Ajker Patrika

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হারতে বেঁচে গেল ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ২৮
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হারতে বেঁচে গেল ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নতুন শুরু করতে গিয়েই হোঁচট খেল ব্রাজিল। কুইনসল্যান্ডের কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগে বারবার আক্রমণ করে একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল পেয়েছে সেলেসাওরা। রায়ানের করা গোলে কোনোরকমে হার এড়িয়েছে ব্রাজিল।

নিউজার্সিতে গত ৫ জুলাই শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচটাই নেইমারের ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। ব্রাজিলও সবশেষ খেলেছিল এই ম্যাচটাই। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ফিফা উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দলে অনেক পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। নতুন শুরুর ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে বাঁচালেন রায়ান। ১-১ গোলে ড্র হলো ব্রাজিল-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ।

৭ মিনিটে কুইনসল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে এগিয়ে যেতে পারত অস্ট্রেলিয়া। নেস্তরি ইরানকুন্দা শট নেন ব্রাজিলের লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু সেলেসাওদের গোলরক্ষক হুগো সুজা তা প্রতিহত করেন। ব্রাজিল এরপর অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের পরীক্ষা নিয়েছে। সকারু গোলরক্ষকও ঠাণ্ডা মাথায় সেলেসাওদের আক্রমণগুলো প্রতিহত করেন। ২১ মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের শট ঠেকিয়ে দেন বীচ।

গিমারেস ব্যর্থ হওয়ার ২ মিনিট পর গোলের সুযোগ তৈরি করেন রাফিনিয়া। তবে ২৩ মিনিটে হেড দিলেও বীচ সেটা প্রতিহত করেন। ৩৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন সকারু গোলরক্ষক। গিমারেস-ভিনিদের মতো এস্তেভাও গোলের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়াও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ৪৫ মিনিটের পর যোগ করা ১ মিনিটে এনদ্রিকের অ্যাসিস্টে গোল করেন এস্তেভাও। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সেটা যাচাই-বাছাই করার পর এস্তেভাওয়ের গোল বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের পর এস্তেভাও একের পর এক গোলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ৬০ মিনিটে ভিনির আরেক শট ঠেকিয়ে দেন বীচ। রাফিনিয়াও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে গোলমুখ খোলে অস্ট্রেলিয়া। ৬৮ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করেন নেস্তরি ইরানকুন্ডা।

গোল হজমের পর বেশ কিছু পরিবর্তন আনে ব্রাজিল। তিনটা পরিবর্তনই আনা হয়েছে ৭৬ মিনিটে। একের পর এক সুযোগ মিস করা এস্তেভাওকে সরিয়ে নামানো হয় রায়ানকে। ভিতর রেইসের পরিবর্তে নামেন জাইর পাউলা। আর মাউরো জুনিয়রকে নামানো হয় দগলাস সান্তোসের বদলি হিসেবে। অস্ট্রেলিয়াও শেষের দিকে একের পর এক পরিবর্তন আনে।

কুইনসল্যান্ডের কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার জয় কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। ৯০ মিনিটের পর ৫ মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস থেকে হেডে সমতাসূচক গোল করেন রায়ান। এই গোলে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-অস্ট্রেলিয়া। ছয়বারই জিতেছে ব্রাজিল। আজকের ম্যাচসহ দুটি ড্র করেছে। সকারুরা জিতেছে এক ম্যাচ। ২০০১ সালে ফিফা কনফেডারেশন কাপে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

এবারের ফিফা উইন্ডোতে তিন ম্যাচের দুটিই ব্রাজিল খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ২৯ সেপ্টেম্বর ফের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচটি হবে সানকর্প স্টেডিয়ামে। সল্টলেকে ৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-ভারত। ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত