Ajker Patrika

মৌলিক সংস্কার করে ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে: শফিকুর রহমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ২২: ২৯
মৌলিক সংস্কার করে ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে: শফিকুর রহমান
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলিক সংস্কার করে ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে—এমন দাবি উত্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে এই দাবি তোলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘মৌলিক সংস্কারগুলো করতে হবে। ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে, যাতে কেউ দুর্দান্ত ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে। জনগণের সম্পদ, ইজ্জত নিয়ে যাতে কেউ খেলতে না পারে, তার ওয়ারেন্টির জন্যই এ পরিবর্তন বা সংস্কার অপরিহার্য।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের লড়াই হবে সকল অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ একই দিনে দুটি ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো। আরেকটি ফেলে দেওয়া হলো। অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘শাসনের যে ধারা অতীতে শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল জনগণ চেয়েছিল সেই ধারার পরিবর্তন হোক। এই পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য। দীর্ঘদিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে মাসের পর মাস সংলাপের পর জুলাই সনদ তৈরি করল। তার ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আফসোস! বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করল। ফলে কোনো পরিবর্তন আসল না।’

সরকার ইতিমধ্যেই সকল মৌলিক বিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে—মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা (সরকার) স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছেন না। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সেসব আগের জায়গায় থেকে গেল।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণ আজ শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও। তাদের ভোটের মূল্যায়ন কেন করা হলো না? নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি ও বিরোধী দল বলেছে, আমরা গণভোট মানি আপনার গণভোটে হ্যাঁ বলুন।’ যাঁরা এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তাঁদের প্রায় ৭০ ভাগ ভোট অগ্রাহ্য হবে কেন—এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জনগণের দেওয়া রায় সরকারি দল অগ্রাহ্য করলেও আমরা বিরোধী দল অগ্রাহ্য করব না। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে এসেছি। ইতিমধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এই দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। এ রায় দিয়েছে জনগণ, জনগণের স্বার্থেই এই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত