Ajker Patrika

যারা মায়েদের গায়ে হাত তুলেছ, তোমরা ক্ষমা চাও: জামায়াত আমির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ১১
যারা মায়েদের গায়ে হাত তুলেছ, তোমরা ক্ষমা চাও: জামায়াত আমির
শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে দলটির আমির শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যারা মায়েদের গায়ে হাত তুলেছ, তাদের আবারও বলছি, তোমরা ক্ষমা চাও, আল্লাহ তোমাদের মাফ করে দেবেন।’

আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুরে মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

আজ নিজের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫-এ একাধিক জনসংযোগ-পথসভা ও একটি সমাবেশে অংশ নেন শফিকুর রহমান। মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠের সমাবেশ ছাড়াও বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তর কাফরুল উচ্চবিদ্যালয়ের আশপাশে, বাদ মাগরিব মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় এবং এশার নামাজের পর মিরপুর-১০ ফলপট্টি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি।

মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আমাদের জীবনের চেয়ে মায়েদের ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি। যদি কেউ আর হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, আমরা গর্জে উঠব। উপায় দুইটি, একটি হলো পরিবর্তন হয়ে মায়েদের সম্মান করা আর তা না হলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য সমস্ত দায় নিতে প্রস্তুত থাকা।’

পুরুষদের মতো নারীরাও কর্মক্ষেত্রে সমান অবদান রাখবেন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মায়েদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। বড় শহরগুলোতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস থাকবে। কর্মক্ষেত্রে বেবি কর্নার, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও ডে-কেয়ার থাকবে।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, যেসব মা সন্তান লালন-পালন করছেন, তাঁদের জন্য আমরা পাঁচ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা করতে চাই, এটা শুনে কিছু লোক হইচই শুরু করল—পাঁচ ঘণ্টা করলে তো মানুষ তাঁদের আর কর্মক্ষেত্রে নেবে না। তারা আমাদের কথা ভালোভাবে না শুনেই লাফালাফি শুরু করে দিল। আমরা বলেছি, বহু মা সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে চাকরিটাই ছেড়ে দেন। এই অবস্থায় কর্মঘণ্টা যদি পাঁচ ঘণ্টা করা হয়, সন্তানদের রাখার জন্য বেবি কেয়ার করা হয়, তাহলে সেই মা তাঁর প্রয়োজন পূরণের জন্য, তাঁর দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য সেখানেই থেকে যাচ্ছেন, ঝরে পড়ছেন না।’

এখানে যে গ্যাপ সৃষ্টি হবে, এই গ্যাপের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘মায়েরাই তো রাষ্ট্রের বুনিয়াদ। তাঁদের বাদ দিয়ে কোনো কিছু কল্পনাই করা যাবে না। তাঁরা আপনার আমার মতো সন্তান লালন-পালন করে বড় করবেন, আবার কাজ করবেন আট ঘণ্টা, এটা কি অবিচার নয়? আমরা কথা দিয়েছি, সমাজে সুবিচার কায়েম করব।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়েছি, সেই নিক্তিতে ওজন করে সকলের পাওনা ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।’

কোনো ব্যাক্তি-গোষ্ঠী-পরিবার-দলের বিজয় চাচ্ছি না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখের এই বিজয় জামায়াতে ইসলামীর না হয়ে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হোক। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সেটা হবে জামায়াতে ইসলামীর বিজয়।

মহিলা সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত