Ajker Patrika

শিক্ষাসফরে খুশি বাংলাদেশ কোচ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
শিক্ষাসফরে খুশি বাংলাদেশ কোচ
বাংলাদেশ নারী দলের কোচ পিটার বাটলার। ছবি: বাফুফে

শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো, শেষ হলো অন্তত স্বস্তির ১ পয়েন্টে। এশিয়ান গেমসে নিজেদের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে গতকাল ৯০ মিনিটে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জালের দেখা পায়নি কেউ। ১ পয়েন্ট নিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এশিয়ান গেমস-যাত্রা। আর এ এশিয়াড বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের কাছে দারুণ এক ‘শিক্ষাসফর’।

গ্রুপ এফের প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সেটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়। তিন দিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও ৬-০ গোলে হারে দল। দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করে একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। মিয়ানমারের বিপক্ষে জিততে পারলে অবশ্য সমীকরণের মারপ্যাঁচে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হতো।

সেই ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে রাখে মিয়ানমার। দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুটি শট নেয় তারা। একবার বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরীক্ষা দিতে হয়, অন্য শটটি ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। ২০ মিনিটে মিয়ানমারের আরেকটি শট ব্লক হয়ে যায়।

বাংলাদেশও নিজেদের সুযোগ পেয়েছে। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের ফ্রি-কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৭ মিনিটে কর্নার পায় দল। ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শটও লক্ষ্যে থাকেনি। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। শেষ দিকে বরং আক্রমণের চাপ বাড়ায় মিয়ানমার। ৭৭ মিনিটে তাদের একটি শট ঠেকান বাংলাদেশের গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই দুটি শট ব্লক হয়ে যায়। একের পর এক কর্নার আদায় করে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে মিয়ানমার।

বাংলাদেশও হাল ছাড়েনি। কর্নার আদায় করে ৮৫ মিনিটে। এক মিনিট পরই ঋতুপর্ণার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এরপর সেই আক্রমণ থেকেই বাংলাদেশের অফসাইড হয়। শেষ মুহূর্তে মিয়ানমার আরও কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও বাংলাদেশের রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি।

১ পয়েন্টের সন্তুষ্টি নিয়ে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘আজকের (কাল) মেয়েদের পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আমার মনে হয় তারা অসাধারণ খেলেছে।’ ম্যাচের ফলের চেয়েও ইতিবাচক পারফরম্যান্স দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করাই বাটলারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১৬ গোল হজম করলেও বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এটি ছিল আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষার সুযোগ। তারা খুব ভালো দল। আর আমি আবারও বলছি—আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’

তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে গল্পটা ছিল অন্য রকম। র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান থাকলেও মাঠে সেই ব্যবধানটা বড় হয়ে ওঠেনি। বাটলারও মনে করেন, বাংলাদেশ এখন এই ধরনের দলের সঙ্গে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘মিয়ানমার র‍্যাঙ্কিং ৫০-এর কাছাকাছি আর আমরা ১০০-এর কাছাকাছি বা তার আশপাশে। আমরা মাঝে মাঝে সত্যিই খুব ভালো ফুটবল খেলেছি এবং আমাদের বেশ সুসংগঠিত লেগেছে। মিয়ানমারকে টেক্কা দিতে পারি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত