গিয়াসউদ্দিন শোভন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অবশ্যই বিতর্কিত ও ন্যক্কারজনক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক রাজনীতির কোনো নিয়মনীতির মধ্যে তা পড়ে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। তারা মাদুরোকে একটি নীতিগতভাবে দুর্বৃত্ত ও অবৈধ শাসক হিসেবে দেখে। যিনি গণতন্ত্রকে পদদলিত করে ক্ষমতায় রয়েছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেছে। নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং মার্কিন আইনের দৃষ্টিতে তিনি একজন ফেরারি অপরাধী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ, বিশেষ করে মাদক পাচার, যা মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতি করে, তা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকেই করতে দিতে পারে না। তারা একে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের আইনি ও কৌশলগত পদক্ষেপকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করতে চায়।
ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বৈদেশিক হস্তক্ষেপের অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের নেই। এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি। মাদুরো সরকার এবং তাঁর সমর্থকেরা এই অভিযানকে ‘আইনি সাম্রাজ্যবাদ’, ‘আইনি যুদ্ধ’ এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া নিরঙ্কুশ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা ‘ইমিউনিটি’ ক্রমাগত বিতর্কের মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে এই ইমিউনিটি খাটে না বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশনা আছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় আদালত কি একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে বিচার করতে পারেন? যে দেশের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি নেই, তার নিজ দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় বিচার করার অধিকার রাখে? অনেক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন, যা আইনের শাসনের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথ সুগম করতে পারে। যদি মার্কিন আদালত মাদুরোর বিচার করতে পারে, তাহলে চীন কি মার্কিন নেতাদের বা রাশিয়া কি ইউরোপীয় নেতাদের তাঁদের নীতির জন্য বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে?
তবে মাদুরোর জন্য মার্কিন হুমকি আসলে তাঁর নিজের রাজনীতির জন্য ভালো হয়েছে। তিনি বারবার বলেছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তি’ তাঁকে উৎখাত করতে চায়। কারণ, তিনি দেশের তেলসম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছেন। এই বক্তব্য দরিদ্র ও ক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনুরণন তৈরি করেছে। তাঁকে ‘বিপৎসংকুল দেশপ্রেমিক নেতা’ হিসেবে পুনরায় চিত্রিত করতে সাহায্য করেছে।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্বরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মাদুরোর প্রতি মার্কিন এই সামরিক অভিযান নিছক একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের চেয়েও বড় কিছু। এটি একটি বৈশ্বিক সংকটের প্রতিফলন। যেখানে আন্তর্জাতিক আইন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ক্ষমতার রাজনীতির মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই হিসেবে দেখে। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ এটিকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপট এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্বিচার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। এ ঘটনা লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ন করবে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে ওয়াশিংটন থেকে দূরে সরে যাওয়ায় উৎসাহিত করতে পারে।
এই ঘটনাটি একটি বিপজ্জনক নজির, যা বিশ্বকে আরও অরাজক এবং বিভক্ত অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অবশ্যই বিতর্কিত ও ন্যক্কারজনক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক রাজনীতির কোনো নিয়মনীতির মধ্যে তা পড়ে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। তারা মাদুরোকে একটি নীতিগতভাবে দুর্বৃত্ত ও অবৈধ শাসক হিসেবে দেখে। যিনি গণতন্ত্রকে পদদলিত করে ক্ষমতায় রয়েছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেছে। নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং মার্কিন আইনের দৃষ্টিতে তিনি একজন ফেরারি অপরাধী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ, বিশেষ করে মাদক পাচার, যা মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতি করে, তা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকেই করতে দিতে পারে না। তারা একে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের আইনি ও কৌশলগত পদক্ষেপকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করতে চায়।
ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বৈদেশিক হস্তক্ষেপের অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের নেই। এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি। মাদুরো সরকার এবং তাঁর সমর্থকেরা এই অভিযানকে ‘আইনি সাম্রাজ্যবাদ’, ‘আইনি যুদ্ধ’ এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া নিরঙ্কুশ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা ‘ইমিউনিটি’ ক্রমাগত বিতর্কের মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে এই ইমিউনিটি খাটে না বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশনা আছে। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় আদালত কি একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে বিচার করতে পারেন? যে দেশের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি নেই, তার নিজ দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় বিচার করার অধিকার রাখে? অনেক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন, যা আইনের শাসনের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথ সুগম করতে পারে। যদি মার্কিন আদালত মাদুরোর বিচার করতে পারে, তাহলে চীন কি মার্কিন নেতাদের বা রাশিয়া কি ইউরোপীয় নেতাদের তাঁদের নীতির জন্য বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে?
তবে মাদুরোর জন্য মার্কিন হুমকি আসলে তাঁর নিজের রাজনীতির জন্য ভালো হয়েছে। তিনি বারবার বলেছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তি’ তাঁকে উৎখাত করতে চায়। কারণ, তিনি দেশের তেলসম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছেন। এই বক্তব্য দরিদ্র ও ক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনুরণন তৈরি করেছে। তাঁকে ‘বিপৎসংকুল দেশপ্রেমিক নেতা’ হিসেবে পুনরায় চিত্রিত করতে সাহায্য করেছে।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্বরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মাদুরোর প্রতি মার্কিন এই সামরিক অভিযান নিছক একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের চেয়েও বড় কিছু। এটি একটি বৈশ্বিক সংকটের প্রতিফলন। যেখানে আন্তর্জাতিক আইন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ক্ষমতার রাজনীতির মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই হিসেবে দেখে। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ এটিকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপট এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্বিচার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। এ ঘটনা লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ন করবে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে ওয়াশিংটন থেকে দূরে সরে যাওয়ায় উৎসাহিত করতে পারে।
এই ঘটনাটি একটি বিপজ্জনক নজির, যা বিশ্বকে আরও অরাজক এবং বিভক্ত অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহীর নওহাটা কলেজ মোড়ের একটি রাস্তার কাজে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মার খেয়েছেন একজন বিএনপি নেতা। তিনি কার কাছে চাঁদা চাইতে গিয়েছিলেন? স্থানীয় যুবদল কর্মীর কাছে। যুবদল কর্মী কি নিজেই ঠিকাদারির কাজটা পেয়েছিলেন? না। তিনি পাননি। মূল ঠিকাদার রাস্তার কাজের অংশ মাটি কাটার কাজটি দিয়েছিলেন এই যুবদল কর্মীকে।
১ দিন আগে
মার্কিন বাহিনী চলতি সপ্তাহের শুরুতে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক তাঁর দেশ থেকে তুলে নিয়ে গেছে। প্রথমে রাজধানী কারাকাস থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁদের নেওয়া হয় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইও জিমায়। তারপর সে জাহাজে করে মাদুরো দম্পতিকে নেওয়া হয়...
১ দিন আগে
গত বছর ব্যাপক সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিগত বিপর্যয়ের পর অর্থনৈতিক অবসাদ এবং রাষ্ট্রের ওপর জনগণের ব্যাপক আস্থাহানির কারণে সম্ভবত ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন বছর হতে যাচ্ছে ২০২৬। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। বিক্ষোভে প্রাণহানি জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।
১ দিন আগে
বুর্জোয়া রাজনীতির পক্ষে নির্বাচন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাজনীতিকেরা ক্ষমতায় যেতে চান, ক্ষমতায় যাওয়ার উপায় দুটি—একটি নির্বাচন, অপরটি সামরিক অভ্যুত্থান। সামরিক এবং ছদ্মবেশী অভ্যুত্থানে কেউ কেউ মন্ত্রী পদ-মর্যাদায়, অন্যরা, যাঁরা পারেননি তাঁরা, কেমন করে হবেন নির্বাচন না হলে? নির্বাচনে তাঁদের আগ্রহ...
২ দিন আগে