Ajker Patrika

বহু জান কোরবানির বিনিময়ে আসা পরিবর্তনের ধারা ধরে রাখতে হবে: তারেক রহমান

নুরুল আমিন হাসান, উত্তরা(ঢাকা)
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪৯
বহু জান কোরবানির বিনিময়ে আসা পরিবর্তনের ধারা ধরে রাখতে হবে: তারেক রহমান
উত্তরায় বিএনপির জনসভায় কথা বলেন তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বহু মানুষের ‘জান কোরবানির বিনিময়ে’ আমাদের দেশে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের ধারা ধরে রাখতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আশ্বাস দেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজধানীর উত্তরা এলাকার গ্যাস, পানি, চিকিৎসা, জলাবদ্ধতা, যানজটসহ সাত সমস্যা সমাধান করবে।

ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর হয়ে উত্তরার আজমপুরের ঈদগাহ মাঠে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৫২ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুন-গুমের শিকার হওয়া পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেন। এরপর রাত ১টা ১৭ মিনিটে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিলম্বের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘সকালে ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম। সেখান থেকে গাজীপুর হয়ে মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে আসতে আসতে এত দেরি হয়ে গেল। এ জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের কিছু সমস্যা আমি জানি। এরই মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে, আপনারা প্রতি মাসে বিল দেন, কিন্তু গ্যাস ঠিকভাবে পান না। এই সমস্যা শুধু এই এলাকার না, সারা দেশের। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি—কোনোভাবেই নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান করতে দেওয়া হয়নি। এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আমদেরকে নতুন মিল, ফ্যাক্টরি, কলকারখানা করতে হবে। যাতে করে আমাদের দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের একটি দাবি হলো হাসপাতাল। সঠিক চিকিৎসার জন্য একটি সরকারি হাসপাতাল প্রয়োজন। ইনশা আল্লাহ ধানের শীষ বিজয়ী হলে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করব।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আরেকটি সমস্যা, যেটি শুধু এই এলাকার মানুষের না, সারা বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে—সেই সমস্যা হচ্ছে, পানি সংকট। বিল দেয়, কিন্তু পানি সঠিকভাবে পায় না। কারণ, আমাদের দেশে খালবিল শুকিয়ে গেছে। আমাদের নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই এলাকাসহ সারা দেশের পানির সমস্যা দূর করতে হবে। এই জন্য আমরা খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। শুধু এই এলাকার পানি সমস্যার সমাধান নয়, চেষ্টা করব সারা দেশের পানির সমস্যার সমাধান করতে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সামনে কয় দিন পরে বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। এই বর্ষা মৌসুম যখন শুরু হয়, তখন এই এলাকার মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ হয় জলাবদ্ধতা। এলাকার ভেতরে অনেকগুলো রাস্তা আছে, যেগুলো পানির নিচে চলে যায়। এই জলাবদ্ধতা এই এলাকাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। ইনশা আল্লাহ আগামী ১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে, আপনারা এখান থেকে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে জলাবদ্ধতার সমস্যা সবার আগে দূর করা হবে। যাতে মানুষ চলাচলটা সঠিকভাবে করতে পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকার আরেকটি সমস্যা হলো যানজট। যানজট শুধু এই এলাকা নয়, সারা ঢাকা শহরের। কীভাবে যানজটকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এ ব্যাপারে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু অনেক দেরি হয়ে গেছে, সেহেতু আমি বিস্তারিত বলব না।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘মাদকের বিশাল সমস্যা রয়ে গেছে এই এলাকায়। এই সমস্যা একটি ভয়ংকর সমস্যা। যিনি সমস্যায় পড়েন, পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই এলাকাসহ দেশের মানুষকে বের করে নিয়ে আসতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই এলাকাসহ সারা বাংলাদেশে অল্প শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত তরুণ আছে, যুবক আছে, যাদের কর্মসংস্থান নেই। আমাদের তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা যদি চলন্তের জন্য, জীবন্তের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে পারব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি বন্ধনটা সুসংগত করতে পারি, তাহলে আমরা বাংলাদেশের এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব। সেখানে আপনাদের (জনগণ), উত্তরার মানুষ জুলাই আন্দোলনকে সফল করেছিলেন, ঠিক একইভাবে যদি বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্রের মানুষ, উত্তরার মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে, একত্রিত থাকে, ইনশা আল্লাহ আমরা ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে এই সকল সমস্যা থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারব।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের এই মঞ্চের পাশে আরেকটি ছোট মঞ্চ আছে। যেখানে দুর্দিনে এলাকার মানুষদের মধ্যে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের স্বজনেরা এখানে আছেন। কিন্তু এই মানুষগুলো কেন আজকে স্বজনহারা? যার সাক্ষী আপনারা উপস্থিত আছেন।’

‘বিগত ১৬-১৭ বছর দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকারসহ সব রকম অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকারের পক্ষে কথা বলতে গিয়েই এই মানুষগুলো তাঁদের স্বজনদের হারিয়েছেন’—বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট যে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছিল, এই উত্তরার মানুষ সেটিকে সফল করেছিল অনেকাংশে। এই যে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, সেখানে উত্তরার মানুষের বিশাল একটি অবদান রয়েছে। ইনশা আল্লাহ, সেই অবদানের কথা আগামী দিনের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।’

দেশের পরিবর্তনের ধারার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন এসেছে। বহু ত্যাগ, বহু তিতিক্ষা, বহু জান কোরবানির বিনিময়ে এই পরিবর্তন এসেছে। আমাদের এই পরিবর্তনের ধারাটি ধরে রাখতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ধারা হচ্ছে, দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, মানুষের কথা বলার অধিকারকে তৈরি করতে হবে, মানুষের ভোটের অধিকারকে শক্তিরূপে স্থাপন করতে হবে। যাতে করে আগামীতে আর কোনো স্বৈরাচার এসে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারসহ সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। এবং এই দায়িত্ব পালনে উত্তরাসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ যদি সজাগ থাকে, তাহলে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’

‘আজ রাত অনেক হয়েছে। আপনারা ৬-৭ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। কাজেই বক্তব্য দীর্ঘায়ত করব না। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে আজকে একদল আরেক দলকে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছে। এসব বাদ দিয়ে আমাদের ঠান্ডা মাথায় চিন্তাভাবনা করতে হবে, কী কী কাজ করলে জনগণের কষ্ট লাঘব হবে’—বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, ‘উত্তরা, ঢাকা মহানগরসহ সারা বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যার সমাধান একটু হলেও কীভাবে লাঘব করা সম্ভব হয়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে, চিন্তাভাবনা করতে হবে এবং সেগুলো আমাদের বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত