Ajker Patrika

‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে সুবিধা পাচ্ছে—এমন কথা এবারই প্রথম না, আগেও শুনেছি’

ক্রীড়া ডেস্ক    
‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে সুবিধা পাচ্ছে—এমন কথা এবারই প্রথম না, আগেও শুনেছি’
শিরোপা ধরে রাখতে কেবল তিন ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে ফিফার সুবিধা পাচ্ছে—২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এমন কথা শোনা যাচ্ছে হরহামেশাই। সামাজিক মাধ্যমে তো বটেই, এমনকি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের খোঁচা মেরে এ ধরনের কথা বলে থাকেন ব্রাজিলের ভক্ত-সমর্থকেরা। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, গত ৪০ বছর ধরে এ ধরনের কথা তিনি শুনে আসছেন।

কানসাস সিটিতে আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে যখন স্কালোনি সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন, তাঁর কাছে ফের এসেছে আর্জেন্টিনার ‘বাড়তি সুবিধা’র প্রশ্ন। এবারও যথারীতি তিনি এমন কথাবার্তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কথা উল্লেখ করেছেন। ৪০ বছর আগের বিশ্বকাপে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’-এর পক্ষে-বিপক্ষে এখনো চলে আলাপ-আলোচনা। আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘১৯৮৬ সালেও বলা হতো যে আমরা নাকি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি। তাই এটা নতুন কিছু নয়। যতদূর মনে পড়ে, আর্জেন্টিনা সবসময়ই এই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দল ছিল।’

স্কালোনির মতে আর্জেন্টিনার সফলতা নিয়ে যাঁরা ঈর্ষা করেন, তাঁরাই আলবিসেলেস্তেদের নিয়ে অহেতুক মন্তব্য করেন। আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘এক অর্থে এসব কথা খেলোয়াড়দের বোঝায় যে এমন অনেক মানুষ আছে যারা চায় না আর্জেন্টিনা জিতুক। এটা স্বাভাবিক। যেমন অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও এমন মানুষ থাকে যারা তাদের জিততে দেখতে চায় না। হয়তো আমাদের ক্ষেত্রে এমন মানুষের সংখ্যা একটু বেশি আর আমরা সেটাকে মাথায় রাখি।’

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারটাই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আর্জেন্টিনার একমাত্র হার। এরপর টানা ১১ ম্যাচ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। লাগাতার জয়ের পথে তারা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত বিশ্বকাপে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বলজয়ী মেসি তাঁর ফর্মটা টেনে এনেছেন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপেও। এবার তিনি করেছেন ৮ গোল ও এক অ্যাসিস্ট। ভেঙেচূড়ে দিয়েছেন অসংখ্য রেকর্ড।

সমালোচনাই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করে বলে মনে করেন স্কালোনি। সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘খেলোয়াড়রাও বিষয়টি বোঝে। আমরা এটাকে (ফিফার কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার বিষয়) এক ধরনের প্রতিবাদের বা জেদ থেকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করি, যাতে তারা আরও ভালো খেলতে পারে।’

শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের পর শেষ ষোলোতে মিসর—এই দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩-২ গোলে। যার মধ্যে আটলান্টায় ৭ জুলাই মিসর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। সেখান থেকে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা। তবে স্কালোনির দলের এই রূপকথার জয় ছাপিয়ে সেখানে পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলেছে মিসর। পরবর্তীতে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইগি কলিনা জানিয়েছেন, সবকিছু করা হয়েছে নিয়ম মেনেই।

স্কালোনির মতে আর্জেন্টিনা নিয়ম মেনেই ম্যাচ জিতে এই পর্যায়ে (কোয়ার্টার ফাইনাল) উঠেছে। আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘ফুটবলে সহায়তা বলে কিছু নেই। ২০২৬ সালে এত প্রযুক্তি থাকার পরও সেটা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত নিয়মই আসল বিষয়। নিয়মগুলো পরিষ্কার। বাস্তবতার চেয়ে বিষয়টি বরং নিয়ম মেনেই নির্ধারিত হয়।’

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে চাঞ্চল্যকর ইমেইল প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমে ‘লা ক্যালে’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ফুটবল ফেডারেশনের সিস্টেমে মিসরীয় হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করেছেন এবং তাঁরা গণহারে ইমেইল পাঠিয়ে বলেছেন যে মিশরের জয় ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিং সিদ্ধান্তের কারণে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত