Ajker Patrika

জুলাই শহীদদের নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা ‘ইসির কারণে’ বিস্তারিত বললেন না তারেক রহমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫৮
গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা
গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাধা-নিষেধের কারণে এখনই তা তুলে ধরতে পারেননি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না।’

আজ শনিবার গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এমনটি বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

ইসির কিছু ভূমিকার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচনের কমিশনের রিসেন্ট কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।’

গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা অসিলায় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহনশীলতার সঙ্গে এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে—সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা ধৈর্য ধারণ করি, আমরা সজাগ থাকি যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।’

রাজপথে দলের নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও অবদানের উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতা-কর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে, সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেড় শতকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপরহণ, মিথ্যা মামলার হয়রান-নির্যাতনের পর বিএনপির একজন নেতা-কর্মীও কিন্তু রাজপথে ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া পরিবারের স্বজনেরা স্বজনহারা অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের সেই অনুভূতি স্পর্শ করে বিএনপি চেয়ারম্যানকে। এ সময় বারবার চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। বক্তব্যের সময় আগত গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া স্বজনদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন শত কষ্ট বুকে নিয়ে, এই মানুষগুলো দেশের আইন অনুযায়ী যাতে ন্যায়বিচার পেতে পারে তার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাদেশে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে, যেই সরকার যারা নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন—তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে।’

অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিষ্ঠা জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি—তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহীদ, সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে, একাত্তর সালের যাঁরা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ’৯০-এর স্বৈরাচারের বিরোধিতে আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যাঁরা গুম-শহীদ হয়েছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ’২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন—যে হাজারো মানুষ যাঁরা বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন... প্রত্যেকটি প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়—তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা শহীদদের নামে রাষ্ট্রে বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নামকরণ করব—যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদের গৌরবের সাথে স্মরণ রাখতে পারে।

‘আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে মায়ের ডাকের সভানেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোকসেদুল মোমিন মিথুনের যৌথ সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, রুহুল কবির রিজভী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনাসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত