Ajker Patrika

বাংলাদেশের স্পিনারদের কীভাবে সামলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, রহস্য জানালেন কোচ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশের স্পিনারদের কীভাবে সামলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, রহস্য জানালেন কোচ
বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছবি: ক্রিকইনফো

স্পিন ফাঁদ পাততে গিয়ে খোদ বাংলাদেশই ধরা খেল মিরপুরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের যেখানে ঘূর্ণিতে তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়রা হাঁসফাঁস করেছেন, ক্যারিবীয়রা খেলেছে হেসেখেলে। বাংলাদেশকেই এখন তারা ফেলে দিয়েছে খাদের কিনারায়। এখন আর যা-ই হোক, টেস্ট সিরিজ তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারছে না।

মিরপুর শেরেবাংলায় বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩২ উইকেটের মধ্যে ২৪ উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। যার মধ্যে ক্যারিবীয় স্পিনাররা নিয়েছেন ১৬ উইকেট। ৯ উইকেট নিয়ে জোমেল ওয়ারিকান হয়েছেন ম্যাচসেরা। অধিনায়ক রস্টন চেজ পেয়েছেন ৫ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন জশুয়া বিশপ। বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়েই ক্যারিবীয় বাঁহাতি স্পিনারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে। শুধু উইকেটের পরিসংখ্যানই নয়, এবার দেখা যাক রানের ব্যাপারে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ৪১৫ রান। যার মধ্যে ৭৩.০১ শতাংশ তথা ৩০৩ রান উইন্ডিজ ব্যাটাররা করেছেন বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে।

মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা ৩.৫ ডিগ্রি টার্ন আদায় করলেও এই বাড়তি টার্নই উইকেট পেতে সহায়তা করেছে তাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিনারদের বল টার্ন করেছে ৩ ডিগ্রি। কীভাবে চার দিনে বাংলাদেশের ঘূর্ণিজাদু সামলে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ—আজ ক্যারিবীয় দলের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লুআই) ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং পারফরম্যান্স দুর্দান্ত বলব। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পিচ অনেক টার্ন করে এবং সেখানে বেশি বল স্পিন করে। ছেলেরা যেভাবে স্পিন খেলেছে, তাতে আমি অত্যন্ত খুশি।’

২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল। ছবি: ক্রিকইনফো
২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল। ছবি: ক্রিকইনফো

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে খেলেছিল ৩-এরও কম রানরেটে (২.৯৬)। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তারা তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে। ৪.৮৩ রানরেটে ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান করেছে। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজদের বাজে বলগুলো সুন্দরভাবে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। কখনো সুইপ শটে, কখনো ব্যাকফুটে, কখনোবা উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে চার-ছক্কা মেরেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে ১৫ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্র্যান্ডন কিংয়ের ৮১ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। ওপেনিংয়ে তাঁর আরেক সঙ্গী জন ক্যাম্পবেল ৫৪, ৪৯ রানের দুটি ইনিংস খেলেছেন।

মিরপুরে এখন পর্যন্ত চতুর্থ ইনিংসে দুইবার ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি রয়েছে। তবু ঘূর্ণি উইকেটে ১৭০ রানও অনেক সময় হয়ে যায় পাহাড় সমান। তবে বাংলাদেশ এই লক্ষ্য দেওয়ার পর মোটেও ঘাবড়ে যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রেইফার বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, নিজেদের ডিফেন্সের ওপর ভরসা ছিল। স্ট্রাইক খুব ভালোভাবে রোটেট করেছে। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা বাউন্ডারি অপশন বেছে নিয়ে ১৭১ রান তাড়া করেছি।’

মিরপুরের ঘূর্ণি উইকেটে বেশির ভাগ সময় যখন দলগুলো রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেছে রক্ষণাত্মক-আক্রমণাত্মকের মিশেলে।৪১৫ রানের মধ্যে ২২০ রানই করেছে বাউন্ডারিতে। ৪৬ চার ও ৬ ছক্কা রয়েছে তাদের ইনিংস। দুই ইনিংসে তিনটি করে ছক্কা মেরেছে ক্যারিবীয়রা। যার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসেই চার মেরেছে ২০টি। ভালো বলগুলোকে যেমন সমীহ করেছেন, তেমনি বাজে বলগুলোকে উইন্ডিজ ব্যাটাররা খেলেছেন সাবলীলভাবে।

বাংলাদেশ সফরে আসার আগে উইন্ডিজ চেন্নাইতে যে ক্যাম্প করেছিল, সেটা অনেক বেশি সহায়তা করেছে বলে মনে করেন রেইফার। উইন্ডিজ ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘আসলে আমরা এই ম্যাচের জন্য যে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, সেটাই মূল ব্যাপার। গত এক বছর ধরে এবং চেন্নাইতে দুই সপ্তাহ ধরে আমরা যে বিষয়গুলো অনুশীলন করেছি, ছেলেরা মাঠে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়েছে—এটি দেখে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। আমরা ব্যাটিং স্পিন, স্ট্রাইক রোটেট করা এবং বাউন্ডারি অপশন নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আপনারা দেখেছেন ছেলেরা সুইপ, রিভার্স সুইপ খেলেছে, শট খেলেছে, ড্রাইভ করেছে এবং বল ব্লক করেছে। তবে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে যেভাবে আমরা রান তাড়া করেছি, আমাদের আত্মবিশ্বাস, এবং স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে ভালো খেলার যোগ্যতা—এসব দেখে মনে হয়েছে আমাদের ব্যাটিং গ্রুপ স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে সত্যিই অনেক উন্নতি করেছে।’

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরশু শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট। প্রথম ম্যাচের জয় ধরে রেখে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করাই এখন উইন্ডিজের লক্ষ্য। সাত টেস্টে তিন জয়, তিন হার ও এক ড্রয়ে ৪৭.৬২ শতাংশ সফলতার হার পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ২০২৫-২৭ টেস্ট পঞ্চম স্থানে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৭২.২২ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে সবার ওপরে নিউজিল্যান্ড। দুইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সফলতার হার ৭১.৪৩ শতাংশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত