
পৃথিবীর জলবায়ুর নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে ১২ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগের এক বিশাল ধ্বংসপ্রাপ্ত ধূমকেতুর ধূলিকণা দায়ী হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মাঝামাঝি বাফিন উপসাগরের গভীর সমুদ্রতল থেকে সংগৃহীত তলানির নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেই সময়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণে ধূমকেতুর ধূলিকণা প্রবেশ করেছিল।
গত ৬ আগস্ট বিজ্ঞান সাময়িকী প্লস ওয়ানে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। গবেষণাপত্রে বলা হয়, এই ধূলিকণাগুলোই ছিল ‘ইমপ্যাক্ট উইন্টার’ নামক এক স্বল্পস্থায়ী কিন্তু ভয়াবহ ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণ, যা পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে মাত্র এক বছরের মধ্যেই তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কমিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, একটি বড় ধূমকেতু বা উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিস্ফোরিত হলে প্রচুর ধুলা ও ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই ধুলা সূর্যের আলোকে আটকে দেয়, ফলে পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যায়। এই ঠান্ডা অবস্থাটি কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এক বিবৃতিতে রাশিয়ার বোরক জিওফিজিক্যাল অবজারভেটরির ভূবিজ্ঞানী এবং গবেষণার সহলেখক ভ্লাদিমির সেলমোভিচ বলেন, ‘বায়ুমণ্ডলে এত বিপুল পরিমাণ ধূমকেতুর ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়েছিল যে তা স্বল্প সময়ের জন্য পৃথিবীতে ইমপ্যাক্ট উইন্টার সৃষ্টি করেছিল।’
টানা ৭ হাজার বছর ধরে একটু একটু করে গরম হচ্ছিল পৃথিবী। তবে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ বছর আগে হঠাৎ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমে যেতে শুরু করে।
এই ঠান্ডার যুগকে ‘ইয়াংগার ড্রায়াস’ বলা হয়। ঠান্ডায় জন্মানো ‘ড্রায়াস’ গণের বুনো ফুলের নাম অনুসারে এই সময়ের নামকরণ করা হয়েছে। এই যুগ প্রায় ১ হাজার ২০০ বছর স্থায়ী হয় এবং তারপর আবার উষ্ণতা বাড়তে শুরু করে।
তবে ইয়াংগার ড্রায়াস শুরু হওয়ার কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। একদল বিজ্ঞানীর মতে, বরফ গলতে গিয়ে হঠাৎ করে বিশাল পরিমাণে ঠান্ডা মিষ্টি পানি মহাসাগরে পড়ে যায় এবং তাতে উষ্ণ পানি বহনকারী মহাসাগরীয় স্রোতের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে উত্তরের গোলার্ধে ঠান্ডা আবহাওয়া ফিরে আসে।
অন্যদিকে, আরেক দল গবেষক মনে করেন, একটি বিশাল ধ্বংসপ্রাপ্ত ধূমকেতুর ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সূর্যালোক প্রতিহত করেছিল এবং এতে বরফখণ্ডগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যার ফলেই দীর্ঘমেয়াদি ঠান্ডা আবহাওয়া ফিরে আসে।
তবে এই তত্ত্বের পক্ষে এত দিন সরাসরি কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ধূমকেতু বা উল্কাপিণ্ডের ধাক্কায় সৃষ্ট কোনো গর্ত বা ক্রেটারও পাওয়া যায়নি, যেটি এই তত্ত্বকে নিশ্চিত করতে পারে।
অনেক বিজ্ঞানী আরও দাবি করেন, ওই সময়ের ভূস্তরে পাওয়া বাদামি বা কালচে কিছু ধাতব উপাদান পাওয়া যেত। এগুলো আসলে মহাজাগতিক ধূমকেতু বা উল্কার কারণে তৈরি হয়নি। বরং পৃথিবীর সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায়ও সৃষ্টি হতে পারে।

নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বাফিন উপসাগর থেকে সংগৃহীত সমুদ্র তলানির নমুনা বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু ক্ষুদ্র ধাতব কণার সন্ধান পান, যেগুলো ধূমকেতুর ধূলিকণার সঙ্গে মিলে যায়। এ ছাড়া তাঁরা এমন কিছু অতিক্ষুদ্র কণার সন্ধান পান, যাতে প্লাটিনাম ও ইরিডিয়াম রয়েছে। এই উপাদান দুটি ধূমকেতু ও উল্কাপিণ্ডে সাধারণভাবে পাওয়া যায়।
এ ছাড়া গবেষকেরা এমন কিছু গোলাকার অতি সূক্ষ্ম কণাও খুঁজে পেয়েছেন, যে কণার অনেকগুলো পৃথিবীতে তৈরি হলেও সেগুলোর ভেতরে ধূমকেতু বা উল্কাপিণ্ডের সামান্য পরিমাণ উপাদান থাকতে পারে। এই কণাগুলো ঠিক ইয়াংগার ড্রায়াস যুগ শুরুর সময়েই দেখা গেছে।
ইয়াংগার ড্রায়াস যুগ শুরুর সময় ধূমকেতু পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল, এই গবেষণা তা পুরোপুরি প্রমাণ করেনি। বরং গবেষকেরা বলছেন, এই কণাগুলো সম্ভবত একটি ‘এয়ারবার্স্ট’ বা বায়ুমণ্ডলে বিস্ফোরণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে উল্কা বা ধূমকেতু পৃথিবীর মাটিতে না পড়েই বায়ুমণ্ডলে বিস্ফোরিত হয়।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই তত্ত্ব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তারা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান, ওই সব কণার উপস্থিতি ইয়াংগার ড্রায়াসের শুরুতেই ঘটেছে কি না।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স

সপ্তদশ শতাব্দীর এক অনন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান যন্ত্র বা ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’ লন্ডনের সোথবি’স নিলামঘরে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। লাহোরে তৈরি এই পিতলের বিশাল যন্ত্রটি ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ২.৭৫ মিলিয়ন ডলার) দামে বিক্রি হয়েছে।
১১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ চার্লস লিবার এখন চীনের শেনজেনে নিজের নতুন গবেষণাগার তৈরি করেছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য গোপন ও কর ফাঁকির অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ার তিন বছর পর, ৬৭ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী এখন বেইজিংয়ের অন্যতম জাতীয় অগ্রাধিকারমূলক...
১৩ দিন আগে
পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণের জন্য বহুদিন ধরেই সমাদৃত শজনেগাছ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, এটি পানির ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকর!
১৪ দিন আগে
পারমাণবিক শক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান কার্বন-মুক্ত শক্তির উৎস। যখন বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) পারমাণবিক শক্তিকে একটি অনন্য ও টেকসই সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখানে পারমাণবিক শক্তির পেছনের বিজ্ঞান, এর উৎপাদনের
১৬ দিন আগে