
পাকিস্তানে গেলেই রানা কেমন যেন হয়ে যান— নাহিদ রানার গত রাতের বোলিং দেখে সামাজিক মাধ্যমে এই কথা চাউর হয়ে যায়। গতকাল করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে যেন তিনি বাতাসের সঙ্গে দৌড়েছেন। গতির সঙ্গে বাউন্সারে বেসামাল করেছেন করাচি কিংসের ব্যাটারদের। কিপটে বোলিংয়ে নাম লিখিয়েছেন বিশেষ এক রেকর্ডে।
পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলা রানা গতকাল ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বিদেশি বোলারদের মধ্যে পিএসএলে রান খরচের দিক থেকে এটা দ্বিতীয় সেরা। শুধু এতটুকুতেই তাঁর ইমপ্যাক্ট বোঝার উপায় নেই। গতির পাশাপাশি লেংথের হেরফেরে যেভাবে নাচিয়েছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের, ম্যাচ সরাসরি দেখলে সেটা বুঝতে পারার কথা। তাঁর তিনটা উইকেটের ধরন তিন রকম। সাদ বাইগকে কট এন্ড বোল্ড করেছেন রানা। খুশদিল শাহ কট বিহাইন্ডের শিকার হয়েছেন রানার বলে। আর অ্যাডাম জাম্পাকে বাংলাদেশের গতিতারকা করেছেন বোল্ড।
পাকিস্তানের মাঠ অবশ্য রানার কাছে অপরিচিত নয়। এশিয়া মহাদেশের এই দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দুই টেস্ট ও এক ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। যার মধ্যে ২০২৪ সালে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। উচ্চতা কাজে লাগিয়ে গতির পাশাপাশি বাউন্সারে ভড়কে দেন বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানদের। আর ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৪৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন রানা। কিউই তারকা ব্যাটার কেইন উইলিয়ামসন তাঁর (রানা) বল বুঝতে না পেরে ড্রাইভ করতে গিয়ে কট বিহাইন্ডের শিকার হয়েছেন।
রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ের রাতে পেশোয়ার জালমি ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে। পেশোয়ারের দেওয়া ২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬.১ ওভারে ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় করাচি কিংস। ম্যাচ শেষে করাচি কিংসের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মঈন আলী প্রশংসায় ভাসিয়েছেন রানাকে। ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার বলেন, ‘এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলিং খেলা যেকোনো পিচেই কঠিন। সে (রানা) যে লেংথে বোলিং করেছে, দারুণ ছিল। বর্তমানে আপনি অনেক বেশি গতিময় বোলার খুঁজে পাবেন না। সে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। তাকে সামলানো কঠিন ছিল। আমি বাংলাদেশের হয়েও বোলিং করতে দেখেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় একজন তারকা সে হবে।’
পিএসএলে গতবার রানাকে নিলেও খেলায়নি পেশোয়ার জালমি। পরশু পিএসএল অভিষেকে ৩ ওভারে ৩০ রান খরচ করেও ছিলেন উইকেটশূন্য। ঠিক তার পরের ম্যাচে আগুনে বোলিংয়ে বার্তা দিলেন রানা। পোলা তো নয় যেন আগুনের গোলা—রানাকে দেখে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজের এই গান এখন অনেকের মনে পড়তেই পারে।
পিএসএলে ইতিহাসে বিদেশি বোলারদের মধ্যে কিপটে বোলিংয়ের সেরা রেকর্ডটা এখনো সামিত প্যাটেলের। ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের এই বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ৫ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। সেবার তিনি খেলেছিলেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। প্রতিপক্ষ ছিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ইকোনমির দিক থেকে বিচার করলে রানা-মোহাম্মদ নবি যৌথভাবে দুইয়ে। ২০২৫ পিএসএলে করাচি কিংসের হয়ে ৪ ওভারে ৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন নবি। এক ওভার মেডেনও দিয়েছিলেন আফগান তারকা অলরাউন্ডার। সেই ম্যাচে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স।
| বোলার | দল | ইকোনমি | উইকেট | প্রতিপক্ষ | সাল |
|---|---|---|---|---|---|
| সামিত প্যাটেল | লাহোর কালান্দার্স | ১.২৫ | ৪ | কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স | ২০২০ |
| নাহিদ রানা | পেশোয়ার জালমি | ১.৭৫ | ৩ | করাচি কিংস | ২০২৬ |
| মোহাম্মদ নবি | করাচি কিংস | ১.৭৫ | ২ | কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স | ২০২৫ |
| ইমরান তাহির | মুলতান সুলতানস | ২ | ২ | ইসলামাবাদ ইউনাইটেড | ২০২২ |
| রশিদ খান | লাহোর কালান্দার্স | ২.২৫ | ১ | ইসলামাবাদ ইউনাইটেড | ২০২১ |

দীর্ঘ ৪০ বছর পর ফুটবলের এই মহোৎসবে ফিরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায় ইরাক। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রাটা অবশ্য বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচেই তারা মাঠে নামবে শক্তিশালী নরওয়ের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের বিপক
২ ঘণ্টা আগে
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে স্বাগতিক দর্শকদের ষষ্ঠ শিরোপা উল্লাসে। আর হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
৩ ঘণ্টা আগে
তহুরা খাতুনের পাস থেকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্য ভেদ করে বাংলাদেশকে ১-১ সমতায় ফেরান সেই ঋতুপর্ণা চাকমা। এই গোলের পরম স্বস্তি নিয়েই এখন দ্বিতীয়ার্ধের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ।
৪ ঘণ্টা আগে
মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে রান পাহাড় গড়ে গতকালই জয়ের ভীত তৈরি করেছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। রিজার্ভ ডেতে এসে শেষ হাসি হেসেছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৪৭ রানের জয় তুলে নিয়েছে মোহামেডান।
৫ ঘণ্টা আগে