Ajker Patrika

নতুন একটি দলের নেতারা শেখ হাসিনার ভাষাই অনুসরণ করছেন: রিজভী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ০৫
নতুন একটি দলের নেতারা শেখ হাসিনার ভাষাই অনুসরণ করছেন: রিজভী
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিতে যে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার সংস্কৃতি চালু করেছিলেন, বর্তমানে একটি নতুন দলের নেতারা সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি করছেন।

আজ সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রাঙ্গণে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) আয়োজিত ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সব সময়ই আজেবাজে কথা বলতেন। তিনি রাজনীতিকে একটি জঘন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এত অবিচার-জুলুম সহ্য করার পরও আমরা তাঁর কঠোর সমালোচনা করেছি, কিন্তু কখনো অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করিনি। শেখ হাসিনা যে বাজে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করে গিয়েছিলেন, আজ একটি নতুন দলের নেতারা সেই পথেই হাঁটছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন শিক্ষার্থীদের ‘‘রাজাকারের বাচ্চা’’ বলে গালি দিয়েছিলেন, তখন তরুণসমাজ সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এখন কেন সেই একই ভাষা ও আচরণের পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে? এভাবে চলতে থাকলে শেখ হাসিনাই খুশি হবেন, সুযোগ নেবেন এবং দেশে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখবেন।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘এই আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন না হলে শুধু রাজনীতিবিদ নয়, অসংখ্য শিক্ষার্থীকেও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতো। আমাদের অনেকেরই ফাঁসি হতে পারত।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে এখন অনেকেই নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। অথচ ২২ জুলাই শেখ হাসিনা নিজেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, চলমান আন্দোলন বিএনপির ইন্ধনে পরিচালিত হচ্ছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছিলেন, লন্ডন থেকে আন্দোলনের ছক তৈরি করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘আজ আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, আবার বিএনপির বিরুদ্ধে এমন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা যদি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ না নিতাম, তাহলে আমাদের সাড়ে ছয় শ নেতা-কর্মী কীভাবে জীবন দিলেন?’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘আন্দোলনের পুরো সময় বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন আমাকে দিকনির্দেশনা দিতেন। আমি ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সেই নির্দেশনার বিষয়গুলো জানিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম ও সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক (নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী) সুজন মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত