লড়াইয়ে ফেরালেন স্পিনাররা

আলোক স্বল্পতায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা যখন দিনের খেলা শেষ করলেন, তখন ১৩৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। এটি অবশ্য পুরো দিনের চিত্র তুলে ধরছে না। রানের হিসাবে স্বাগতিকেরা এগিয়ে থাকলেও কাগজ-কলমে দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপটই ছিল বেশি।
৩ উইকেটে ২১৩ রানে প্রথম দিন শেষ করা বাংলাদেশের সামনে বড় পুঁজির সুযোগ ছিল। সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন ৪০০ রানের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এর ধারে-কাছেও পৌঁছায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৫১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। অলআউট হওয়ার পেছনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররাই বেশি দায়ী। দ্বিতীয় দিনেও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিং করেছে স্বাগতিকেরা। তবে শেষ সেশনে বোলারদের লড়াকু পারফরম্যান্সে দিনটা পুরোপুরি হাতছাড়া হয়নি বাংলাদেশের।
১৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ২৯ রানে ব্র্যান্ডন কিং (১৫) বিদায় নেওয়ার পর জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপলের প্রতিরোধে চিন্তা বাড়ছিল বাংলাদেশের। দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে ১১ ওভার করানোর পর টানা স্পিনার ব্যবহার করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামদের বোলিংয়ে এনেও উইকেটের দেখা মিলছিল না। অবশেষে শেষ সেশনে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মিরাজ। তাতে অবশ্য দারুণ অবদান আছে শান্তর। ক্যাম্পবেলের ব্যাটে লেগে আসা বল স্লিপে একদিকে ঝাঁপিয়ে তালুবন্দী করেন অধিনায়ক। সেই ক্যাচের ভিডিও পোস্ট করে সাবেক অধিনায়ক, বর্তমানে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে কর্মরত শাহরিয়ার নাফীস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্কিপার হ্যাজ উইংস।’
ক্যাম্পবেল ৫৪ রানে আউট হলে ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে তেজনারায়ণের সঙ্গে তাঁর ৬১ রানের জুটি। ৩৬ ওভারে বাংলাদেশকে জোড়া শিকার এনে দেন তাইজুল। তিন বলের মধ্যে কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গোকে ফেরান তিনি। ৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন তেজনারায়ণ (৪৩) ও জাস্টিন গ্রিভস (১৫)। তেজনারায়ণের ৪৩ রান করেছেন ১৪৫ বল খেলে। মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ ইনিংসে সাদমান ইসলাম বাদে কেউ কিন্তু ১০০ বল খেলতে পারেনি। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি শিবনারায়ণ চন্দরপলের ছেলে যেন বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আদর্শ টেস্ট ব্যাটার হওয়ার পথে।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ৯৯ রানে ব্যাটিং করতে নামা সাদমান। দিনের দ্বিতীয় বলেই সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসকে আর বেশি দূর নিতে পারেননি। জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফেরার আগে সাদমান করেন ১০৫ রান। সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন হৃদয়। আগের দিন ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া এই ব্যাটার কাল আর কোনো রানের দেখা পাননি। ষষ্ঠ উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ৩২ রান করে প্রতিরোধ গড়ার আভাস দিলেও ১৫ রানের বেশি স্থায়ী হয়নি মিরাজের ইনিংস। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ডিফেন্সের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বোল্ড হন এই অলরাউন্ডার। এরপর লিটনকে একপাশে রেখে নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুলরা বিদায় নিলে ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। যোগ্য সঙ্গ না পাওয়ায় ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসকে বড় করার সুযোগ পাননি লিটন।
স্বাগতিক ব্যাটারদের সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা নিয়েছেন জোমেল। টানা ভালো জায়গায় বল যেমন ফেলেছেন, তাঁর টার্ন সামলাতেও হিমশিম খেয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। আগের দিনের ২ উইকেটের সঙ্গে গতকাল জোমেলের শিকার আরও ৩টি।
মেঘলা কন্ডিশনে খেলা যত এগোচ্ছে, মিরপুরের উইকেট তত স্পিন সহায়ক হয়ে উঠছে। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্পিনারদের মূল কাজ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করা।









