শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জামায়াতের

চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ কোনো রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল বা অন্য কোনো গোষ্ঠী উসকানি ও নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে পোশাকশিল্পের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শ্রমিকদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে হামলা ও লুটপাট এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করার’ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠী উসকানি ও নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দায়ী করা যাবে না। প্রকৃত অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে দমন করার নামে হয়রানি, নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তারের পথ পরিহার করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও সেই তুলনায় শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এ নেতা। এই বাস্তবতায় পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন পরওয়ার। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি তাঁর শ্রমের ন্যায্য অধিকার। শ্রমিকের শ্রম ও উৎপাদনের ওপর দাঁড়িয়ে যে শিল্প ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সেই শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
সরকার কর্তৃক গঠিত মজুরি বোর্ডের কাছে প্রত্যাশা রেখে জামায়াতের এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই বোর্ড শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, বর্তমান বাজারদর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ ও ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা; গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত ও আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া; কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা।
এ ছাড়া চলমান আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেপ্তার নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করা; সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া; চলমান সংকট নিরসনে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধিসহ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত।









