দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: রুহুল কবির রিজভী

পরিকল্পিতভাবে কেউ কেউ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, একদিকে পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছে, আবার পাশাপাশি দেশের ভেতরে কিছু রাজনৈতিক শক্তি এই নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘সমস্ত অপপ্রচার-অপকর্ম ও পরাজিত শক্তিগুলোকে মোকাবিলা করে বাংলাদেশে একটা স্থায়ী গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্র যাতে আরও মজবুত করা যায়—এ নিয়ে সরকার কাজ করছে। ইনশা আল্লাহ, আমার মনে হয়, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি, যে পথে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ সাধিত হয়।’
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশ একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়। কারণ, বাংলাদেশের জ্বালানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে কলকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার সরবরাহ ও বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেয়।
রিজভী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক করে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক সহনশীলতার নীতি বজায় রেখেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।
রিজভী আরও বলেন, ‘দেশকে অস্থির করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। যারা দুষ্কর্ম করছে, অস্থিরতা তৈরি করছে, চাঁদাবাজি করছে, মাস্তানি করছে, মানুষের জমি দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আপনারা দেখেছেন, ইতিমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এভাবে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।’
শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পক্ষ শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। এর পেছনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গতকাল রোববার স্পট থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তাঁদের একজন নেতা যে ওই উসকানির মধ্যে ছিলেন এবং ভেতর থেকে তাঁরা যেই কাজ করছেন, নিজেরা আবার সেটা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেটা পার্লামেন্টে আলোচনা করে সমাধান করা যায়, সেটা না করে লংমার্চের মাধ্যমে নানা ধরনের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে তারা (জামায়াত) প্রকারান্তরে তাদের (আওয়ামী লীগ) সমর্থন দিচ্ছে কি না, এইটা নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জামায়াতের আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র সাড়ে আট মাস। এই সময়ে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ‘পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির জন্য মঙ্গলজনক হবে না। আপনারা দেখেছেন যে, কী পরিণতি হয়েছে, শেখ হাসিনারা যখন ক্ষমতায়, গত ১৭ বছরে কতজন লোককে ফাঁসি দিয়েছে, এটা তো আপনারা জানেন।’
এ দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তাঁরা অবাধ ও সুস্থ নির্বাচনের মাধ্যমেই কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চায়, যা ১২ ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তাঁর জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে আসার চেষ্টা করলে এটা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









