Ajker Patrika

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ১৪
আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি সিদ্ধান্তে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর গত মে মাসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানে। সেই তদন্ত কমিটি আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে তাদের প্রতিবেদন তুলে ধরে। সেখানে তারা জানিয়েছে, তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল।

যদি একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কথা বলা হয়, কার সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ, সে প্রশ্নে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দ্য অ্যাডভাইজার, মিস্টার প্রফেসর ডক্টর নজরুল আসিফ নজরুল সাহেব। প্রফেসার ডক্টর নজরুল সাহেব তখন ক্রীড়ার (মন্ত্রণালয়ের) দায়িত্বে ছিলেন।’

তদন্ত কমিটির সদস্যরা এও জানান, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্ত হলেও চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি জানান ক্রীড়া সচিব মাহবুব উল আলম। মাহবুব এখনো একই দায়িত্বে আছেন। নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেরাই আবার তদন্ত করেছেন। যদিও আজ তদন্ত কমিটি বেশির ভাগ প্রশ্নেরই ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারেনি। তদন্তে এমন কিছু নেই, যেটি সবার অজানা। তদন্তটা যে দায়সারা গোছের, সেটি তাঁদের উত্তর আর প্রতিবেদন দেখলেই বোঝা যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, ১৫ কার্যদিবসের জায়গায় চার মাস সময় পেলেও তদন্ত কমিটি অধিকতর খতিয়ে দেখতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগই করেনি। কথা বলেনি ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও, যারা কি না জড়িয়ে ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে। তদন্ত কমিটি পৌঁছাতে পারেনি তখনকার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পর্যন্তও।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানা কথাগুলোই যেন পুনরায় জানিয়েছেন। সিদ্ধান্তটা ছিল সরকারের। সরকারের সিদ্ধান্তই মানতে হয়েছে বিসিবিকে। অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম অলি উল্যার স্বীকারোক্তি, ‘সিদ্ধান্ত একজনের মাধ্যমে তো আসবে। সে সিদ্ধান্ত তো একজনের বলা যায় না। সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কেউ নই। যখন যে সরকারের সিদ্ধান্ত থাকে, তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সিদ্ধান্ত সঠিক না বেঠিক, সেটা কীভাবে বলব? আপনারা চিন্তা করতে পারেন। সরাসরি বলব না যে, সরকার সিদ্ধান্ত ভুল করেছে। এটা আমরা ভারত বলতে পারব না।’

সরকারি সিদ্ধান্ত বলেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী বা শাস্তির সুপারিশ করেনি তাদের প্রতিবেদনে। তাদের সুপারিশে যেসব বলা হয়েছে, তা তুলে ধরা হলো এখানে—

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক, টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কে দায়ী—এ নিয়ে মতভেদ থাকলেও, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো উচিত, এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে ঐকমত্য রয়েছে।

১. রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ক্রিকেটকে আলাদা করা

অনেক বিশ্লেষক ও মন্তব্যকারী মনে করেন, সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় অংশগ্রহণকে কূটনৈতিক উত্তেজনা থেকে দূরে রাখা উচিত। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে ভূরাজনৈতিক বিরোধ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি আনুষ্ঠানিক নীতি প্রণয়ন করা উচিত।

২. বিসিবির স্বাধীনতা জোরদার করা

এই বিতর্কে সিদ্ধান্তটি সরকার, বিসিবি নাকি খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এসেছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ভবিষ্যতে পরিচালনাগত সংস্কারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং যোগাযোগের দায়িত্ব কার, স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা উচিত।

৩. সংকটকালীন যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা

কর্মকর্তাদের ও খেলোয়াড়দের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে একজন নির্ধারিত মুখপাত্র এবং একটি স্বচ্ছ যোগাযোগ কৌশল গ্রহণ করলে জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

৪. খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া

যদি প্রকৃত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকে, তাহলে স্বাধীনভাবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা উচিত এবং সিদ্ধান্তগুলো যাতে বাস্তব তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে সেই মূল্যায়নের ফল খেলোয়াড়, আইসিসি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত