Ajker Patrika

পাঠদান বিঘ্নিত

সম্পাদকীয়
পাঠদান বিঘ্নিত

একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিষয়টি বেমানান। বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু দেশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এখনো এ ধরনের দৃশ্য মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে আসা এবং ফাটল ধরার কারণে ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে।

বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ, আর প্রচণ্ড রোদে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ—এই যদি হয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র, তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ‘সবার জন্য শিক্ষা’র স্লোগানটি কেবলই কাগুজে বুলি হিসেবে থাকবে।

জেলা প্রশাসক একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও নতুন ভবনের চাহিদাপত্র পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন, যা ইতিবাচক। তবে যেখানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ হওয়া দরকার, সেখানে কেবল চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশঙ্কার জায়গাটা হলো, আমাদের দেশে সরকারি কোনো কাজই ত্বরিত গতিতে হয় না। মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কাজ এগোয় না। যেখানে বিদ্যালয়টির ভবন এক বছরের মধ্যে হওয়া দরকার, সেখানে সেটা হতে কত বছর সময় লাগবে, তার নিশ্চয়তা কে দেবেন?

বর্ষাকালে শিশুরা কীভাবে ক্লাস করবে? সে চিন্তা কি কর্তৃপক্ষের ভাবনার মধ্যে আছে? উপজেলা শিক্ষা বিভাগের সজাগ দৃষ্টি থাকলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সেটা থাকলে আগেভাগে টিনের চালা দিয়ে হলেও শিশুদের অস্থায়ী ক্লাস করার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।

সারা দেশে এমন অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা প্রায় একই রকম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এই সংকটের স্থায়ী ও পদ্ধতিগত সমাধানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পাঠদান সচল রাখার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদাপত্রের ওপর নির্ভর না করে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থার একটি দ্রুত জরিপ পরিচালনা করা জরুরি।

প্রায়ই দেখা যায়, নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন মিললেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর কাজ ঝুলে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভবন নির্মাণের প্রকল্পগুলোর জন্য কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।

এ রকম সংকটময় পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকার কোনো কমিউনিটি সেন্টার বা বিকল্প নিরাপদ স্থানে ক্লাসের ব্যবস্থা করা দরকার।

কোমলমতি শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। খোলা আকাশের নিচে ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কি ভালো পাঠদান করা যায়? আর এ অবস্থায় শিশুরা কতটুকু লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারবে? আমরা আশা করব, জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের বাস্তবায়ন দ্রুত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত