Ajker Patrika

নির্বাচনী ইশতেহার

এনসিপির অগ্রাধিকারে সংস্কার, বিচার ও কর্মসংস্থান

  • রাষ্ট্রসংস্কার নিশ্চিত করা।
  • জুলাই হত্যার বিচার হবে।
  • গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা।
  • গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি।
  • প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র।
  • স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
অর্চি হক, ঢাকা 
এনসিপির অগ্রাধিকারে সংস্কার, বিচার ও কর্মসংস্থান

প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে অংশ নিলেও এনসিপির আলাদা নির্বাচনী ইশতেহার থাকবে। এতে রাষ্ট্রের সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও তরুণদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন গত মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, এনসিপির একক ইশতেহার থাকবে। কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে ইশতেহার ঘোষণা করা হতে পারে।

ইশতেহারে কোন্ কোন্ বিষয় অগ্রাধিকার পাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরা শারমিন জানান, সংস্কার ও বিচার সব সময়ই এনসিপির মূল দাবি ছিল। ইশতেহারেও এগুলো আসবে। জুলাই অভ্যুত্থান গড়ে উঠেছিল তরুণদের বৈষম্যহীন কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে। এনসিপির ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। নারীদের গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক স্বীকৃতির বিষয়টিও ইশতেহারে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইশতেহার প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতামত ও প্রত্যাশার প্রতিফলনের পাশাপাশি একটি বাস্তবসম্মত ও সংস্কারমুখী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই এ ইশতেহারের লক্ষ্য। দলটির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনী ইশতেহার শুধু প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও তরুণদের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

গত আগস্টে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায় নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিল এনসিপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই ২৪ দফার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। ইশতেহারে তরুণদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সংকট নিরসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরি—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র, নতুন শিল্প খাত এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও ইশতেহারে থাকতে পারে।

এনসিপির দলীয় ইশতেহার প্রণয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণের আগে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা। ওই নেতা বলেন, জামায়াত এনসিপির আদর্শিক সঙ্গী নয়, এটা ঠিক। কিন্তু নির্বাচনে ইশতেহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইশতেহারের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে জোটের নেতাদের মধ্যে ন্যূনতম একটা আলোচনা হবে।

গত মঙ্গলবার রাতে ইশতেহারবিষয়ক উপকমিটি গঠন করেছে এনসিপি। এতে প্রধান হিসেবে রয়েছেন দলের সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশাম হক। কমিটির সেক্রেটারি করা হয়েছে ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আঞ্চলিক সংগঠক ও গবেষক ইশতিয়াক আকিবকে।

এ ছাড়া উপকমিটির সদস্যরা হলেন, জাহিদ আহসান, তৌকির আজিজ, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, মুনা হাফসা, সাইফুল ইসলাম ও তুহিন মাহমুদ।

উপকমিটির প্রধান এহতেশাম হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোকে ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ৷ তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উন্নয়নের বিষয়ে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত