Ajker Patrika

‘ফ্যান্টাস্টিক ফোরে’ চোখ ফ্রান্সের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
‘ফ্যান্টাস্টিক ফোরে’ চোখ ফ্রান্সের
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ ফ্রান্স খেলবে স্পেনের বিপক্ষে। ছবি: এএফপি

কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামানোর পরিকল্পনা নিশ্চয়ই করে ফেলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু তাতেই কি কাজ হবে?

এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শুধু এমবাপ্পের দল বললে ভুল হবে। কারণ, প্রতিপক্ষের জন্য বিপদ এখন শুধু তাঁর পা থেকে আসে না। আসে উসমান দেম্বেলের গতি থেকে, মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে, দেজিরে দুয়ের সাহসী দৌড় থেকেও। ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ মিলে এমন এক আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছেন, যেটি দিদিয়ের দেশমের আগের কোনো ফ্রান্সে দেখা যায়নি।

ফ্রান্স মানেই এত দিন ছিল গোছানো রক্ষণ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আর সুযোগ বুঝে আঘাত। দেশমের ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের পরিচয়ও ছিল সেটিই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিশ্বকাপে তাঁর দল যেন পুরোনো সেই পরিচয়ের সঙ্গে যোগ করেছে নতুন এক রূপ—সাহসী, গতিময় এবং নিরন্তর আক্রমণাত্মক।

চারজনের কেউই একই ধরনের ফুটবলার নন। এমবাপ্পে আছেন, তবে গোল করাই যেন তাঁর একমাত্র কাজ নয়। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নড়বড়ে করে জায়গা তৈরি করেন সতীর্থদের জন্য। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় গোলটির সময় যেমন তাঁর এক দৌড়েই দুই সেন্টারব্যাক সরে গিয়েছিলেন। সেই ফাঁকেই জায়গা পান দেম্বেলে।

দেম্বেলের খেলাতেও এসেছে পরিণতি। আগের মতো শুধু গতির ওপর নির্ভর করেন না। কখন ডান প্রান্তে থাকতে হবে, কখন মাঝখানে ঢুকতে হবে, কখন দ্রুত শট নিতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত এখন অনেক পরিণতভাবে নিচ্ছেন। তাই গোল করার পাশাপাশি আক্রমণের ছন্দও তিনিই ঠিক করে দিচ্ছেন অনেক সময়।

ওলিসে যেন এই আক্রমণভাগের মেরুদণ্ড। গোল তিনি এখনো পাননি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চোখধাঁধানো পাসটি প্রায়ই আসে তাঁর পা থেকে। এমবাপ্পের দৌড় কিংবা দেম্বেলের কাটব্যাক—সবকিছুর পেছনে প্রায় সময় থাকেন ওলিসে।

দেজিরে দুয়ের বয়স কম হলেও খেলায় নেই কোনো অস্থিরতা। প্রয়োজন হলে নিচে নেমে বল কেড়ে নিচ্ছেন, আবার মুহূর্তেই যোগ দিচ্ছেন আক্রমণে।

চারজনকে একসঙ্গে খেলানোর ঝুঁকিও কম নয়। রক্ষণে চাপ থাকে। কিন্তু ফ্রান্স সেই সমস্যার সমাধান করেছে অন্যভাবে। প্রতিপক্ষ যেন আক্রমণ গড়ার সুযোগই না পায়। এ কারণে ফ্রান্সের আক্রমণ শুধু গোল করছে না, রক্ষণকেও সাহায্য করছে। আধুনিক ফুটবলে এটি হয়তো সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা আর শুধু গোলের অপেক্ষায় থাকেন না, প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই সেটি থামিয়ে দেন।

তবে আজ সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছে অন্যরকম পরীক্ষা। স্পেন বল দখলে রাখতে ভালোবাসে, প্রতিপক্ষকে দৌড় করিয়ে ক্লান্ত করে দেয়। সেই স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় অস্ত্রও হতে পারেন এই চারজন। স্পেনের রক্ষণ যত ওপরে উঠবে, এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে-দুয়ের জন্য ততই তৈরি হবে দৌড়ে যাওয়ার জায়গা।

বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে কোনো দলই শুধু একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে টিকে থাকে না। দেশমের ফ্রান্সও নেই। এমবাপ্পে এখনো এই দলের সবচেয়ে বড় তারকা। বাকি তিনজনও সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তা ছাড়া বেঞ্চের গভীরতা তো আছেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত