
কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে যখন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টার সিটি এবং হাল সিটি ম্যাচের শেষ বাঁশি বেজেছে তখন স্কোরলাইন ২-২, সেসময় নিশ্চয়ই মন খারাপ হামজা চৌধুরীর। আর হামজার সঙ্গে মন খারাপ কোটি কোটি বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীর।
যেদিন হামজা গায়ে জড়িয়েছেন লাল-সবুজ জার্সি, সেদিন থেকেই হামজা আর বাংলাদেশ যেন একে অন্যের পরিপূরক। তাই তো তৃতীয় স্তরের লিগে লেস্টারের অবনমনে তাঁর সঙ্গে মন খারাপ বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের।
১৪২ বছরের পুরোনো লেস্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারে নিচ থেকে। ২০০৯ সালে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা তাদের সামর্থ্যের জানান দেয়। এরপর ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে পা রাখে প্রিমিয়ার লিগে। চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে যখন প্রিমিয়ার লিগে ওঠে, তখন লেস্টারের ওপর খুব কম লোকই বাজি ধরেছিলেন। অথচ ফক্স নামে পরিচিত এই দলটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর মহাকাব্য লিখেছিল। অসম্ভবকে সম্ভব করে যখন ২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন খোদ লেস্টার সমর্থকরাই হয়তো বিশ্বাস করতে পারেনি। ঠিক তার পরের বছরই দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।
প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও লেস্টার নিজেদের মান ধরে রাখতে পেরেছিল। ২০২০ ও ২০২১ সালে টানা দুইবার প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম হয়ে প্রমাণ করেছিল যে কেবল এক মৌসুমের বিস্ময় হয়ে তারা আসেনি। ২০২১ সালে এফএ কাপ জয় এবং ২০২২ সালে কমিউনিটি শিল্ড বিজয় ক্লাবটিকে ইংলিশ ফুটবলের 'বিগ সিক্স'-এর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
২০২৩ সাল থেকে ক্লাবের ভাগ্যে নাটকীয় মোড় আসে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শীর্ষ স্তরের লড়াই থেকে তারা প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয়। যদিও ২০২৪ সালে আবারও চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল ঠিকই। কিন্তু সেই ফেরাটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে লেস্টার সিটি এখন ইংল্যান্ডের ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে আছড়ে পড়েছে। গতকাল হাল সিটির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর লেস্টারের অবনমন নিশ্চিত হয়। আগামী মৌসুমে তাদের লড়তে হবে ব্রোমলির মতো ক্লাবের সঙ্গে, যারা তাদের ১৩৪ বছরের মধ্যে ১৩২ বছরই কাটিয়েছে অপেশাদার ফুটবলে। লেস্টারের এই পতনকে বিবিসি স্রেফ ধস নয়, বরং নিয়ন্ত্রণহীন এক মুক্তপতন' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

লেস্টার সিটির এই পতনের শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। ২০২২ সালে প্রিমিয়ার লিগে অষ্টম হওয়া এবং উয়েফা কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনাল খেলার সময়ই তৎকালীন কোচ ব্রেন্ডন রজার্স ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এখন প্রত্যাশা বদলাতে হবে।’ কিন্তু করোনার কারণে ক্লাবের মালিকপক্ষ ‘কিং পাওয়ার’ বেশ বড় ধাক্কা খায়। ফলে ক্লাবের আর্থিক ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
লেস্টার তখন নতুন করে বিনিয়োগের চেয়ে টিকে থাকার পথ বেছে নেয়। তাতে করে জেমি ভার্ডি, জেমস ম্যাডিসন বা ইউরি তিলেমানসের মতো তারকা খেলোয়াড় দলে থাকা সত্ত্বেও স্কোয়াডে নতুন কোনো খেলোয়াড় ভেড়ানোর চেষ্টা করেনি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যখন রজার্সকে বরখাস্ত করা হয়, দল তখন অবনমনের দ্বারপ্রান্তে। ডিন স্মিথ হাল ধরলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

সমস্যা আরও গভীর হয় কোচ পরিবর্তনের মিছিলে। গত তিন বছরে লেস্টার সাতবার কোচ বদলেছে। ডিন স্মিথ থেকে শুরু করে এনজো মারেস্কা, স্টিভ কুপার, রুড ফন নিস্টলরয় এদের প্রত্যেকের খেলার ধরন আর দর্শন ছিল আলাদা। এই পরিচয়হীনতাই ক্লাবটিকে আরও অস্থির করে তোলে। মারেস্কা অন্তত ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতিয়ে দলকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আনন্দও টেকেনি।
কেননা ততদিনে মাঠের সমস্যার পাশাপাশি ক্লাবের শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে আর্থিক নিয়ম ভাঙার কারণে তাদের ৬ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। আমরা ঠিক সামলে নেব—ক্লাবের ভেতর এ ধরনের গা-ছাড়া মনোভাব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত ঔদ্ধত্যে পরিণত হয়। সমর্থকদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দূরত্বও চরমে পৌঁছায়। গত রাতে হাল সিটির বিপক্ষে ম্যাচে হ্যারি উইংস যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, খোদ ঘরের মাঠের দর্শকরাই তাঁকে দুয়ো দিচ্ছিলেন।
তবে চূড়া থেকে লেস্টারের এমন পতনের পেছনে মালিক ভিচাই শ্রীভাধনপ্রভার অকাল মৃত্যুকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। ২০১০ সালে ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ডে ক্লাবটি কিনেছিলেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৬৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তার হাত ধরেই প্রিমিয়ার লিগে ফিরে সেই ঐতিহাসিক শিরোপা জেতেন জেমি ভার্ডি-রিয়াদ মাহরেজরা। কিন্তু ২০১৮ সালে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় স্টেডিয়ামের বাইরেই প্রাণ হারান ভিচাই শ্রীভাধনপ্রভা। তাঁর ছেলে আইয়াওয়াত শ্রীভাধনপ্রভার বাবার বিশাল সাম্রাজ্য আর এই ফুটবল ক্লাবের দায়িত্ব কাঁধে নিলেও অভিজ্ঞতার অভাবে খেই হারিয়ে ফেলেন। ক্লাবের ভেতরে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণ এবং ডিরেক্টর জন রাডকিনের একগুঁয়েমির দিকে আঙুল তুলছেন সমর্থকরা।
বর্তমানে হামজার লেস্টার সিটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ক্লাবের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পাল্লা অনেক ভারী। ২০২৪-২৫ মৌসুমেই লেস্টারের লোকসান হয়েছে ৭১.১ মিলিয়ন পাউন্ড। এখন ‘লিগ ওয়ান’-এ নামার পর টিভির সম্প্রচার স্বত্বের টাকা আরও কমে যাবে। বেতন কমানো আর দামি খেলোয়াড়দের বিক্রি করা ছাড়া তাদের সামনে কোনো পথ নেই।
লেস্টারের খেলোয়াড় বিক্রির তালিকায় হামজার নাম আছে কি না, তা আপাতত জানা নেই। কিন্তু লেস্টারের জার্সিতে ৭২ ম্যাচ খেলা হামজার ক্যারিয়ারের জন্য এই অবনমন বিশাল এক ধাক্কাই বটে। তবে লেস্টারের হয়ে সময়টা খারাপ কাটলেও বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রত্যাশা, লাল-সবুজ জার্সিতে হামজা ঠিকই স্বরূপে ফিরবেন।

তামিম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। আগে যা হতো—একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার মতো যথেষ্ট সময় থাকে। আমরা এ
৮ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে এখন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ব্যাটিং, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে ফিল সিমন্সের বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাইয়ের এমন সম্ভাবনা যখন বাংলাদেশের সামনে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌশল নিয়ে কৌতূহল জেগেছে অনেকের। তবে সিমন্স তা খোলাসা করেননি।
৯ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পরও প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের। বরং তাঁর দাবি, বাংলাদেশ যে ভালো দল, সেটি আগেই তাঁদের জানা ছিল। প্রথম দিনের পরই ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে সেটিও বুঝে গিয়েছিলেন তাঁরা।
৯ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরা। এবার তাদের সামনে ইতিহাস সমৃদ্ধ করার হাতছানি। ম্যাকেতে পরশু শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টটা নিয়েই এখন ভাবনা প্রধান কোচ ফিল সিমন্স
১০ ঘণ্টা আগে