Ajker Patrika

বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাবে কারা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাবে কারা
এবারের বিশ্বকাপে ফেভারটি ভারত। ছবি: ক্রিকইনফো

ক্রিকেট কি এখন স্রেফ ব্যাট-বলের লড়াই, নাকি ব্যাটারদের জন্য একের পর রণক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে? আজ থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এই প্রশ্নটিকেই বড় করে তুলছে। গতানুগতিক ক্রিকেটীয় হিসাব ছাপিয়ে এবারের আসরটি দাঁড়িয়ে আছে তিনটি মেরুর ওপর—রেকর্ডবুকের তছনছ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং চ্যাম্পিয়ন ভারতকে তাদেরই মাটিতে চ্যালেঞ্জ জানানো।

২০০৭ সালের সেই প্রথম বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রান গত ১৯ বছর ধরে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই রেকর্ডকে এখন ঠুনকো মনে হচ্ছে। ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘ভারতে এমন অনেক মাঠ আছে যেখানে ৩০০-এর বেশি স্কোর হতে পারে। উইকেটগুলো এই মুহূর্তে বেশ ভালো মনে হচ্ছে: দ্রুত আউটফিল্ড এবং ছোট বাউন্ডারি।’ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের ৩০৪ রান কিংবা হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের ২৯৭—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্বকাপে ৩০০ রানের জাদুকরী সংখ্যাটি স্পর্শ করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

ঘরের মাঠে ভারত এখন অপ্রতিরোধ্য। টানা ১০ সিরিজ জিতে আছে দারুণ ছন্দে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডে নাকানিচুবানি খাইয়েছে তারা। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব একে স্রেফ অধিনায়কত্ব নয়, নিজেকে তাই নেতার কাতারে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে সবসময় মনে করিয়ে দিই যে, যখন আপনি ক্যাপ্টেন বলেন, তখন শব্দটা একটু বেশি গালভরা শোনায়। লিডার বা নেতা বললে বেশি ভালো লাগে।’

নেতা হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার কাজটা সূর্য করতে পারবেন কি না সেটাই দেখার বিষয়। রানখরা সম্প্রতি রানে ফিরেছেন তিনি। আজ বিশ্বকাপ শুরু করবেন মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। উদ্বোধনী দিনে ভারত ছাড়াও আলাদা ম্যাচে মাঠে নামবে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ভারতকে ঘরের মাটিতে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি আরেক পরাশক্তি ইংল্যান্ডও। বর্তমান ক্রিকেটে ৩০০ রানের সবচেয়ে বড় দাবিদার ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট ও জস বাটলারের ওপেনিং জুটি যে কোনো বোলিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। হ্যারি ব্রুক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের মন্ত্র একটাই—নির্ভীক হতে হবে এবং আউট হওয়ার চিন্তা না করে প্রতিটি বলকে কাজে লাগাতে হবে।

আইসিসি টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়াকে নজরের বাইরে রাখার দু:সাহস কেউ করতে চাইবে না। প্যাট কামিন্স-জশ হ্যাজেলউড বোলিং আক্রমণে না থাকলেও ভারতের মাটিতে ব্যাট হাতে ট্রাভিস হেড কতটা দানবীয় হতে পারেন তা নিশ্চয় নতুন করে বলার দরকার নেই।

গত আসরে ফাইনাল খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা আরও একবার ধাক্কা কাটিয়ে শিরোপার পথে হাঁটতে প্রস্তুত। তাই ব্যাটিংই তাদের বড় অস্ত্র। অধিনায়ক এইডেন মার্করাম বলছেনন সেই কথাই, ‘বোলারদের জন্য আসলে মায়া হয়। এটি মোটেই সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে যখন উইকেট খুব ভালো থাকে, বাউন্ডারি ছোট হয় এবং ব্যাটাররা নিজেদের সেরাটা উপভোগ করে। খেলাটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আমরা ওভার জেতার কথা ভাবি না, বরং বলের ছোট ছোট স্পেলের কথা ভাবি।’

ভারতের বেঙ্গালুরু, মুম্বাই কিংবা দিল্লি— আইপিএলের নিকট অতীত বলছে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেমন রানখরা ছিল, তা আর এবার হবে না। তাই বোলারদের জন্য অগ্নিপরীক্ষাই অপেক্ষা। সেই পরীক্ষায় লেটার মার্ক নয়, পাস করাটাই বরং বড় কথা। বাকিটা ব্যাটারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তবে কি এপস্টেইনই ছিলেন বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা ‘সাতোশি’

কুমিল্লা-৪: জসিমের পাশে বিএনপি, চাপে হাসনাত

বিএনপি ইশতেহারে গণভোট ও সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে: এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির প্রধান

দ্বিতীয় দফায় শাহবাগে সংঘর্ষে মহিউদ্দিন রনিসহ আহত ২০

কারাগারে কী করেন এপস্টেইনের সঙ্গী গিলেইন—দেখা গেল নতুন ভিডিওতে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত