Ajker Patrika

এবার অন্য রকম অ্যাশেজ কাটাল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ২০
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার উদযাপন। ছবি: এএফপি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার উদযাপন। ছবি: এএফপি

দুই মাস আগে গোল্ড কোস্টের একটি হোটেলে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের স্কোয়াড ঘোষণা করেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক জর্জ বেইলি। নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স না থাকলেও দলের প্রায় সবাই পরিচিত মুখ। কিন্তু এরপর ছিটকে গেলেন জশ হ্যাজেলউডও। বোলিংয়ে অভিজ্ঞ বলতে গেলে মিচেল স্টার্ক আর নাথান লায়ন।

স্কট বোল্যান্ড ছিলেন সঙ্গে। আবার যুক্ত করা হলো ব্রেন্ডন ডগেটকেও। আবার এক টেস্ট পর ফিরলেন মাইকেল নেসার। হ্যাজেলউড ছাড়া গতকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্কোয়াডে থাকা সবাই শিরোপা উদ্‌যাপন করেন। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ আগেই নিশ্চিত করে রাখে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ ম্যাচে হারলেও পঞ্চম ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকেরা। শেষ দিনে ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য পাড়ি দেয় ৫ উইকেট হাতে রেখে। প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান করা ট্রাভিস হেড পান ম্যাচসেরার পুরস্কার। অনুমিতভাবে সিরিজসেরার পুরস্কার ওঠে মিচেল স্টার্কের হাতে। ৩১ উইকেট শিকার তো বটেই, ব্যাটিংয়ে করেছেন ১৫৬ রান।

তবু কি অ্যাশেজ জেতাটা খুব সহজ ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য? ৪-১ ব্যবধান যে পুরো ছবিটা তুলে ধরছে না। কারণ, এই গ্রীষ্মটা ছিল খেলোয়াড় পরিবর্তন, ব্যাটিং অর্ডার অদল-বদল, অপ্রচলিত বোলিং লাইনআপ, ফিল্ডিং কৌশল এবং বড় বড় চোটে ভরা এক সিরিজ। তাই তো মার্নাস লাবুশেন বলেন, ‘এটা সাধারণ কোনো সিরিজ ছিল না। এবারের অ্যাশেজ জয়টা অন্য রকম।’

পার্থে সিরিজ শুরুর আগে ও চলাকালে একের পর এক ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোই ছিল অস্ট্রেলিয়ার মানসিক দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি। তিন পেসারকে চোটের কারণে হারানোর পর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। গতিময় আগ্রাসী বোলিংয়ে স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩২ রানে। দ্বিতীয় দিনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইংল্যান্ড লিড নিয়ে যায় ১০০’র ওপরে। এরপর অভিজ্ঞতাই হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।

স্টার্ক বলেন, ‘যখন পরিকল্পনামতো কিছু হয় না, আমরা খুব দ্রুত সেটা ভুলে গিয়ে শান্তভাবে সমাধান খুঁজি। আপনারা হয়তো ভেবেছিলেন ইংল্যান্ড এগিয়ে, কিন্তু ড্রেসিংরুমে আমরা জানতাম ম্যাচে কেউই এগিয়ে নেই।’

পিঠের চোটের কারণে উসমান খাজা পার্থ ওপেন করতে পারেননি। শুরুতে জ্যাক ওয়েদার‍্যাল্ডের সঙ্গে লাবুশেন ওপেন করলেও উসখুস ভাব ছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়া নেয় এক মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্ত। ওপেনিংয়ে নেমে জায়গাটা আপন করে নেন ট্রাভিস হেড। তিন সেঞ্চুরিসহ সিরিজ শেষ করেন ৬২৯ রান নিয়ে। হেডের আগ্রাসী ব্যাটিং ও নির্ভার মনোভাব পুরো দলেই ছড়িয়ে পড়ে। স্মিথের কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘সে প্রতিপক্ষকে একেবারে চাপে রাখে। নতুন বল নরম করে দেয়, পরের ব্যাটারদের জন্য কাজ সহজ হয়।’

পার্থে স্টার্ক ১০ উইকেট নিলেও বোলিং আক্রমণ ছিল পরীক্ষামূলক। গ্যাবায় কোনো স্পিনার ছাড়াই দল সাজায় অস্ট্রেলিয়া। তাতেও কোনো অসুবিধা হয়নি। চোট থেকে ফেরা নেসারের পাঁচ উইকেটের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল অ্যালেক্স ক্যারির কিপিং। অ্যাডিলেডে কামিন্স-লায়নের জুটি সিরিজ নিশ্চিত করলেও সেটাই ছিল তাঁদের শেষ ম্যাচ।

মেলবোর্নে ঝাই রিচার্ডসনের ফেরায় চার টেস্টে ছয় পেসার খেলায় অস্ট্রেলিয়া। সিডনি টেস্ট শুরু হওয়ার আগে খাজা দিলেন অবসরের ঘোষণা। এই টেস্টে স্পিনার না খেলিয়ে বেশ অবাক করা সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো ভেন্যুর চেয়ে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পান এখানে। অধিনায়ক স্মিথ বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী। পরে কী হতে পারত, তা নিয়ে না ভেবে মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করি।’ সেই পরিস্থিতির শিকার ইংল্যান্ড আরও একবার অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরল মাথা নিচু করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গণভোটে ‘না’ দেওয়ার সুযোগ নেই: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

খামেনির ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানি নারীরা—নেপথ্যে কী?

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পতুষ্টি করছে বললেন খামেনি

ছয়জনের লিফটে বরসহ ১০ জন উঠে আটকা, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার

তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলায় বিসিবি পরিচালককে ধুয়ে দিলেন তাসকিন-তাইজুলরা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত