টানা তিন ম্যাচ জিতে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বৃহস্পতিবার কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের কিশোররা। তবে বাংলাদেশের এই লড়াই মূল বিশ্বকাপের শিরোপার জন্য নয়, টুর্নামেন্টের পঞ্চম স্তর বা টায়ার ই-এর শিরোপার জন্য।
ফিফার নতুন এই আয়োজনের নাম বিশ্বকাপ হলেও প্রচলিত বিশ্বকাপের সঙ্গে এর বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এখানে শুধু একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন করে টুর্নামেন্ট শেষ করা হচ্ছে না। বরং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কিশোর ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়াতে দলগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
কেন আলাদা এই বিশ্বকাপ
ফিফার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ১৮৯টি দেশের অনূর্ধ্ব-১৫ দল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিল এই প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। বয়সভিত্তিক ফুটবলে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের তরুণদের সমমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে দেওয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
খেলার নিয়মেও রয়েছে পরিবর্তন। প্রচলিত ১১ জনের বদলে প্রতি দলে খেলছে আটজন করে ফুটবলার। ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৪০ মিনিট—২০ মিনিট করে দুই অর্ধ। ২০১১ বা ২০১২ সালে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলগুলো খেলছে ৬৮ মিটার লম্বা ও ৪৭ মিটার চওড়া মাঠে। গোলপোস্ট অবশ্য পূর্ণাঙ্গ মাপেরই রাখা হয়েছে।
থ্রো-ইনের বদলে রয়েছে কিক-ইন। খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রেও আছে রোলিং সাবস্টিটিউশনের নিয়ম, বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া খেলোয়াড় আবার খেলায় ফিরতে পারেন। অফসাইডের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। গোললাইন থেকে ১৪ মিটার দূরে বিশেষ রেখার ওপারে অফসাইড কার্যকর হবে। ছোট মাঠ, কম খেলোয়াড় ও কম সময়ের ম্যাচের লক্ষ্য হলো কিশোরদের বলের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো এবং খেলার অভিজ্ঞতা বাড়ানো।
ছয় স্তরে ছয় চ্যাম্পিয়ন
১৮৯টি দলকে মোট ৩২টি গ্রুপে ভাগ করে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি দল ৪ থেকে ৫টি করে ম্যাচ খেলেছে। গ্রুপ পর্বের অবস্থানের ভিত্তিতে দলগুলোকে ৬টি পারফরম্যান্স টায়ারে ভাগ করা হয়েছে। ৩২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা লড়ছে মূল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য (১ম থেকে ৩২তম স্থান)। গ্রুপ রানার্সআপ দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে টায়ার বিতে (৩৩তম থেকে ৬৪তম স্থান)। গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলো খেলছে টায়ার সিতে (৬৫তম থেকে ৯৬তম স্থান)। চতুর্থ হওয়া দলগুলোর স্তর টায়ার ডি (৯৭তম থেকে ১২৮তম স্থান)। বাংলাদেশসহ গ্রুপে পঞ্চম হওয়া দলগুলো লড়ছে টায়ার ইতে (১২৯তম থেকে ১৬০তম স্থান)। গ্রুপে ষষ্ঠ হওয়া দলগুলো খেলছে টায়ার এফে (১৬১তম থেকে ১৮৯তম স্থান)। নকআউট ম্যাচে কোনো দল হেরে গেলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় না; তারা একই স্তরের অন্য পরাজিত দলের মুখোমুখি হয়। ফলে প্রতিটি দল টুর্নামেন্টের শেষ দিন পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশের পথচলা
গ্রুপ জিতে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করে পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারে দল। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারায় কিশোরেরা। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে পঞ্চম হওয়ায় বাংলাদেশের জায়গা হয় টায়ার ইতে।
এই স্তরে নকআউট পর্বে এসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আকবর হোসেন রিদনের দল। শেষ বত্রিশে সিশেলসের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। শেষ ষোলোতেও একই চিত্র। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে দল।
এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়। তিন ম্যাচেই জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন টায়ার ই-এর ফাইনালে ওঠার সুযোগ।
টুর্নামেন্টটি শেষ হবে ৩০ অক্টোবর। অধিকাংশ ম্যাচ হচ্ছে বাকুর হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্সে। ছয়টি স্তরের ফাইনাল হবে বাকু ক্রিস্টাল হলে। আগামী বছর মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার। ২০২৮ সাল থেকে ছেলে ও মেয়েদের প্রতিযোগিতা প্রতিবছর আয়োজন করা হবে।










