
মেটলাইফের মিডিয়া সেন্টারে ঢুকতেই চোখে পড়ল এক সুদর্শন ‘ফুটবল-পণ্ডিত’ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে (বেশির ভাগই ব্রাজিলীয়) টানা সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন। আরে এ তো দেখি পাতো, আলেক্সান্দরে পাতো। সেই পাতো, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল, ‘সবচেয়ে বড় অপূর্ণ সম্ভাবনাগুলোর একজন’।
মেসি-রোনালদো যেখানে নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন, সেখানে নায়কোচিত চেহারার পাতো ৩৬ বছর বয়সেই ‘সাবেক’ ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে বড় এক আফসোসের নাম। বারবার চোটে না পড়লে হয়তো তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হতে পারতেন। ছোট্ট খেলোয়াড়িজীবনে সবচেয়ে সোনালি সময় তাঁর কেটেছে এসি মিলানে। ২০০৭ সালে মিলানের দিনগুলোয় তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল। ২০০৯ সালে তিনি ইউরোপের সেরা তরুণ ফুটবলারের জন্য দেওয়া ‘গোল্ডেন বয়’ পুরস্কার জেতেন। ২০১০-১১ মৌসুমে মিলানকে সিরি আ শিরোপা জিততেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পর্তুগিজ ভাষায় ‘পাতো’ অর্থ হাঁস। জন্মেছেন ব্রাজিলের পাতো ব্রানকো শহরে। সেখান থেকেই তাঁর ডাকনাম পাতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এসি মিলানে থাকতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি পাতোকে এতটাই স্নেহ করতেন যে নিজের কুকুরের নামও তিনি ‘পাতো’ রেখেছিলেন। সেই আনচেলত্তি এখন ব্রাজিলের কোচ। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে সফল কোচ ব্রাজিলকে দেখাচ্ছেন ‘হেক্সা শিরোপা’র স্বপ্ন। প্রিয় কোচের সংবাদ সম্মেলন পাতো প্রায় ২০ মিনিট ঠাঁই দাঁড়িয়েই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলেন। পাতোর পাশে দাঁড়ানো ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য দেনিলসন। খেলা ছাড়ার পর তিনিও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন একজন ব্রাজিল ফুটবলের পণ্ডিত হিসেবে।
মিডিয়া সেন্টারেই ধরা গেল পাতোকে। শুরুতে বাংলাদেশের দর্শকদের ধন্যবাদ আর ভালোবাসা জানালেন। বললেন, ‘আমি এখন নিউইয়র্কে, বলতে চাই, হ্যালো (হাত নাড়িয়ে), আপনাদের জন্য শুভকামনা। বাংলাদেশ, অনেক ধন্যবাদ।’
কথা শেষের আগে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেন পাতো , যা থাকল এখানে
এবার ব্রাজিলের কেমন সম্ভাবনা দেখেন
পাতো: হ্যাঁ, আমার মনে হয় ব্রাজিলের দলটি এবার অনেক ভালো। তাদের সঙ্গে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আশা করছি, দল ফাইনালে পৌঁছাতে পারবে।
নেইমারকে নিয়ে আশা
পাতো: আমার কাছে সে-ই সেরা খেলোয়াড়, যদি সে শতভাগ ফিট থাকে। আমরা এখনো অনেক কিছুর অপেক্ষায় আছি। আমরা তার (নেইমার) ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে চাই না, তবে সে যখন শতভাগ প্রস্তুত হবে, তখন অবশ্যই খেলবে।
মেসি-নেইমার-রোনালদো-এমবাপ্পে-ইয়ামাল, কে হবেন সেরা
পাতো: জিজ্ঞেস করেছেন কে সবচেয়ে সেরা হতে পারেন (২০২৬ বিশ্বকাপে)? যদি একজনকে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমার পছন্দ নেইমার।
পাতোদের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে আনচেলত্তির ভাষ্য
পাতোর কাছেই শুনলেন আনচেলত্তি কতটা স্বপ্নিল করে তুলেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলকে। কিন্তু ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে সফল ইতালিয়ান কোচ কি পারবেন পাতোদের স্বপ্ন পূরণ করতে? সংবাদ সম্মেলনে পাতো নিজ কানেই শুনলেন প্রিয় কোচের কথা, যিনি বলেছেন, ‘জয় (বিশ্বকাপ) নিয়ে এখনই কিছু বলা কঠিন। তবে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং জয়ের জন্যও লড়তে পারি। জিততে হলে খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগ দিতে হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই মুহূর্তে আমাদের দলের মানসিকতা ইতিবাচক। আমরা এই বিশ্বকাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী—শুধু প্রথম ম্যাচ নিয়ে নয়। কারণ, এটি তো প্রতিযোগিতার কেবল শুরু। আমরা ইতিমধ্যেই খেলতে প্রস্তুত হয়েছি।’

ফুটবল বিশ্বকাপ স্কটল্যান্ডের কাছে অপরিচিত নয়। আবার ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ তারা যে খুব নিয়মিত খেলছে, ব্যাপারটা তাও নয়। এই নিয়ে নবমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে স্কটিশরা। কিন্তু জয় শব্দটা তাদের কাছে হয়ে উঠেছিল অমাবশ্যার চাঁদ। অবশেষে বোস্টনে আজ তাদের ফুরোল দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা।
২৮ মিনিট আগে
ইতালি ফুটবলের সেই স্বর্ণযুগ এখন আর নেই। ব্রাজিলের পাঁচবারের শিরোপা জয়ের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতালি। কিন্তু সবশেষ টানা তিন বিশ্বকাপের মূলপর্বেই উঠতে পারেনি ইতালিয়ানরা। ফলে শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকে চমকে যেতে পারেন এই ভেবে, ইতালি কী করে ব্রাজিলের অনুপ্রেরণা হতে পারে! কিন্তু ৪৪ বছর
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন অগোছালো শুরু কি কেবলই প্রথম ম্যাচের জড়তা, নাকি বড় কোনো সংকটের ইঙ্গিত? আনচেলত্তির দলের সামনে এখন একটাই চ্যালেঞ্জ, পরের ম্যাচে নিজেদের সেরা ফর্মে ফিরে আসা।
৩ ঘণ্টা আগে
নির্দিষ্ট কোনো ত্রুটি বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলোত্তি ছিলেন বেশ সংক্ষিপ্ত। তিনি শুধু বললেন, ‘আমাদের উন্নতি করতে হবে।’ বিশ্বকাপে এমন বাজে শুরু সেলেসাওদের জন্য একটি বড় বার্তা। আগামী ম্যাচে ব্রাজিল তাদের রক্ষণ ও মাঝমাঠের সমন্বয় কতটা গুছিয়ে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বি
৩ ঘণ্টা আগে