Ajker Patrika

আলোয় মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবনে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৫২
আলোয় মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবনে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী
কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল এবারে চিকিৎসায় নোবেল পুরষ্কার জিতে নিয়েছেন। ছবি: নোবেল কমিটি

আলো দিয়ে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের নতুন পথ দেখিয়ে ২০২৬ সালের শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেলকে যৌথভাবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

আজ সোমবার সুইডেনের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টা) এই পুরস্কার ঘোষণা করে কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি। নোবেল পুরস্কারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গবেষণার মাধ্যমে এই তিন বিজ্ঞানী আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের সংকেত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছেন, যা জীবিত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান এবং জর্জ নাগেলকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস (light-gated ion channels and optogenetics) বিষয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য।’

কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিকেল ইনস্টিটিউট এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। পিটার হেগেম্যান জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের অধ্যাপক এবং জর্জ নাগেল জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব ভুর্জবুর্গের অধ্যাপক।

পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল চ্যানেলরোডপসিন (channelrhodopsin) নামের একটি বিশেষ ধরনের প্রোটিন আবিষ্কার করেন। এই প্রোটিনের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাঁরা দেখতে পান, যে ধরনের কোষেই এই প্রোটিন প্রবেশ করানো হোক না কেন, সেই কোষ আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

এরপর কার্ল ডেইসেরথ ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জিন প্রবেশ করান। এরপর কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়ুর সংকেত বা নার্ভ সিগন্যাল সক্রিয় করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে তিনি এই আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সুইচের মতো পদ্ধতিকে জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষেও কার্যকর করতে সক্ষম হন। আলো ব্যবহার করে এভাবে স্নায়ুর সংকেত নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিটিই এখন অপটোজেনেটিকস নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি খুব দ্রুত সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ তৈরি করে—তা বোঝা গবেষকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এক স্বপ্নের মতো ছিল। অপটোজেনেটিকস হলো এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে একটি জীবিত মস্তিষ্কে একেকটি নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের (নার্ভ সেল) কার্যক্রম চালু বা বন্ধ করা সম্ভব হয়। মস্তিষ্কের অজানা রহস্যগুলো উন্মোচনের জন্য বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারগুলোতে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত