
শেষ বাঁশি বাজার পরও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না আরলিং হালান্ড। জোড়া গোল করে নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন, তবু দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে তাঁর নিজের ব্যাখ্যাও ছিল বিস্ময়ে ভরা। হালান্ডের ভাষায়, ব্রাজিলের জালে সেই গোলটি ছিল ‘ঈশ্বরের উপহার’।
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। দলের দুটি গোলই করেন হালান্ড। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ক্রসে হেডে প্রথম গোল করার পর নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। পরে যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও তাতে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয় আটকানো যায়নি।
ম্যাচ শেষে নরওয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘১–০ করা গোলটি ছিল দারুণ একটি হেড, আমি বলব। আর ক্রসটাও ছিল সুন্দর।দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে তো এখন প্রায় মনে হচ্ছে, বলটা জালে যাওয়া ছিল ঈশ্বরের উপহার। যেন এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। এটা অবিশ্বাস্য।”
জয়ের আনন্দে আবেগাপ্লুত খানিকটা আফসোস নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘আমি যদি এখন নরওয়ের রাস্তায় থাকতে পারতাম! এই উদ্যাপনের অংশ হতে পারতাম! সবাইকে আনন্দ করতে হবে। পুরো নরওয়েকেই উদ্যাপন করতে হবে। নরওয়ের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে অসাধারণ দিনগুলোর একটি। সবাই শুধু উপভোগ করুন, কারণ এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
আইভরি কোস্টকে হারানোর পর বলেছিলেন, এই বিশ্বকাপ নরওয়েকে এক করবে। ব্রাজিলকে হারানোর পর সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে তাঁর, ‘আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয়ের পর আমি বলেছিলাম, এই বিশ্বকাপ নরওয়েকে এক করবে। এখন আশা করি, সেটি আমি তখন যা বোঝাতে চেয়েছিলাম, তার চেয়েও বড় পরিবর্তন এনে দেবে।’
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে টুর্নামেন্টে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে এসেছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এক আসরে তিনজন ভিন্ন খেলোয়াড় ৭ বা তার বেশি গোল করলেন। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচে ৭ গোল করেছেন হালান্ড। ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলার প্রথম চার ম্যাচে ৮ গোল করার পর এই প্রথম কোনো ফুটবলার নিজের প্রথম চার বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত ৭ গোল করলেন।
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক শুধু হালান্ড নন, গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ডও। ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভে তিনি জয়ের ভিত গড়ে দেন। তবে ইতিহাস গড়ার রাতের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিলেন হালান্ডই, যাঁর কাছে ব্রাজিলের জালে দ্বিতীয় গোলটি ছিল যেন ‘ঈশ্বরের উপহার’।

গিমারেসকে পেনাল্টি নিতে দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। ক্লাব ফুটবলে গত মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে দুটি পেনাল্টিই সফলভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। তবে তিনি দলের নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়ার খেলোয়াড় ছিলেন না। এমনকি নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারে সবমিলিয়ে তিনটি পেনাল্টি নিয়েছেন তিনি। ২০২৫–২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের
১ ঘণ্টা আগে
আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাই শেষ বাঁশির পর নেইমারের কান্না শুধু একটি ম্যাচে হারের হতাশা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়ের আজীবনের স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার বেদনাও হয়ে উঠেছে।
২ ঘণ্টা আগে
দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘অধিনায়ক হিসেবে, আর বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে।’
৩ ঘণ্টা আগে
অন্যদিকে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার রাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হালান্ড। তাঁর জোড়া গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। আর ব্রাজিলের জন্য এই রাত হয়ে থাকল স্বপ্নভঙ্গের, যেখানে শেষ বাঁশির পর নেইমারের অশ্রুই হয়ে উঠল পরাজয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক।
৩ ঘণ্টা আগে