
টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার স্বপ্নটা শেষ পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেল বাংলাদেশের। গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে নারী সাফের ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৩-১ গোলে হারিয়ে ৭ বছর পর ঘরের মাঠে শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ভারত।
সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর যে অদম্য চরিত্র দেখিয়েছিলেন মারিয়া মান্দারা, ফাইনালে এসে যেন তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। গ্রুপ পর্বে এই ভারতের কাছেই ৩-০ গোলে হেরেছিল পিটার বাটলারের দল। সেই হারের অতীত ভুলে ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ভারতের গতিময় ফুটবলের কাছে হার মানতেই হলো ঋতুপর্ণাদের।
অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে দেখা গিয়েছিল চরম নাটকীয়তা। শুরু থেকেই স্বাগতিকদের রক্ষণভাগকে প্রবল চাপে রেখে প্রায় পুরোটা সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার গতি ও স্কিল স্বাগতিকদের রীতিমতো দিশেহারা করে তুলেছিল। ২৩ মিনিটে নেপাল ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে কর্নার থেকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেছিলেন এই উইঙ্গার, তবে তাঁর নেওয়া দর্শনীয় শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এর আগে ১৪ মিনিটে তহুরা খাতুনও ভারতের গোলরক্ষক পান্থৈকে একা পেয়েছিলেন, কিন্তু ডিফেন্ডার জুলি কিষানের দারুণ এক স্লাইডিং ট্যাকলে বেঁচে যায় স্বাগতিকেরা।
পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েও ৪২ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। পাল্টা আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়েন ভারতের ফরোয়ার্ড পিয়ারি সাসা। তাঁর নেওয়া শট ব্লক করতে গেলে বল ডিফেন্ডার সুরভীর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং গোললাইন ছেড়ে কিছুটা এগিয়ে থাকা গোলরক্ষক মিলি আক্তার বোকা বনে যান। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (তহুরা খাতুনের পাস থেকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশকে ১-১ সমতায় ফেরান সেই ঋতুপর্ণা চাকমা।
এই গোলের পরম স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সব হিসাবনিকাশ উল্টে যায়। ৪৬ মিনিটে পিয়ারি সাসার নিখুঁত ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা সানফিদা দারুণ এক হেডে ভারতকে ফের এগিয়ে দেন। এই গোলটাই মূলত ম্যাচের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে দেয়। এরপর থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ—দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখাতে শুরু করে স্বাগতিকেরা। গোয়ার চরম আর্দ্রতায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ধীরে ধীরে ক্লান্ত মনে হতে থাকে। এক গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে পুরো ম্যাচে প্রথমবারের মতো বেশ দিশেহারা লাগছিল। ভারতের তারকা ফুটবলার মনীষা কল্যাণ এবং বদলি নামা মালভিকাদের গতি সামলাতে রীতিমতো হাঁসফাঁস করছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগ।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া কোচ পিটার বাটলার ৭২ মিনিটে তহুরাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান সাগরিকাকে। কিন্তু এবার আর কোনো অলৌকিক কিছুর দেখা মেলেনি। উল্টো ৮২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে আফঈদা খন্দকারের মারাত্মক এক ভুলে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে যান বদলি হিসেবে নামা ভারতের লিন্ডা কম। সহজ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর মতো শক্তি বা সময় কোনোটাই অবশিষ্ট ছিল না বাংলাদেশের।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে স্বাগতিক দর্শকদের ষষ্ঠ শিরোপা উল্লাসে। আর হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

দীর্ঘ ৪০ বছর পর ফুটবলের এই মহোৎসবে ফিরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায় ইরাক। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রাটা অবশ্য বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচেই তারা মাঠে নামবে শক্তিশালী নরওয়ের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের বিপক
১ ঘণ্টা আগে
তহুরা খাতুনের পাস থেকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্য ভেদ করে বাংলাদেশকে ১-১ সমতায় ফেরান সেই ঋতুপর্ণা চাকমা। এই গোলের পরম স্বস্তি নিয়েই এখন দ্বিতীয়ার্ধের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ।
৩ ঘণ্টা আগে
মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে রান পাহাড় গড়ে গতকালই জয়ের ভীত তৈরি করেছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। রিজার্ভ ডেতে এসে শেষ হাসি হেসেছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৪৭ রানের জয় তুলে নিয়েছে মোহামেডান।
৪ ঘণ্টা আগে
২০১৬ সালে শিলিগুড়িতে ভারতের কাছে ফাইনালে হারের সেই স্মৃতি এখনো বাংলাদেশের ফুটবলে এক বড় আক্ষেপ। ২০২২ ও ২০২৪ সালে কাঠমান্ডুতে টানা দুবার শিরোপা জিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে এবার সেই ভারতের মাটিতেই তাদের হারিয়ে ট্রফি জয়ের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের অপেক্ষায় মারিয়া মান্দারা।
৫ ঘণ্টা আগে