Ajker Patrika

যে মন্ত্রে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ

ক্রীড়া ডেস্ক    
যে মন্ত্রে পাকিস্তানের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ
৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন এই তরুণ পেসার। ছবি: ক্রিকইনফো

এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে ইনিংস হারের শঙ্কা এড়িয়ে এখন লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে পাকিস্তান। সফরকারীদের আশা বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম কারিগর অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ। ৯ নম্বরে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানে পিছিয়ে থাকার পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো হয়নি। রানের খাতা খোলার আগেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে বসে তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চার ফিফটিতে ৪৪৯ রান করেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাবর আজমের দল। শান মাসুদের (৯৫) ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এলেও পাকিস্তান স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড় করাতে পেরেছে রাজাউল্লাহর ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদেই।

রাজাউল্লাহর এমন ইনিংসের পেছনে ছিল ভয়কে দূরে সরিয়ে পরিস্থিতি উপভোগ করার মানসিকতা। জফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, জশ টংয়ের মতো পেসারদের শর্ট বলেও বিচলিত হননি তিনি। বরং নিজের শক্তির ওপর আস্থা রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে গেছেন।

রাজাউল্লাহ বলেন, ‘কোন বলগুলোতে স্লগ করব, সেটা বেছে নিচ্ছিলাম। কিন্তু সব বলই আমার নাগালের মধ্যে মনে হচ্ছিল। আমি যতটা সম্ভব ইনিংসটা গভীরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। গতির ব্যাপারে আমি ভয় পাইনি। আর্চারের হার্ড লেংথের বলগুলোকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলাম। দেশের হয়ে খেললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু নিজেকে উপভোগ করছিলাম।’

রাজাউল্লাহর এই আত্মবিশ্বাসের আরেকটি কারণ ছিল শর্ট বলের প্রতি স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য। অভিষিক্ত এই ক্রিকেটারের কাছে শর্ট বলই সবচেয়ে পছন্দের। নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শর্ট বল মোকাবিলা করাই আমার সবচেয়ে পছন্দ। আমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, ৫০টি বল খেলতে পারলে ইতিবাচক কিছু একটা হবে। সৌভাগ্যক্রমে সেটাই হয়েছে।’

রাজাউল্লাহর ব্যাটিং শুধু পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়েই রাখেনি, অভিষেকেই তাঁকে রেকর্ডের পাতায়ও তুলে দিয়েছে। ৯ ছক্কা মেরে টেস্ট অভিষেকে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে যৌথভাবে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এর আগে বল হাতে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়েছিলেন এই তরুণ ক্রিকেটার।

পরে নিজের ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজাউল্লাহ বলেন, ‘দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানোটা আমি উপভোগ করেছি। আমি জীবনকে উপভোগ করতে পছন্দ করি এবং মুহূর্তটা উপভোগ করছিলাম।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত