Ajker Patrika

নির্বাচন-পরবর্তী নেতাদের করণীয় কী হওয়া উচিত

মেহেদী হাসান নাঈম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ০৩
নির্বাচন-পরবর্তী নেতাদের করণীয় কী হওয়া উচিত
প্রতীকী ছবি

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণসংযোগের সময়, নির্বাচনী জনসভা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার বিষয়বস্তু ‘ক্ষমতায় গেলে কোন দল কী করবে?’ বিএনপি মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে সবচেয়ে বেশি বলছে ফ্যামিলি কার্ডের কথা। যদিও বিষয়টি অনেকের কাছে স্পষ্ট না। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বলা হচ্ছে, তারা জয়ী হলে জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনা করবে।

তবে শত প্রতিশ্রুতির মাঝেও অনুপস্থিত হলো ক্ষমতায় না গেলে কিংবা নির্বাচনে পরাজিত হলে কারা কী করবে? সে কথা কেউ বলছে না। নির্বাচন তো শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য না। নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি দল ক্ষমতায় যাবে। অন্য দল বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। প্রার্থীরা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন, সেটি যেমন ভোটারদের বলা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্ষমতায় না গেলে কী করবেন, সেটিও বলা উচিত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার সংস্কৃতিচর্চা শুরু হওয়া দরকার। প্রায়ই দেখা যায়, যাঁরাই পরাজিত হন তাঁরাই ফলাফল বর্জন করেন। এটার মাধ্যমে যাঁদের ভোট পেয়েছেন, তাঁদেরও অপমান করা হয়। গণতন্ত্রে পরাজয়ের মর্যাদা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান গণতন্ত্রের ভিত্তি। ভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা মেনে নেওয়াই গণতান্ত্রিক আচরণ। পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানানো মানে পরোক্ষভাবে বলা—জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

যাঁরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাঁরা রাষ্ট্র ও জনগণের সেবা করার কথা বলেন। যদি তাই হয় তাহলে প্রার্থীদের উচিত ভোটে পরাজিত হলেও জনগণের সেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন—এই আশ্বাস দেওয়া। একজন প্রার্থী যদি ক্ষমতায় না গেলে জনসেবা করা বন্ধ করে দেন, তাহলে বুঝতে হবে তাঁর নির্বাচনের লক্ষ্য জনসেবা ছিল না। তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু ক্ষমতায় যাওয়া। হয়তো সবটা সম্ভব নয়, তবে ক্ষমতায় না গিয়েও কিন্তু মানুষের সেবা করা যায়, পাশে দাঁড়ানো যায়। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে ক্ষমতায় না গেলেও ভোটারদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার যদি কেউ করতে পারেন, তা সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেবে। নির্বাচন-পরবর্তী আচরণই আসল চরিত্র।

মনে রাখতে হবে, যে দল ক্ষমতায় থাকবে তারা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে, তা নয়। ঠিক এই জায়গাতেই বড় দায়িত্ব আছে বিরোধী দলের। গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে বাধ্য করতে হবে যেন জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন করতে। বিরোধী দলকে ইতিবাচক সমালোচকের ভূমিকায় কাজ করতে হবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার অন্যতম কারণ ছিল শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব। বিরোধী দল ছিল গৃহপালিত জাতীয় পার্টি।

দিন শেষে একজন প্রার্থীর উদ্দেশ্য হলো তাঁর সংসদীয় এলাকার মানুষের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবকাঠামোগত উন্নতি সাধন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়া মানে ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষ তাঁর প্রতি আস্থাশীল নন। কিন্তু যাঁরা আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আস্থার প্রতিদানও দিতে হবে। এর উৎকৃষ্ট উপায় হলো নিজের পরিকল্পনাগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে শেয়ার করে সহযোগিতা করা। ফলে সংঘাত ও হানাহানির বিপরীতে সমাজে বিরাজ করবে শান্তি ও সমৃদ্ধি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এসে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করাটা কি তরুণ ভোটার হিসেবে আমাদের ভুল?

বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় বাজেট প্রণয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। শুধু রাজনৈতিক কারণে ‘না’ বলা নয়। করতে হবে বিকল্প বাজেট ও নীতির প্রস্তাব। সরকার ভুল করলে সমালোচনার পাশাপাশি ভালো করলে সমর্থন করতে হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবার চেষ্টা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। ক্ষমতায় যেতে না পারলে রাষ্ট্র অচল করার রাজনীতি কিংবা জ্বালাও-পোড়াও, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা কর্মসূচি কোনোটিই কাম্য নয়। বিদেশি শক্তির কাছে রাষ্ট্রবিরোধী নালিশের রাজনীতি থেকে সরে আসা ও কূটনৈতিক বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য সবার প্রত্যাশা। দিন শেষে দেশের অভ্যন্তরের ইস্যু যখন বিদেশি শক্তির কাছে নালিশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তখন মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় কিন্তু নিজ দেশেরই। মনে রাখতে হবে, ক্ষমতার আগে জনতা। সবার আগে বাংলাদেশ।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পেয়েও কেন পেশা ছাড়ছেন মার্কিন চিকিৎসকেরা

বাংলাদেশকে ‘শাস্তির’ হুমকি দিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

আজকের রাশিফল: স্ত্রীর পরামর্শে ভাগ্য খুলবে, চারপাশের মানুষ ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে

আলোচিত বলিউড অভিনেতা কামাল খান গ্রেপ্তার

সৎ নেতাকে ভোট দিতে বলায় খতিবের দিকে তেড়ে গেলেন কিছু মুসল্লি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত