জাহীদ রেজা নূর

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যখন এলেন বাংলাদেশে, তখন তাঁকে দেখেছিলাম। হোটেল সুন্দরবনে তাঁকে দেখেছি। সেখানেই দেখেছি মেহেদী হাসানকে। এই দুজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন আমার বড় ভাই শাহীন রেজা নূর। ভূপেন হাজারিকার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তা নিয়েও রয়েছে এক অদ্ভূত অভিজ্ঞতা।
লজ্জা হয় বলতে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বুকে অসুখ ছিল। ঢাকার আয়োজকদের তিনি বলেছিলেন, এমন কোনো হোটেলে যেন তাঁকে রাখা হয়, যেখানে লিফট আছে। নইলে সিঁড়ি ভেঙে ওঠার ধকল শরীরে সইবে না। আয়োজকেরা হোটেল সুন্দরবনে রাখলেন তাঁকে, যেখানে লিফট নেই। সিঁড়ি ভেঙেই উঠতে হলো তাঁকে।
এরপর যা ঘটল, তা ভয়াবহ। কলকাতায় ফেরার পর সেই যে অসুস্থ হলেন, এরপর আর সুস্থ হননি। মারা গেছেন ক’দিন পর।
আমরা সেই ছোটবেলা থেকেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনতাম। কলকাতার ছবিতে হেমন্তের সংগীত পরিচালনায় এবং কণ্ঠে কত যে গান তৈরি হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। উত্তম কুমার যখন সিনেমার গানে লিপসিং করতেন, তখন মনেই হতো না অন্য কেউ গাইছে। একেবারে সোনায় সোহাগা ছিল উত্তম-হেমন্ত জুটি। পরে অবশ্য সে ছন্দপতন হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। মান্না দে আর কিশোর কুমারের কণ্ঠও শোনা গেছে উত্তমের ছবিতে। গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় সে ঘটনার বর্ণনা আছে। পরে কীভাবে উত্তমকে আবার ফিরিয়েছিলেন হেমন্তের দিকে, তা-ও জানা হয়ে যাবে পুলকের লেখা ‘কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়’ বইটি পড়লে।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের ভালো-মন্দ নিয়ে বলতে পারবেন সুরের কান্ডারিরা। কিন্তু তাঁর গান শুনে কেমন লাগে, সে কথা বলার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না। আর বিশেষজ্ঞ হতে হয় না কোন মাপের মানুষ ছিলেন তিনি, সে কথা বুঝতে। এখন পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে যত লেখা পড়েছি, তাতে এই ভূ-ভারতে তাঁর মতো নিপাট ভদ্রলোকের সন্ধান পাওয়া খুব শক্ত।
রুশ বিপ্লবের পথ ধরে সারা পৃথিবীতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা ছড়িয়েছিল ভারতেও। আমরা ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিটিএ) কথা বলতে পারি। সাংস্কৃতিক এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হেমন্তের ছিল নাড়ির সম্পর্ক। সিনেমার রোমান্টিক গান আর রেডিওর জন্য আধুনিক গানের পাশাপাশি এবার যে গানগুলো গাইলেন, তার সঙ্গে সাম্যবাদের নিঃশ্বাসের সম্পর্ক। ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর আইপিটিএ গড়ে তোলার কাজটি সহজ করে দিয়েছিল। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, ব্রিটিশ প্রশাসন কিংবা ভারতীয় বড়লোকেরা এই দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে শীতল ছিল। কোনোভাবেই তা প্রতিরোধের সামান্যতম চেষ্টাও করেনি।
এই আইপিটিএতেই হেমন্তের সঙ্গে আলাপ হয় সলিল চৌধুরীর। সলিল-হেমন্ত জুটির অসাধারণ কিছু কাজ আছে এ সময়ে। এর মধ্যে ‘কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা’, ‘ঠিকানা’, ‘রানার’ গানগুলোর উল্লেখযোগ্য। যে বাংলা গানজুড়ে ছিল রোমান্টিকতা, তার ওপর হানা দিল দুর্ভিক্ষ। হেমন্ত দুর্ভিক্ষের নান্দনিক রূপকার। দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতাকে শিল্পের সাহায্যে প্রকাশ করেছেন তিনি।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটি গানের ক্যাসেটে মাঝে মাঝে নিজের কিছু সংলাপ ছিল। আমরা যখন শুনতাম, তখন সেই কথাগুলো এলেই নড়েচড়ে বসতাম। অদ্ভুত এক আনন্দ হতো। আগেই বলেছি, উত্তমের সংলাপ আর হেমন্তের গানের কণ্ঠে মিল ছিল বেশ। ‘হারানো সুর’ চলচ্চিত্রে ‘রমা রমা’ বলে উত্তমের সেই আর্তির কথা অনেকের নিশ্চয়ই মনে পড়ে যাবে। সে ছিল সিনেমার ক্লাইমেক্স। ক্যাসেটে হেমন্ত যখন ঘটনাটির বর্ণনা করছিলেন, তখন আর একটি সত্য মূর্ত হয়ে উঠেছিল, যা উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দীর কথাই মনে করিয়ে দেয়। ডাবিংয়ের সময় উত্তম উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু ডাকটি তো ফেলে রাখা যাবে না। হেমন্ত সে দায় তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। অনেকে যাঁকে উত্তমের কণ্ঠ বলে ভেবেছেন, সেই কণ্ঠ আসলে ছিল হেমন্তের।
শিল্পী তাঁর ব্যবহারে, আলাপে, ভাবনায় নিজেকে শৈল্পিকভাবেই প্রকাশ করেন—এমন মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে। সেই শৈল্পিক মানুষের অবয়ব আঁকতে হলে হেমন্তকে রাখতে হবে সামনের সারিতে। বলতে চাইছি, মানুষ যে রকম হতে পারত বা হওয়া উচিত, সে রকমটাই ছিলেন হেমন্ত।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যখন এলেন বাংলাদেশে, তখন তাঁকে দেখেছিলাম। হোটেল সুন্দরবনে তাঁকে দেখেছি। সেখানেই দেখেছি মেহেদী হাসানকে। এই দুজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন আমার বড় ভাই শাহীন রেজা নূর। ভূপেন হাজারিকার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তা নিয়েও রয়েছে এক অদ্ভূত অভিজ্ঞতা।
লজ্জা হয় বলতে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বুকে অসুখ ছিল। ঢাকার আয়োজকদের তিনি বলেছিলেন, এমন কোনো হোটেলে যেন তাঁকে রাখা হয়, যেখানে লিফট আছে। নইলে সিঁড়ি ভেঙে ওঠার ধকল শরীরে সইবে না। আয়োজকেরা হোটেল সুন্দরবনে রাখলেন তাঁকে, যেখানে লিফট নেই। সিঁড়ি ভেঙেই উঠতে হলো তাঁকে।
এরপর যা ঘটল, তা ভয়াবহ। কলকাতায় ফেরার পর সেই যে অসুস্থ হলেন, এরপর আর সুস্থ হননি। মারা গেছেন ক’দিন পর।
আমরা সেই ছোটবেলা থেকেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনতাম। কলকাতার ছবিতে হেমন্তের সংগীত পরিচালনায় এবং কণ্ঠে কত যে গান তৈরি হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। উত্তম কুমার যখন সিনেমার গানে লিপসিং করতেন, তখন মনেই হতো না অন্য কেউ গাইছে। একেবারে সোনায় সোহাগা ছিল উত্তম-হেমন্ত জুটি। পরে অবশ্য সে ছন্দপতন হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। মান্না দে আর কিশোর কুমারের কণ্ঠও শোনা গেছে উত্তমের ছবিতে। গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় সে ঘটনার বর্ণনা আছে। পরে কীভাবে উত্তমকে আবার ফিরিয়েছিলেন হেমন্তের দিকে, তা-ও জানা হয়ে যাবে পুলকের লেখা ‘কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়’ বইটি পড়লে।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের ভালো-মন্দ নিয়ে বলতে পারবেন সুরের কান্ডারিরা। কিন্তু তাঁর গান শুনে কেমন লাগে, সে কথা বলার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না। আর বিশেষজ্ঞ হতে হয় না কোন মাপের মানুষ ছিলেন তিনি, সে কথা বুঝতে। এখন পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে যত লেখা পড়েছি, তাতে এই ভূ-ভারতে তাঁর মতো নিপাট ভদ্রলোকের সন্ধান পাওয়া খুব শক্ত।
রুশ বিপ্লবের পথ ধরে সারা পৃথিবীতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা ছড়িয়েছিল ভারতেও। আমরা ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিটিএ) কথা বলতে পারি। সাংস্কৃতিক এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হেমন্তের ছিল নাড়ির সম্পর্ক। সিনেমার রোমান্টিক গান আর রেডিওর জন্য আধুনিক গানের পাশাপাশি এবার যে গানগুলো গাইলেন, তার সঙ্গে সাম্যবাদের নিঃশ্বাসের সম্পর্ক। ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর আইপিটিএ গড়ে তোলার কাজটি সহজ করে দিয়েছিল। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, ব্রিটিশ প্রশাসন কিংবা ভারতীয় বড়লোকেরা এই দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে শীতল ছিল। কোনোভাবেই তা প্রতিরোধের সামান্যতম চেষ্টাও করেনি।
এই আইপিটিএতেই হেমন্তের সঙ্গে আলাপ হয় সলিল চৌধুরীর। সলিল-হেমন্ত জুটির অসাধারণ কিছু কাজ আছে এ সময়ে। এর মধ্যে ‘কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা’, ‘ঠিকানা’, ‘রানার’ গানগুলোর উল্লেখযোগ্য। যে বাংলা গানজুড়ে ছিল রোমান্টিকতা, তার ওপর হানা দিল দুর্ভিক্ষ। হেমন্ত দুর্ভিক্ষের নান্দনিক রূপকার। দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতাকে শিল্পের সাহায্যে প্রকাশ করেছেন তিনি।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটি গানের ক্যাসেটে মাঝে মাঝে নিজের কিছু সংলাপ ছিল। আমরা যখন শুনতাম, তখন সেই কথাগুলো এলেই নড়েচড়ে বসতাম। অদ্ভুত এক আনন্দ হতো। আগেই বলেছি, উত্তমের সংলাপ আর হেমন্তের গানের কণ্ঠে মিল ছিল বেশ। ‘হারানো সুর’ চলচ্চিত্রে ‘রমা রমা’ বলে উত্তমের সেই আর্তির কথা অনেকের নিশ্চয়ই মনে পড়ে যাবে। সে ছিল সিনেমার ক্লাইমেক্স। ক্যাসেটে হেমন্ত যখন ঘটনাটির বর্ণনা করছিলেন, তখন আর একটি সত্য মূর্ত হয়ে উঠেছিল, যা উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দীর কথাই মনে করিয়ে দেয়। ডাবিংয়ের সময় উত্তম উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু ডাকটি তো ফেলে রাখা যাবে না। হেমন্ত সে দায় তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। অনেকে যাঁকে উত্তমের কণ্ঠ বলে ভেবেছেন, সেই কণ্ঠ আসলে ছিল হেমন্তের।
শিল্পী তাঁর ব্যবহারে, আলাপে, ভাবনায় নিজেকে শৈল্পিকভাবেই প্রকাশ করেন—এমন মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে। সেই শৈল্পিক মানুষের অবয়ব আঁকতে হলে হেমন্তকে রাখতে হবে সামনের সারিতে। বলতে চাইছি, মানুষ যে রকম হতে পারত বা হওয়া উচিত, সে রকমটাই ছিলেন হেমন্ত।

‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ প্রবাদটিই যেন সত্যে প্রমাণিত হতে চলেছে খুলনা নগরের উপকণ্ঠে রূপসা সেতুর নিকটবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজার ৩২টি দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের মানুষের কাছে। কারণ, এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। জায়গাটি একসময় বিরান ভূমি ছিল।
১০ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনের আমেজে ভাসছে দেশ। তারপরও কেমন যেন একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। কী হবে সামনে, তা নিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিন্তকও নির্দ্বিধায় কোনো মন্তব্য করতে পারবেন বলে মনে হয় না। নির্বাচন কি সেই হতাশাজনক পরিস্থিতিকে পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে?
১০ ঘণ্টা আগে
জানুয়ারি মাস চলছে নতুন বছরের। আর ২৭ দিন পরেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, এই নির্বাচন হবে ইতিহাসের অন্যতম একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সুষ্ঠু তো বটেই। তাদের আরও দাবি হলো, বিগত ১৭ বছরে যা হয়নি এক বছর কয়েক মাসে সেটা করে দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১১ ঘণ্টা আগে
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—দেশের কোথায় আজ নারীরা নিরাপদ? শুধু কি নারী? কোন কারণে কোথায় কে কখন হবেন গণপিটুনির শিকার, কাকে রাস্তায় ধরে কারও দোসর নাম দিয়ে হত্যা করা হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত দেশের মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যখন কোথাও...
১ দিন আগে