
রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে তখন প্যারাগুয়ের গোলকিপার ওরলান্ডো গিলের সামনে দাঁড়িয়ে উদ্যাপন শুরু করেছেন। গিলকে যেন দেখিয়ে একটু বেশি উচ্ছ্বাস করলেন এমবাপ্পে। গিল তখন ফরাসি অধিনায়কের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সৌজন্য দেখিয়ে, এমবাপ্পে সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করলেন না। গিল বল ছুড়ে মারলেন এমবাপ্পের পিঠে! ফরাসি অধিনায়ক কম যান না, কিছু একটা শুনিয়ে দিলেন।
ভয়ংকর ফ্রান্স প্যারাগুয়ের মতো দলকে হারিয়ে কেন এমন উচ্ছ্বাসে মেতেছে? কারণ আছে। শনিবার রাতে ফিলাডেলফিয়ায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে কঠিন লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। একের পর এক কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি, তর্কবিতর্ক আর একে অন্যের দিকে তেড়ে যাওয়া মিলিয়ে ম্যাচজুড়ে ছড়িয়েছে উত্তাপ। আর সেই উত্তপ্ত লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ফ্রান্স। এমবাপ্পের উচ্ছ্বাসটা তাই একটু বেশিই হয়েছে। পেনাল্টি থেকে পাওয়া এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১–০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
প্যারাগুয়ের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এমবাপ্পে একটা হুমকি দিয়ে রেখেছেন। ক্ষোভ উগরে ফরাসি তারকা বলেছেন, ‘আমরা জানতাম, কী ধরনের ম্যাচ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আজ (কাল) যেভাবে খেলেছি, তাতে সন্তুষ্ট। আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে জানি না। প্রয়োজনে কঠিন, রুক্ষ লড়াইয়েও নামতে পারি। কথাটা একটু কড়া শোনাবে, তবে দরকার হলে কাদায় নেমেও লড়তে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’
এমবাপ্পে পরিষ্কার জানিয়ে রাখলেন, ফ্রান্স শুধু নান্দনিক ফুটবল উপহার দিতে পারে না, প্রয়োজনে নোংরা ফুটবলও খেলতে পারে। প্যারাগুয়ের সঙ্গে এত তপ্ত মুহূর্ত গেছে, সে কারণেই এমবাপ্পের এই হুংকার, ‘অনেকে ভেবেছিল আমরা বুঝি সাজগোজ করে মাঠে নামব, শুধু দৃষ্টিনন্দন পাস আর ওয়ান-টু খেলব। কিন্তু আমরা প্রয়োজনে কঠিন, রক্ষণাত্মক ও শারীরিক ফুটবলও খেলতে পারি। শুধু জিতিনি, সেই ধরনের খেলাতেও আমরা তাদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’ ফরাসি অধিনায়ক আরও যোগ করেছেন, ‘প্রতিটি দলই নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলে। ফুটবলে ভালো বা খারাপ কোনো স্টাইল নেই—শেষ পর্যন্ত একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো জয়। তারা (প্যারাগুয়ে) তাদের কৌশলে আমাদের হারাতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা তাদেরই সেই খেলায় হারিয়েছি।’
৯ জুলাই বোস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে ফরাসিদের প্রতিপক্ষ আরেক বিপজ্জনক দল মরক্কো। মরক্কোও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ধরন বদলে ফেলতে সক্ষম। প্রয়োজনে নান্দনিক ফুটবল, প্রয়োজনে শারীরিক। আর বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের সৌজন্যে ফরাসি-মরক্কো, একে অন্যের হাড়ে হাড়ে চেনা। পিএসজিতে একসঙ্গে তো আশরাফ হাকিমির সঙ্গে লম্বা সময়ে খেলেছেন ফ্রান্সের অনেকে। তার মানে ৯ জুলাই দুর্দান্ত এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল পৃথিবী।
মরক্কো ম্যাচ নিয়ে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘বিশ্রাম নিয়ে মরক্কো ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে। আশরাফ হাকিমি? আমার মনে হয়, ও ইতিমধ্যেই আমাকে বার্তা পাঠিয়েছে। তবে এখন পুরো মনোযোগ থাকবে ম্যাচেই। আমরা জানি মরক্কো খুবই শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা রোমাঞ্চিত। আমাদের যাত্রা আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।’
টানা তৃতীয় ফাইনালের পথে এগোতে ফ্রান্সের কি আদৌ ‘নোংরা ফুটবল’ খেলার দরকার আছে? ৮-১০ বছর ধরে ফুটবলে ফ্রান্স যে ধারাবাহিক সৌরভ ছড়াচ্ছে, তাতে অগ্রনায়ক এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সী ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ বছরে যা পেয়ে গেছেন, অনেক বড় তারকা, কিংবদন্তি ফুটবলাররা সারা জীবন তপস্যা করেও পান না। অল্প বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছেন। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন। এ বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোল দেওয়ার পর লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে। অ্যাসিস্টের (২) দিক থেকে তিনি মেসির চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বকাপে মেসির সর্বমোট ২০ গোলের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে আছেন। তবে একটি রেকর্ডের শীর্ষস্থান একেবারে নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৫ বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড়ের মধ্যে শীর্ষে ফরাসি ফরোয়ার্ড। ১০ ম্যাচে এমবাপ্পের ১১ গোল।
বয়স এখনো ৩০ স্পর্শ করেনি। মাঠের স্প্রিন্টের মতোই যেভাবে একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন, তাঁর প্রসঙ্গে একটাই প্রশ্ন হতে পারে—কোথায় গিয়ে থামবেন এমবাপ্পে?

পাল্টা আক্রমণেই বেশি ভয়ঙ্কর ছিল ব্রাজিল। ৩১ মিনিটে মার্তিনেল্লির নিচু ক্রস পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন নিল্যান্ড। ৪১ মিনিটে আবারও আলো ছড়ান নরওয়ের গোলরক্ষক। বক্সের মধ্যে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ভিনিসিয়ুসের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন তিনি। কয়েক মিনিট পর হালান্ড–ওডেগার্ডের আরেকটি আক্রমণ থ
২৪ মিনিট আগে
ম্যাচের শুরুতে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলোর ফাইনালের আগেই ফাইনালের আবহ তৈরি হয়ে যায়। ডালাসে সোমবার (আজ) রাত ১টায় স্পেন ও পর্তুগালের শেষ আটে ওঠার লড়াইও তেমনই। একদিকে চার ম্যাচে একটিও গোল না খাওয়া স্পেন, অন্যদিকে নাটকীয়ভাবে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর পর্তুগাল।
১ ঘণ্টা আগে
মায়ামির বে-ফ্রন্ট পার্ক সৈকতের ফ্যান জোন থেকে বেরিয়ে উবারে উঠতেই চালকের সিটের পেছনের স্ক্রিনে একটা জরিপ চোখে পড়ল। প্রশ্ন করা হয়েছে, আপনি কোনটাতে ভোট দেবেন—ফুটবল নাকি সকার? চোখ বুজে ‘ফুটবলে’ টিক দেওয়া হলো।
২ ঘণ্টা আগে