Ajker Patrika

আসিফের ব্যাংকে আছে ১০ লাখ, বাবার ব্যাংকে আছে সাড়ে ৫ লাখ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ২১: ৪১
আসিফের ব্যাংকে আছে ১০ লাখ, বাবার ব্যাংকে আছে সাড়ে ৫ লাখ
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দুটি ব্যাংক হিসাবে মোটের ওপর প্রায় ১০ লাখ টাকা জমা আছে। আর তাঁর বাবার ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তবে তাঁর বাবার যে ঋণ রয়েছে, সেটির সঙ্গে সমন্বয় করলে তিনি দেনায় রয়েছেন।

রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানান আসিফ।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার পর নতুন করে প্রোপাগান্ডা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। তাঁর দাবি, মোট ৫৬ জনের হিসাব চাওয়া হলেও শুধু তাঁর বিষয়টি আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

আসিফ বলেন, ‘তদন্ত করতে চাইলে তারা করতেই পারে। কিন্তু একটি কনফিডেনশিয়াল চিঠির তথ্য সাংবাদিকদের গ্রুপে দিয়ে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ব্যাংক হিসাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে- স্যালারি, সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। সব মিলিয়ে সেখানে জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তাঁর বাবা ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন, যার বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সব হিসাব সমন্বয় করলে তাঁর বাবা দেনায় রয়েছেন। আসিফের মায়ের একটি হিসাবে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। স্ত্রীর একটি হিসাবে রয়েছে ৬১৩ টাকা।

নিজের হিসাবের বিবরণ তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ জানান, তাঁর ব্যক্তিগত দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। একটি সোনালী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহৃত স্যালারি অ্যাকাউন্ট। ওই হিসাবে জমা আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।

আসিফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বেতন ও ভাতা পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া পাঁচটি বিদেশ সফরের টিএ/ডিএ বাবদ কয়েক দফায় অর্থ এসেছে। সব মিলিয়ে ওই হিসাবে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ওই হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদের দাবি, এই হিসাবে যে অর্থ জমা হয়েছে তা সম্পূর্ণই সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইব্যাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘এর বাইরে অন্য কোনো উৎস থেকে এক টাকাও জমা হয়নি।’

প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও রেকর্ড সংগ্রহ করা যাবে বলে জানান আসিফ। সব মিলিয়ে তাঁর ও পরিবারের মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও দলের বিরুদ্ধে ‘ন্যারেটিভ’ (বয়ান) তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হিসাব তলব করে রহস্য তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে- না জানি কী আছে সেখানে। তাই আজই সব প্রকাশ করলাম।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারে দায়িত্বে থাকার সময় কিংবা পদত্যাগের পর নানা ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বেশির ভাগই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুদকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি গ্রুপ তাঁর বিরুদ্ধে ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন ক্রিকেটারকে দেশে খেলতে না দেওয়ার কারণে দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ‘এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা নেয়। মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সীমিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ই-জিপি পদ্ধতি স্বচ্ছ এবং যে কেউ চাইলে প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত হতে পারে।

সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দুই পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে “সূত্র মতে” বা “গোপন সূত্রে” শিরোনাম করা হলে গণমাধ্যমের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’ তাঁর ভাষ্য, ‘আমার কোনো কিছু লুকানোর নেই। দায়িত্বে থাকাকালেও স্বচ্ছতা বজায় রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, হুমায়রা নূর প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত