হলো, এতে সৈন্যদের সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে হয় না। তুলনামূলক কম খরচে ড্রোন তৈরি করা যায় এবং দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করায় এটি যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে পারে। ইউক্রেন, গাজা যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার দেখা গেছে। ছোট ড্রোন দিয়েও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন ব্যবহারের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ভুল তথ্য বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বেসামরিক লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবু বাস্তবতা হলো, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন শুধু সহায়ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এখন যন্ত্রের হাতে
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতেন সামরিক কমান্ডাররা অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে। এখন সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এআই প্রযুক্তি। ড্রোনের ভিডিও, স্যাটেলাইট ছবি, রাডার তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মতো বিপুল তথ্য এআই
খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে কোথায় শত্রুর উপস্থিতি বেশি, কোন এলাকায় হামলার ঝুঁকি আছে কিংবা কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ ও যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে যুদ্ধের গতি বেড়েছে, তবে একই সঙ্গে নৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, এআই যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার দায় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাস্তবতা হলো, আধুনিক যুদ্ধে এআই ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে।

স্যাটেলাইট ও জিপিএস
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ও জিপিএস প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থান, সেনা চলাচল এবং সামরিক ঘাঁটির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা সম্ভব হয়। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করা হয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। ফলে হামলার কার্যকারিতা বেড়েছে এবং যুদ্ধ আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। এই প্রযুক্তির কারণে যুদ্ধক্ষেত্র এখন অনেকটাই স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে।

রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো কিংবা পাহারার কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি কমে আসে। অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও এই পরিবর্তনের অংশ। তবে এসব প্রযুক্তি যুদ্ধকে যেমন কার্যকর করছে, তেমনি মানবিক ও নৈতিক প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসছে।
ভবিষ্যতের যুদ্ধ: মানুষ কোথায়
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন বড় ধরনের সুফল এসেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন ঝুঁকি ও নৈতিক প্রশ্ন। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সৈন্যদের প্রাণহানি কমেছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং হামলার নির্ভুলতা বেড়েছে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যুদ্ধ পরিকল্পনা আরও কার্যকর হয়েছে। তবে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুদ্ধকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলছে, যা সংঘাত বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে। ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানুষের ভূমিকা আরও কমে গিয়ে যন্ত্রের ভূমিকা বাড়তে পারে।
প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি যন্ত্র নেবে, নাকি মানবিক বিবেচনার জায়গা বজায় থাকবে?

সম্প্রতি এক সাইবার সিকিউরিটি গবেষক মাইক্রোসফট কোপাইলটে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। ডেটা সিকিউরিটি রিসার্চ ফার্ম ভ্যারোনিস থ্রেট ল্যাবস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
আইফোন ১৬ থেকে অ্যাপল একটি নতুন ক্যামেরা কন্ট্রোল যুক্ত করেছে। এটি মোবাইল ফোনের পাশে থাকা একটি বিশেষ ধরনের কন্ট্রোল। শুরুতে অনেকে ভেবেছিলেন, এটি পেশাদার ক্যামেরার মতো শাটার বাটনের কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তবু সঠিকভাবে ব্যবহার জানা থাকলে এই ক্যামেরা কন্ট্রোল বেশ কাজে লাগে।
৩ ঘণ্টা আগে
বাসায় গ্যাস নেই। আবার গ্যাস থাকলেও চাপ কম। এমন অবস্থা হলে ভাবতে হয় গ্যাসের বিকল্প কী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসে ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার কথা। দুটিই বিদ্যুতে চলে। তবে চুলা দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বখ্যাত মোবাইল ব্র্যান্ড এইচটিসি এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে মোবাইল ফোনটি। সম্প্রতি দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া উন্মুক্ত করা হয়েছে এইচটিসির নতুন মডেল ওয়াইল্ড ফায়ার ই৭ লাইফ।
৪ ঘণ্টা আগে