জুনায়েদ পাইকার

ঢাকা: মাঠে শুধু খেলোয়াড়েরাই খেলাটা জমিয়ে তোলেন না। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকের উন্মাদনা, উচ্ছ্বাস, চিৎকার, হুল্লোড় আর করতালি—সব মিলিয়েই হয় একটি জমজমাট খেলা। যেকোনো দল নিজেদের মাঠে খেললে নিঃস্বার্থ সমর্থন দিয়ে অনুপ্রাণিত করতে থাকে স্বাগতিক দর্শকেরা। এ কারণেই তো দর্শকদের বলা হয় ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়’।
ক্রিকেটেই ধরুন, একজন ব্যাটসম্যানকে ঘিরে ধরে প্রতিপক্ষের ১১ জন খেলোয়াড় আর গ্যালারিতে যদি থাকে ফিল্ডিং দলের গ্যালারিভর্তি দর্শক—কী চাপটা তৈরি হয় ওই ব্যাটসম্যানের মনে! গত বছর তামিম ইকবালের সঙ্গে অনলাইন আড্ডায় রোহিত শর্মা কি আর সাধে বলেছিলেন, ‘বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন ভারতীয় দর্শকের সমর্থন পেতে আমরা অভ্যস্ত। একমাত্র বাংলাদেশে সেটা হয় না!’
বাংলাদেশে যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচ; সেটা হোক ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে—গ্যালারি পূর্ণ থাকবেই। স্টেডিয়ামের বাইরেও থাকে হাজারো দর্শক। আর বেশির ভাগ সময় টিকিট পরিণত হয় সোনার হরিণে! হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে অপেক্ষা করেন। কখনো তো পুলিশি লাঠিচার্জের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে!
১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর দেশের মাঠে বাংলাদেশ দল খেলেছে আর গ্যালারি দর্শকশূন্য থেকেছে—এমন উদাহরণ কমই আছে। বাংলাদেশে ক্রিকেট আর দর্শকের সঙ্গে সব সময়ই একটি অলিখিত সন্ধিই দেখা গেছে। শুধু দেশেই নয়; বাংলাদেশ দল যেখানে খেলতে যায়, সেখানেই দেখা মেলে লাল–সবুজ সমর্থকদের। অবশ্য ক্রিকেট খেলুড়ে কোনো দেশেই আগ্রহী দর্শকের কমতি নেই। ভারত তো গ্যালারিতে লাখো দর্শকের জায়গা দিতে গুজরাটে বানিয়ে ফেলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম।
যে দর্শকের জন্য এত আয়োজন, তাঁরাই এখন গ্যালারিতে ‘অবাঞ্ছিত’! না, এখানে আয়োজকদের কিছু করার নেই। করোনা মহামারি বাধ্য করেছে গ্যালারিতে দর্শক ‘নিষিদ্ধ’ করতে! সংক্রমণ প্রতিরোধে গ্যালারি শূন্য রেখে আয়োজন করা হচ্ছে খেলা। যদিও কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শক মাঠে খেলা দেখার অনুমতি পাচ্ছে। তবু মহামারির সেই আগের ছবিটা তো দেখা যাচ্ছে না। এখন মাঠে ঢোকার অনুমতি পেলেও কত শর্ত—টিকা দিতে হবে, নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট থাকতে হবে। আমাদের দেশে অবশ্য এভাবেও খেলা দেখার উপায় নেই। এ কারণে সাকিব–তামিম–মুশফিকেরা খেলছেন, অথচ গ্যালারি খাঁ–খাঁ করছে!
গ্যালারির এই মলিন চেহারা আর নির্বাক উদ্যাপন মেনে নেওয়া বড় কষ্টদায়ক, বিশেষ করে আমরা যাঁরা নিয়মিত গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে চেষ্টা করি। গ্যালারিতে খেলা দেখার যে উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা, মজা—সেটি কি আর টেলিভিশনের সামনে পাওয়া যায়! আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রায় সব ম্যাচেই দল বেঁধে গ্যালারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উৎসাহ দিয়ে আসছি। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, নিদাহাস ট্রফি, ভারতে দিবারাত্রি টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব সিরিজ–টুর্নামেন্টে আমরা দলকে মাঠে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছি। গ্যালারিতে না থাকতে পারার কষ্টটা আমাদের যেন একটু বেশিই।
কোভিডের প্রথম ধাক্কা সামলে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ফিরেছে বঙ্গবন্ধু কাপ টি–টোয়েন্টি দিয়ে। টুর্নামেন্টে গ্যালারিতে দর্শক না থাকলেও ‘ভার্চ্যুয়াল’ উপস্থিতি ছিল দর্শকদের। অবশ্য এটি মাঠের বড় পর্দায় নিজেদের দেখার সাময়িক আনন্দের বেশি কিছু দিতে পারেনি। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ হয়েছে একেবারেই দর্শকশূন্য মাঠে। তবে গত মাসে বিসিবির সহায়তায় আমরা ১৫ জনের একটি দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছি। এতে দীর্ঘ দিন পর গ্যালারিতে উপস্থিত হওয়ার আনন্দ মিললেও নিঃশব্দ দর্শকশূন্য গ্যালারির হাহাকারটাই বেশি কানে বেজেছে। অথচ এই গ্যালারিতেই আগে তিল ধারণের জায়গা থাকত না! এখন গ্যালারি ঢাকা পৃষ্ঠপোষকদের লোগোসংবলিত বড় বড় ব্যানারে।
আশার কথা, আইসিসি চেষ্টা করছে ধীরে ধীরে তাদের টুর্নামেন্টে দর্শক ফেরাতে। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে যেমন চার হাজার দর্শককে খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে তারা। আশা করি দ্রুত পৃথিবীটা আবার স্বাভাবিক হবে। আবারও সব সিরিজ–টুর্নামেন্টেই গ্যালারি পূর্ণ হবে দর্শকে। দর্শক ছাড়া কি খেলা পুরোপুরি জমে? বিপুল হর্ষধ্বনি, চিৎকার, হল্লা, দুয়ো—এসব না থাকলে মাঠের উত্তাপ কি আর পুরোপুরি অনুভব হয়? এ গ্যালারিতেই কত আনন্দ–বেদনার কাব্য রচিত হয় প্রতিটি ম্যাচে। মাঠে কবে যে ফিরবে দ্বাদশ খেলোয়াড়!
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)

ঢাকা: মাঠে শুধু খেলোয়াড়েরাই খেলাটা জমিয়ে তোলেন না। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকের উন্মাদনা, উচ্ছ্বাস, চিৎকার, হুল্লোড় আর করতালি—সব মিলিয়েই হয় একটি জমজমাট খেলা। যেকোনো দল নিজেদের মাঠে খেললে নিঃস্বার্থ সমর্থন দিয়ে অনুপ্রাণিত করতে থাকে স্বাগতিক দর্শকেরা। এ কারণেই তো দর্শকদের বলা হয় ‘দ্বাদশ খেলোয়াড়’।
ক্রিকেটেই ধরুন, একজন ব্যাটসম্যানকে ঘিরে ধরে প্রতিপক্ষের ১১ জন খেলোয়াড় আর গ্যালারিতে যদি থাকে ফিল্ডিং দলের গ্যালারিভর্তি দর্শক—কী চাপটা তৈরি হয় ওই ব্যাটসম্যানের মনে! গত বছর তামিম ইকবালের সঙ্গে অনলাইন আড্ডায় রোহিত শর্মা কি আর সাধে বলেছিলেন, ‘বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন ভারতীয় দর্শকের সমর্থন পেতে আমরা অভ্যস্ত। একমাত্র বাংলাদেশে সেটা হয় না!’
বাংলাদেশে যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচ; সেটা হোক ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে—গ্যালারি পূর্ণ থাকবেই। স্টেডিয়ামের বাইরেও থাকে হাজারো দর্শক। আর বেশির ভাগ সময় টিকিট পরিণত হয় সোনার হরিণে! হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে অপেক্ষা করেন। কখনো তো পুলিশি লাঠিচার্জের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে!
১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর দেশের মাঠে বাংলাদেশ দল খেলেছে আর গ্যালারি দর্শকশূন্য থেকেছে—এমন উদাহরণ কমই আছে। বাংলাদেশে ক্রিকেট আর দর্শকের সঙ্গে সব সময়ই একটি অলিখিত সন্ধিই দেখা গেছে। শুধু দেশেই নয়; বাংলাদেশ দল যেখানে খেলতে যায়, সেখানেই দেখা মেলে লাল–সবুজ সমর্থকদের। অবশ্য ক্রিকেট খেলুড়ে কোনো দেশেই আগ্রহী দর্শকের কমতি নেই। ভারত তো গ্যালারিতে লাখো দর্শকের জায়গা দিতে গুজরাটে বানিয়ে ফেলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম।
যে দর্শকের জন্য এত আয়োজন, তাঁরাই এখন গ্যালারিতে ‘অবাঞ্ছিত’! না, এখানে আয়োজকদের কিছু করার নেই। করোনা মহামারি বাধ্য করেছে গ্যালারিতে দর্শক ‘নিষিদ্ধ’ করতে! সংক্রমণ প্রতিরোধে গ্যালারি শূন্য রেখে আয়োজন করা হচ্ছে খেলা। যদিও কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শক মাঠে খেলা দেখার অনুমতি পাচ্ছে। তবু মহামারির সেই আগের ছবিটা তো দেখা যাচ্ছে না। এখন মাঠে ঢোকার অনুমতি পেলেও কত শর্ত—টিকা দিতে হবে, নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট থাকতে হবে। আমাদের দেশে অবশ্য এভাবেও খেলা দেখার উপায় নেই। এ কারণে সাকিব–তামিম–মুশফিকেরা খেলছেন, অথচ গ্যালারি খাঁ–খাঁ করছে!
গ্যালারির এই মলিন চেহারা আর নির্বাক উদ্যাপন মেনে নেওয়া বড় কষ্টদায়ক, বিশেষ করে আমরা যাঁরা নিয়মিত গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে চেষ্টা করি। গ্যালারিতে খেলা দেখার যে উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা, মজা—সেটি কি আর টেলিভিশনের সামনে পাওয়া যায়! আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রায় সব ম্যাচেই দল বেঁধে গ্যালারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উৎসাহ দিয়ে আসছি। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, নিদাহাস ট্রফি, ভারতে দিবারাত্রি টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব সিরিজ–টুর্নামেন্টে আমরা দলকে মাঠে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছি। গ্যালারিতে না থাকতে পারার কষ্টটা আমাদের যেন একটু বেশিই।
কোভিডের প্রথম ধাক্কা সামলে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ফিরেছে বঙ্গবন্ধু কাপ টি–টোয়েন্টি দিয়ে। টুর্নামেন্টে গ্যালারিতে দর্শক না থাকলেও ‘ভার্চ্যুয়াল’ উপস্থিতি ছিল দর্শকদের। অবশ্য এটি মাঠের বড় পর্দায় নিজেদের দেখার সাময়িক আনন্দের বেশি কিছু দিতে পারেনি। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ হয়েছে একেবারেই দর্শকশূন্য মাঠে। তবে গত মাসে বিসিবির সহায়তায় আমরা ১৫ জনের একটি দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছি। এতে দীর্ঘ দিন পর গ্যালারিতে উপস্থিত হওয়ার আনন্দ মিললেও নিঃশব্দ দর্শকশূন্য গ্যালারির হাহাকারটাই বেশি কানে বেজেছে। অথচ এই গ্যালারিতেই আগে তিল ধারণের জায়গা থাকত না! এখন গ্যালারি ঢাকা পৃষ্ঠপোষকদের লোগোসংবলিত বড় বড় ব্যানারে।
আশার কথা, আইসিসি চেষ্টা করছে ধীরে ধীরে তাদের টুর্নামেন্টে দর্শক ফেরাতে। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে যেমন চার হাজার দর্শককে খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে তারা। আশা করি দ্রুত পৃথিবীটা আবার স্বাভাবিক হবে। আবারও সব সিরিজ–টুর্নামেন্টেই গ্যালারি পূর্ণ হবে দর্শকে। দর্শক ছাড়া কি খেলা পুরোপুরি জমে? বিপুল হর্ষধ্বনি, চিৎকার, হল্লা, দুয়ো—এসব না থাকলে মাঠের উত্তাপ কি আর পুরোপুরি অনুভব হয়? এ গ্যালারিতেই কত আনন্দ–বেদনার কাব্য রচিত হয় প্রতিটি ম্যাচে। মাঠে কবে যে ফিরবে দ্বাদশ খেলোয়াড়!
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)

রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাস পরই বরখাস্ত হলেন জাবি আলোনসো। গতকাল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হার এবং লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে ‘পারস্পরিক সমঝোতার’ ভিত্তিতে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন...
৯ ঘণ্টা আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভারতে খেলার মতো পরিস্থিতি নেই— আজ বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
১১ ঘণ্টা আগে
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স রীতিমতো উড়ছে। জয় দিয়েই তারা সিলেট পর্ব শেষ করেছে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ ঢাকা ক্যাপিটালসকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে রাজশাহী।শুধু তাই নয়, রাজশাহীর জয়ে ২০২৬ বিপিএলে তিন দলের প্লে অফে ওঠা নিশ্চিত হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের কাছেই রেখে দিল বার্সেলোনা। এবারও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে। মাঠে যতই তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হোক না কেন, চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে প্রস্তুত ছিল রিয়াল।
১২ ঘণ্টা আগে