Ajker Patrika

এশিয়ান গেমসের ৩৯ কোটি টাকার বাজেট কমে ১৯ কোটিতে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
এশিয়ান গেমসের ৩৯ কোটি টাকার বাজেট কমে ১৯ কোটিতে

বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসর সামনে এলেই বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্রীড়া ফেডারেশনের সামনে ভেসে ওঠে একই সংকট—অর্থ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলা আয়োজনের মতো আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় এশিয়ান গেমসের মতো আসর সামনে রেখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাদের। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অলিম্পিকের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমস। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই আসরের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) প্রায় সাত মাস আগে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৯ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল। সময় গড়িয়ে গেলেও সেই অর্থ মেলেনি। পরে জুলাইয়ে বাজেট কমিয়ে ২৩ কোটি টাকা চাওয়া হলেও তাতেও সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ গত পরশু ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রশিক্ষণ এবং ১৪ কোটি টাকা যাতায়াত, আবাসন ও অংশগ্রহণ ব্যয় ধরে নতুন বাজেট জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠিয়েছে বিওএ।

অর্থ না পেলেও প্রস্তুতি থেমে নেই। বিওএর নিজস্ব তহবিল থেকেই এখন পর্যন্ত ফেডারেশনগুলোকে প্রশিক্ষণের জন্য ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘আমরা এখন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অর্থ পাইনি। অলিম্পিক থেকেই এই পর্যন্ত হওয়া সকল গেমসের ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে। ২০ আগস্ট থেকে অনেক ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। প্রশিক্ষণ বাবদ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আমরা ফেডারেশনগুলোকে দিয়েছি।’

তবে এই অর্থে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরের যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন। ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে কাবাডি ফেডারেশন পেয়েছে সর্বোচ্চ ৪২ লাখ টাকা। কাবাডির অনুশীলন অবশ্য কয়েক মাস ধরেই চলছে। ক্রিকেট নিজেদের অর্থেই প্রস্তুতি নেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ফুটবলও বড় ফেডারেশন হিসেবে কিছুটা সহায়তা পেয়ে থাকে। পৃষ্ঠপোষক থাকায় আর্চারিও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে।

বাকিদের পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক ফেডারেশন অনুশীলন শুরুর সুযোগই পেয়েছে মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। বিওএর মহাসচিবও মনে করেন, এত অল্প সময়ে প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, ‘কয়েকটি ফেডারেশন বাদে বাকি ফেডারেশনগুলো অনুশীলন শুরুই করেছে সপ্তাহ তিনেক। বাস্তবিক অর্থে এশিয়ান গেমসের জন্য এই প্রস্তুতি যথার্থ নয়।’

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত পদকের অপেক্ষা দীর্ঘ। ১৯৮৬ সালে বক্সিংয়ে মোশাররফ হোসেন ব্রোঞ্জ জিতে শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের পদকযাত্রা। এরপর কাবাডি ও ক্রিকেটে এসেছে আরও পদক। তবে ব্যক্তিগত ইভেন্টে সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র পদক। আর ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেট দল সোনা জিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য এনে দেয়।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত