Ajker Patrika

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কারণে আইসিসির ক্ষতি ৭৩০০ কোটি টাকা

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮: ২৩
ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কারণে আইসিসির ক্ষতি ৭৩০০ কোটি টাকা
শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামবে ভারত। তবে সেই টুর্নামেন্টের আগে আইসিসি বেকায়দায় পড়েছে। ছবি: ফাইল ছবি

নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই মাসও বাকি নেই। ভারত-শ্রীলঙ্কায় বৈশ্বিক এই ইভেন্ট আয়োজন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) নানারকম পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে বেকায়দায় পড়ল ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা। ভারতীয় এক প্রতিষ্ঠানের কারণে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে আইসিসিকে।

ভারতের রিলায়ান্সের জিওস্টার নামে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীর চুক্তি ছিল চার বছরের। কিন্তু দ্য ইকোনমিক টাইমসের গত রাতের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, জিওস্টার আনুষ্ঠানিক এক চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে দুই বছর বাকি থাকতেই আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি বাতিল করেছে জিওস্টার। তার ফলে আইসিসি ভারতে সম্প্রচার চুক্তির টাকার অংকটা বদলাতে যাচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০২৯ চক্রের জন্য প্রত্যেক বছর সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ২৪০ কোটি ডলার আয় করবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২৯৩৫০ কোটি টাকা। এর আগে আইসিসির ২০২৪ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত যে চুক্তি ছিল, তাতে অর্থের পরিমাণ ছিল বছর প্রতি ৩০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ৩৬৬৮৮ কোটি টাকা। আগের তুলনায় নতুন চুক্তিতে ক্ষতি ৭৩৩৮ কোটি টাকা।

জিওস্টার চুক্তি বাতিল করলেও আইসিসি একেবারে বসে নেই। ‘দ্য ইকোনমিক টাইমসের’ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা সনি পিকচার নেটওয়ার্কস ইন্ডিয়া (এসপিএনআই), নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানই আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তিতে রাজি হয়নি। তাতে করে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা এক রকম খাদের কিনারায় পড়ে গেল। যদি আইসিসি নতুন কোনো সম্প্রচারক না পায়, জিওস্টারের বাধ্য হয়ে ২০২৭ পর্যন্ত চুক্তি সম্পন্ন করে যেতে হবে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, জিও স্টার খরচ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমের জিওস্টারের ক্রীড়া চুক্তিটা করা হয়েছিল ২৫৭৬০ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪৯৪৫ কোটি টাকা। আগের বছরে সেই অঙ্কটা ছিল ১২৩১৯ কোটি রুপি (১৬৭১৩ কোটি টাকা)।

ভারতীয় সরকার এরই মধ্যে রিয়েল মানি গেমিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াতেই মূলত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে জিওস্টার। ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ড্রিম ইলেভেন, মাই ইলেভেন সার্কেল বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ৭০০০ কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ৯৫০০ কোটি টাকা। নতুন বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ৮ মার্চ। পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে লঙ্কায় হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। তা না হলে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে ফাইনাল। ভারত এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত