Ajker Patrika

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত ছাড়তে দেরি, কী বলছে আইসিসি

ক্রীড়া ডেস্ক    
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত ছাড়তে দেরি, কী বলছে আইসিসি
ভারতেই আটকা পড়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগেভাগেই নিজেদের যাত্রা থেমে গেলেও দেশে ফিরতে পারেনি বেশ কয়েকটি দল। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সমালোচনায় মুখর ক্রিকেটাঙ্গন। এই ইস্যুতে অনেকেই আইসিসির পেশাদারিত্ব নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। অবশেষে আলোচিত বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে আটকা পড়ে ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো। এর মধ্যে ইংল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে নিজেদের দেশে ফিরে গেলেও বাকি দুই দলের এখনো দেরি হচ্ছে। গতকাল এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, টুর্নামেন্ট শেষ করা খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দেশে ফিরতে আগ্রহী। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংকটের কারণে আকাশপথে নানা বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরোপুরি আইসিসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

আইসিসির মতে, বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন এবং হঠাৎ করে বাণিজ্যিক ও চার্টার ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃনির্ধারণের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ জটিল হয়ে উঠেছে। তাই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দলগুলোর দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বেশি সময় লাগছে। তাই বলে বসে নেই আইসিসি। খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে বিভিন্ন এয়ারলাইনস, চার্টার অপারেটর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আইসিসি।

ওই বিবৃতিতে আইসিসি আরও জানিয়েছে, গতকাল রাত থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরা দেশে ফেরার যাত্রা শুরু করেছে। আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দলের সবাই রওনা দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ৯ জন এরই মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলের পথে রয়েছেন। বাকি ১৬ জন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত থেকে বিমানে যাত্রা করবেন।

আলোচিত ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু অভিযোগ নাকচ করেছে আইসিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা, বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্টদের কল্যাণ বিবেচনায় রেখে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই। আইসিসি আরও স্পষ্ট করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ভ্রমণ ব্যবস্থার সঙ্গে আগে ইংল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশের জন্য নেওয়া ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিন্ন পরিস্থিতি ও ভ্রমণপথের কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইসিসির দাবি, এই পুরো সময়জুড়ে তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যেসব খেলোয়াড় তাদের পরিবার, স্ত্রী ও ছোট শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন, তাদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে পাঠানো হবে না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য সব খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আইসিসি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত