ভূমিকম্প এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার কোনো আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। তবু এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে মানুষের চিন্তার কমতি নেই। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্পর্কে জানার কোনো উপায় না থাকলেও বিভিন্ন প্রযুক্তি ও গ্যাজেট রয়েছে, যেগুলো ভূমিকম্পের সময় নিরাপত্তা বিষয়ে বেশ কার্যকর এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়।
ভূমিকম্প সতর্কতা ডিভাইস
জাপানসহ বিভিন্ন দেশে ‘পার্সোনাল আর্থকোয়েক অ্যালার্ম ডিভাইস’ নামে একধরনের ভূমিকম্প সতর্কতা ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। জাপান ও তাইওয়ানের বাড়িঘর, স্কুল, অফিস-আদালতে এ ডিভাইস দেখা যায়। এটি ভূকম্পনের কয়েক সেকেন্ড আগে মানুষকে সতর্ক করে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সতর্কবার্তা দেয় এই ডিভাইস। পার্সোনাল আর্থকোয়েক অ্যালার্ম ডিভাইসে একধরনের যান্ত্রিক পেন্ডুলাম ও কম্পন সেন্সর রয়েছে। প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত হলে ডিভাইসটি জোরে শব্দ করে সংকেত দেয়। আবার এ ধরনের কোনো কোনো ডিভাইস লাল বাতি জ্বালিয়ে সংকেত দেয়। এই ডিভাইস রাতে ভূমিকম্পে ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আগে বেশ কার্যকর।

গ্যাস শাট অফ ভাল্ভ
ভূমিকম্পের সময় গ্যাসলাইন ভেঙে যাওয়ার কারণে আগুন ধরে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। তাই এই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন দেশে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হয় গ্যাস শাট অফ ভাল্ভ নামক একটি ডিভাইস। এটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ডিভাইস, যা ভূমিকম্পের সময় কোনো ভবনে প্রাকৃতিক গ্যাস বা প্রোপেন সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই ডিভাইস গ্যাস-সংযোগের পাইপে যুক্ত করা হয়। মোশন সেন্সর ও সোলেনয়েড ভাল্ভ ব্যবহার করা হয় এতে। ভূমিকম্পের সময় এর সেন্সর ভূকম্পন শনাক্ত করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, তুরস্ক, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ব্যবহার করা হয়।

কোয়েক লাইট
ভূমিকম্প শুরু হলে অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাসাবাড়ি থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে অন্ধকারে পড়ে যায়; বিশেষ করে রাতে ভূমিকম্প হলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে লাইট জ্বালাতে ভুলে যায়। ফলে সিঁড়ি দিয়ে অথবা বাসাবাড়ি থেকে বের হতে অন্ধকারে দুর্ঘটনায় পড়ে। তাই বিভিন্ন দেশে বাসাবাড়িতে কোয়েক লাইট নামে একধরনের ইমার্জেন্সি লাইট লাগানো হয়। এটি ভূমিকম্পের সময় লোডশেডিং বা অন্ধকারেও আলো জ্বালাবে। এর সেন্সর ভূকম্পন শনাক্ত করে বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটির আলো জ্বলে। এতে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক কমাতে এবং অন্ধকার রোধ করতে এই লাইট বেশ কার্যকর।

হ্যান্ড ক্র্যাংক রেডিও
হ্যান্ড ক্র্যাংক রেডিও বা সোলার আর্থকোয়েক রেডিও নামের এই বিশেষ ধরনের রেডিও বিদ্যুৎ ছাড়াই চলতে পারে। এটি সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির সাহায্যে চলে। ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎবিহীন অবস্থার জন্য এটি বানানো হয়েছে। ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগের সময় এই রেডিও থেকে জরুরি আবহাওয়া বার্তা পাওয়া যাবে। কাছের আবহাওয়া স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে এর মাধ্যমে। শুধু রেডিও নয়, এতে বিশাল একটি লাইট ও ক্যাম্পিং ল্যাম্প রয়েছে। জরুরি মুহূর্তে সতর্ক করার এসওএস সাইরেনও আছে, যেটি আবহাওয়া স্টেশন থেকে সংকেত পেয়ে বেজে উঠবে। সাইরেন ছাড়াও রেডিওটিতে মোবাইল ফোনসহ জরুরি ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ দেওয়া ব্যবস্থা আছে।
সূত্র: আমাজন ও আলিবাবা

গভীর রাত। ঘুমন্ত ও নিস্তব্ধ পুরো এলাকা। এমন সময় উচ্চশব্দে বেজে উঠেছে গাড়ির অ্যালার্ম। পুরো এলাকার মানুষের ঘুমের বারোটা বেজে গেল। এমন ঘটনা ঘটছে পূর্ব লন্ডনে। আর এই অ্যালার্মের উৎস গুগলের গাড়ির।
৯ ঘণ্টা আগে
একসময় পোষা পাখির পায়ে চিঠি বেঁধে খবর পৌঁছে দেওয়া হতো নির্দিষ্ট মানুষের কাছে। মাসের পর মাস দেখা কিংবা কথা হতো না অনেকের সঙ্গে। একসময় এল ল্যান্ডফোন, তারপর এসেছে স্মার্টফোন। তখন আমরা অনেকের মোবাইল ফোন নম্বর মুখস্থ রাখতে পারতাম।
১১ ঘণ্টা আগে
একসময় যা ছিল কম্পিউটার স্ক্রিনের আড়ালে থাকা যুদ্ধ, তা এখন আক্ষরিক অর্থে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থেকে শুরু করে বাড়ির ঠিকানা—সবই এখন হ্যাকারদের নখদর্পণে। ফলে এখন আপনার মনে হতেই পারে, কেউ সারাক্ষণ আপনাকে চোখে চোখে রাখছে!
১২ ঘণ্টা আগে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। পরিত্যক্ত খনি এলাকাগুলোকে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর উদাহরণ দেখা যাচ্ছে হুবেই প্রদেশের তাইয়্য শহরে।
১২ ঘণ্টা আগে