রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে চিত্রনাট্য লেখা যাবে। এখানে রয়েছে পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং এমন একজন ব্যক্তি, যাঁর বাবা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এখন এমন সময় এসেছে যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই যে কাউকে যেকোনো শাস্তি দেওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে একদল লোক। পুলিশও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। লোকটি দোষী কি না, কোন দোষে দোষী ইত্যাদি নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। শুধু আওয়ামী লীগের সদস্য পেলেই হলো।
হাফিজুর রহমান নামের ৪০ বছর বয়সী এক ভদ্রলোক পড়েছেন গাড্ডায়। চন্দনকোঠা গ্রামের এই বাসিন্দা মূলত ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে নারীদের ঝরে পড়া চুল কেনেন। সেটাই তাঁর ব্যবসা। এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় যুবদল কর্মী ইমরান আলীকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে অভিযোগ আছে। কেন এই চাঁদা দিতে হবে? কারণ খুঁজতে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের অনেকেই চাঁদাবাজিকে প্রায় পেশার মতো করে ফেলেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ড বহিষ্কারের পর বহিষ্কার করেও চাঁদাবাজি ঠেকাতে পারছে না। বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো এক বিপদও হাজির হয়েছে হাফিজুর রহমানের সামনে। তাঁর সদ্য মৃত বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মী।
আর যায় কোথায়! হাফিজুরের সঙ্গে যেমন ইচ্ছা, তেমন ব্যবহার করা তাতে যুক্তিসংগত হয়ে গেছে। আর পুলিশ! পুলিশ কী করেছে, সেটাও এক দারুণ ব্যাপার। সমস্ত ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সরকারি দল আর পুলিশের মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক, তা সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করার এক অতি সফল যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এই যন্ত্র নষ্ট হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
চাঁদা না পেয়ে ইমরান অ্যান্ড কোং ৪ সেপ্টেম্বর চন্দনকোঠা বটতলা মোড়ের দোকানে গিয়ে হাফিজুরের ওপর হামলা চালায়, মারধর করে। হাফিজুর স্বভাবতই পুলিশের দ্বারস্থ হন। আর তখন পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, বুঝতে পারছেন? না, পুলিশ সিংহামের মতো নিপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। হামলাকারীকে সাঁড়াশি আক্রমণ করে ধরেনি, পুলিশ শুধু ঘটনার সত্যতা পেয়েছে, কিন্তু শক্তিমান সরকারি যুবদল নেতার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যায়নি।
এরপর পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। সেটা আক্রমণকারীকে আটকানোর তৎপরতা নয়, আক্রমণের শিকার ব্যক্তিকে কীভাবে জব্দ করা যায়, সেই তৎপরতা। জুন মাসে নাকি হাফিজুর অন্য অনেকের সঙ্গে মিলে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেছিলেন। যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরই জুন মাসের মামলায় হাফিজুর গ্রেপ্তার হলেন সেপ্টেম্বরে। শুধু কি তাই, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর একই দিনে আরেকটি মামলা দেওয়া হয় তাঁর নামে। অথচ সেই মামলায় যে সময় উল্লেখ করা হয়, সে সময়ও তিনি ছিলেন কারাগারে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটা ‘টাইপ মিসটেক’ হতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। ‘আকলমান্দ কে লিয়ে ইশারা কাফি হ্যায়।’






