Ajker Patrika

ভরাডুবির পর অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের ‘খোঁচা’

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৩০
ভরাডুবির পর অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের ‘খোঁচা’
ম্যাকাইতে ভরাডুবির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি: এএফপি

ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়ের পর প্রশংসায় ভাসছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিপরীত অবস্থা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তাদের সংবাদমাধ্যমেই ধুয়ে দেওয়া হচ্ছিল প্যাট কামিন্স-ট্রাভিস হেডদের। কিন্তু ম্যাকাইতে পাত্তাই পেলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজরা। তাতে করে ২৩ বছর আগের ঘটনাও পেছনে পড়ে গেল।

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্ট খেলে বাংলাদেশ দুটিতেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। যার মধ্যে এক টেস্ট শেষ হয়েছিল চার দিনে। অপর টেস্টের ফল এসেছিল তিন দিনে। তবে এবার ম্যাকাইতে মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। শুধু তাই নয়, নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার দুই ইনিংসেই ১০০-এর আগে (৬৪ ও ৯৫) গুটিয়ে যাওয়ার বাজে রেকর্ডে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যাওয়ায় শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় ড্র করল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। ম্যাকাই টেস্ট দুই দিনে শেষ হওয়ায় অজিদের একরকম খোঁচাও দিয়ে রাখলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘২৩ বছর পর আমরা এখানে [অস্ট্রেলিয়ায়] এসেছি। এই কন্ডিশনে এই মানের একটি দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সহজ নয়। আমরা যদি নিয়মিত এখানে আসতে পারি, তাহলে ক্রিকেটাররা এখানকার পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। অস্ট্রেলিয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আরও বেশি হবে। তারা এই ধরনের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবে।’

সবশেষ যখন ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল, তখন অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। সেই দলে ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমনও। তিনি এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক। ভিন্ন ভূমিকায় এসে তাঁর মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে দুই দিনেই ইনিংসে হেরে বসেছে।

২৩ বছর পর এবার যাঁরা অস্ট্রেলিয়া সফরে এলেন, তাঁদের কারোরই এই কন্ডিশনে আগে কখনোই টেস্ট খেলা হয়নি। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলতে এসে হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিমরা মনে রাখার মতো পারফর্ম করেছেন। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ। তানজিদ হাসান তামিম সেই টেস্টে করেন সেঞ্চুরি (১০১ রান)। ফিফটির পাশাপাশি মিরাজ ঘূর্ণিজাদুতে ৫ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে। আর শরীফুল ম্যাকাইতে এক ইনিংসে সুযোগ পেয়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট।

শান্তর মতে এ ধরনের (অস্ট্রেলিয়া) কন্ডিশনে বাংলাদেশ যত বেশি খেলতে পারবে, সতীর্থরা ততই উপকৃত হবেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য এটা কঠিন। সম্ভবত ৯০ শতাংশ খেলোয়াড়ই এখানে খেলেনি। তারা জানে না, কীভাবে এই ধরনের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয় কিংবা এই ধরনের বোলিং আক্রমণের মোকাবিলা করতে হয়। আমার অনুরোধ হলো—আমরা এখানে খেলতে চাই। নিয়মিত একই ধরনের কন্ডিশনে খেলতে চাই। ২৩ বা ২৫ বছর পরপর নয়।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় ড্র করে তিন ধাপ এগিয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে এটাই বাংলাদেশের সেরা র‍্যাঙ্কিং। ৬ নম্বরে উঠে আসার পরও ম্যাকাইতে বাজে খেলার আফসোস ঝরেছে শান্তর কণ্ঠে। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই [ছয় নম্বরে ওঠা] ভালো খবর। আমি এইমাত্র বিষয়টি শুনলাম। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে ওঠা একটি বড় অর্জন। তবে আমরা যদি এই টেস্ট ম্যাচে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম, তাহলে আরও ভালো লাগত।’

ডারউইনে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে দিয়েছিল। সেই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রান করলেও লিড পেয়েছিল কেবল ৫৬ রানের। ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ ৯ উইকেটের আয়েশি জয় পেয়েছিল। কিন্তু ম্যাকাইতে দুই ইনিংস মিলে বাংলাদেশ করেছে ১৫৫ রান।

প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটে জিতে ক্রিকেটাররা কি আত্মতুষ্টিতে ভুগেছেন—ম্যাকাইতে আজ সংবাদ সম্মেলনে শান্তর কাছে এসেছে এমন প্রশ্ন। কারণ প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। আর মুমিনুল হক দ্বিতীয় ইনিংসে মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। ইনিংস ও ৫১ রানে হারের পর শান্ত বলেন, ‘এমনটা মনে করি না। প্রত্যাশা তো অবশ্যই থাকে। মুমিনুল ভাই সম্প্রতি অনেক ধারাবাহিক খেলছে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করছে। কিন্তু হয়নি। এটা হতেই পারে। তামিম সব সময় এমনই খেলে। যেদিন খেলে, অনেক ইমপ্যাক্ট রাখে। আমি তাই একদমই চিন্তিত না।’

ম্যাকাইতে ভরাডুবির পরও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের মতোই চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর শান্তর দলের সফলতার হার এখন ৫৫.৫৬ শতাংশ। ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত