Ajker Patrika

মেক্সিকোর ‘অজেয়’ দুর্গে ইংল্যান্ডের পরীক্ষা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মেক্সিকোর ‘অজেয়’ দুর্গে ইংল্যান্ডের পরীক্ষা
মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ছবি: এএফপি

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। শুধু প্রতিপক্ষই নয়, ইংল্যান্ডকে লড়তে হবে ২ হাজার ২৪০ মিটার উচ্চতার পাতলা বাতাস, গর্জে ওঠা স্বাগতিক সমর্থক আর বিশ্বকাপে আসতেকার দুর্ভেদ্য ইতিহাসের সঙ্গেও।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ছন্দে থাকা দলগুলোর একটি মেক্সিকো। গ্রুপপর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারানোর পর শেষ বত্রিশে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইকুয়েডরকে। চার ম্যাচে চার জয়, কোনো গোল হজম না করা এবং ৪০ বছরের নকআউট জয়-খরা কাটিয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে হাভিয়ের আগিরের দল।

ইংল্যান্ডের পথটা অবশ্য এতটা মসৃণ ছিল না। শেষ বত্রিশে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ৭ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল ‘থ্রি লায়ন্স’রা। পরে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। চলতি বিশ্বকাপে কেইনের গোল এখন পাঁচটি, আর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর মোট গোল ১৩টি।

তবে আসতেকার পরীক্ষা শুধু প্রতিপক্ষকে হারানোর নয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২৪০ মিটার উচ্চতায় অক্সিজেনের ঘাটতি খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সেই সঙ্গে বলও তুলনামূলক দ্রুতগতিতে চলাচল করে। তবে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, ‘অবশ্যই কঠিন হবে। বিশ্বকাপে সহজ কোনো ম্যাচ নেই। উচ্চতা একটা বিষয়, কিন্তু এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। আমরা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। ম্যাচ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেটা জানি।’ মিডফিল্ডার মরগান রজার্সও একই সুরে বলেছেন, ‘আমরা ফিট, আমরা প্রস্তুত এবং আমরা ক্ষুধার্ত। নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।’

টুখেলের জন্য অবশ্য দুশ্চিন্তার কারণও আছে। মিডফিল্ডের ভরসা ডেক্লান রাইস হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পুরোপুরি ফিট নন। রিস জেমস ও জ্যারেল কোয়ানসাহর খেলার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত। অন্যদিকে মেক্সিকো প্রায় পূর্ণশক্তির দল নিয়েই নামতে পারছে।

কৌশলগত লড়াইটাও হতে পারে দারুণ আকর্ষণীয়। আগিরের মেক্সিকো শুরু থেকে আক্রমণাত্মক প্রেসিং ফুটবল খেলতে চায়। জুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমেনেস প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে দ্রুত বল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। বিপরীতে টুখেলের পরিকল্পনা হতে পারে বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা। জুড বেলিংহামের নেতৃত্বে মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে পাল্টা আক্রমণে হ্যারি কেইনকে সুযোগ করে দেওয়াই হবে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য।

আসতেকায় মেক্সিকোর রেকর্ডও ইংল্যান্ডকে ভাবিয়ে তুলতে পারে। বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়ামে ১০ ম্যাচ খেলে স্বাগতিকেরা জিতেছে ৮টি, ড্র করেছে ২টি—হারেনি একবারও।

আরেকটি ইতিহাসের সামনেও দাঁড়িয়ে আছে মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না খেলে বিশ্বকাপের এক আসরের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখা ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দল হবে তারা। এর আগে ১৯৯০ সালে এই কীর্তি গড়েছিল ইতালি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত