Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

অপরাপর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বাঙালিদের উপেক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি আছে

অপরাপর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বাঙালিদের উপেক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি আছে

সুমন সাজ্জাদ কবি, লেখক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু প্রবন্ধের বই হলো—‘প্রকৃতি, প্রান্তিকতা ও জাতিসত্তার সাহিত্য’, ‘আধুনিকতা ও আত্মপরিচয়’, ‘ধর্ম নিম্নবর্গ ঠাট্টা’, ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ ও ‘শব্দরম্য’। ভাষার মাসে বাংলা ভাষার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ২৯

সংবিধান মতে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ১৯৮৭ সালের বাংলা প্রচলন আইন নামে একটি আইনও রয়েছে। তারপরও বাংলা ভাষার প্রতি এই দৈন্যের কারণ কী?

‘বাংলা ভাষার দৈন্য’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে প্রশ্নের জবাব। যেহেতু বাংলা প্রচলন আইনের কথা বলা হলো, সেহেতু ধরে নিচ্ছি সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার না করার কথাই বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, ‘সর্বস্তর’ বলতে আমরা কী বুঝছি? শিক্ষা, আইন, আদালত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন পরিসর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে কমবেশি বাংলা ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাই প্রধান ভাষা নয়। পাশাপাশি ইংরেজি ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে বাংলা প্রায় শতভাগ অচল। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজেও ইংরেজির ব্যবহার দেখা যায়।

এটা একধরনের ভাষিক বাস্তবতা। এই বাস্তবতা তৈরি হওয়ার অনেক কারণ আছে—প্রথমত, বাংলা ভাষা নিয়ে বাঙালি উচ্চ বা মধ্যবিত্তের মধ্যে ঐতিহাসিক হীনম্মন্যতা আছে। ইংরেজিকে তারা মনে করে সহজ, সরল ও আদর্শ ভাষা; ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে এই বোধ সঞ্চারিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে এ দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা গড়ে উঠলেও অর্থনৈতিক কোনো ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি; অর্থাৎ এই ভাষা শিখে কেউ অর্থকরী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে—তার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে কোনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা তৈরি হয় না। কারণ, একজন ব্যক্তির জীবনের উচ্চতর স্তরে বাংলা বিদ্যা কোনো কাজে লাগে না। তাই এই ভাষার উচ্চতা বা হীনতা বা প্রয়োগ নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথাই নেই।

তৃতীয়ত, আইন দিয়ে কখনোই ভাষার মতো সাংস্কৃতিক উপাদানকে কোনো ভাষাগোষ্ঠীর কাছে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায় না কিংবা চাইলেই ব্যক্তিকে কোনো ভাষায় অভ্যস্ত করে তোলা যায় না। যে ভাষার অর্থনৈতিক গুরুত্ব কম, সেই ভাষার ‘দীনদশা’ নিঃসন্দেহে এক অনিবার্য নিয়তি।

উচ্চ আদালত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলো কী? বিশেষ করে আমরা আজ পর্যন্ত কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় পাঠদান করাতে পারছি না?

উচ্চ আদালতে বাংলা ব্যবহৃত হয় না, ব্যাপারটি এ রকম নয়। বলা চলে বাংলার প্রয়োগ একেবারেই সীমিত। কয়েক বছর ধরে বরং বাংলার প্রয়োগ আগের তুলনায় বেড়েছে। বিচারক চাইলেও অনেক সময় রায় দিতে পারেন না। কারণ, আদালতের কর্মীরা ইংরেজিতে লিখতেই অভ্যস্ত। বাংলায় না লিখতে চাওয়ার মনস্তত্ত্ব এক দিনে গড়ে ওঠেনি। ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার কারণে ঐতিহাসিকভাবে আমরা ইংরেজি ভাষানির্ভর আইন-বিচার প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়েছি। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আদালতের লোকেরাই ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইন মানে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় পাঠদান করাতে না পারার প্রধান কারণ আমাদের বিদ্যাচর্চার ইতিহাসের ভেতরই নিহিত। সত্যিকার অর্থে, বাংলা ভাষাকে মাধ্যম করে অন্যসব উচ্চতর বিদ্যাচর্চার ঐতিহ্য আমরা গড়ে তুলিনি। আমরা লক্ষ করব, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলায় পাঠ্যবই রচনা ও অনুবাদের উদ্যোগগুলো ছিল খুবই প্রারম্ভিক স্তরের। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বাংলা ভাষাতেই পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ত্রিকোণমিতি, হিসাববিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো পড়ানো হয়েছে। এসব বাস্তবায়ন সহজ হয়েছে জাতীয় উদ্যোগের ফলে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক রচনার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান আছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সেগুলো সম্পাদনের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। আসলে পরিকল্পনাই গড়ে ওঠেনি। আর তাই বাংলা ভাষায় অপরাপর বিদ্যা বা বিষয় পড়ানোর কোনো উদ্যোগও দেখা যায়নি। আবার, বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন, ইংরেজিই হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ালেখার ভাষা। তাঁরা ইংরেজি ভাষার ‘জ্ঞানতাত্ত্বিক আভিজাত্য’ ও প্রয়োগকে চূড়ান্ত মনে করেন। মূলত পরিকল্পনার ঘাটতি, বাস্তবায়নের সমস্যা, জ্ঞানতাত্ত্বিক অনভ্যাসের কারণে বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রান্তিকায়িত ভাষা।

উচ্চশিক্ষার পাঠ্যপুস্তকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বই অনুবাদ না হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা ও সমস্যাগুলো কী?

উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করে একজন শিক্ষার্থীকে যদি বাংলা ভাষায় পড়তে ও লিখতে না হয়, তাহলে বাংলায় অনুবাদ করার কোনো অর্থ থাকে না। সাধারণ পাঠক কি পড়বেন? সেসব বই পড়ে শিক্ষার্থীরা প্রয়োগ করবে কোথায়? শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলার অদরকারি অবস্থান, অর্থাৎ বিদ্যমান বাস্তবতাই পাঠ্যপুস্তকের অনুবাদকে নিরুৎসাহিত করে। শুধু তা-ই নয়, অনুবাদের প্রতি একধরনের অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে আমাদের দেশে—অনুবাদ যেন মর্যাদাহীন তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির রচনা!

বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজ ভাষায় সব ধরনের বই অনুবাদ থেকে সিনেমা ডাবিং পর্যন্ত করে থাকে। মানে সর্বত্র নিজ ভাষায় সব কাজ করে থাকে। আমাদের দেশে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেই বোধ জাগ্রত না হওয়ার কারণ কী?

কারণ, সেই রাষ্ট্রগুলো অর্থ, ক্ষমতা ও ভাষার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। বাংলাদেশের মানুষ হিন্দি, ইংরেজি, জাপানি, চীনা, কিংবা তুর্কি ভাষার সিরিয়াল দেখে। এই রাষ্ট্রগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভুত্ব বিস্তার করতে সক্ষম। সেই সূত্রে তারা নিজের ভাষার সাংস্কৃতিক ক্ষমতাকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়। উন্নত রাষ্ট্রগুলো জানে, কীভাবে নাগরিকের ভাষাকেন্দ্রিক ভালোবাসা ও মমত্বের বোধকে রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ক্ষমতা উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। জনগণের অনুভূতি ব্যবহার করে আমাদের দেশে ভাষা আন্দোলন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই ভাষার সাংস্কৃতিক ক্ষমতাকে অর্থনৈতিক ক্ষমতার জগতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি। আমাদের দেশে নিজের ভাষায় কাজ করার বোধ না জন্মানোর অন্য একটি কারণ ‘বাংলা-ভীতি’; অচেনা-অজানা সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে মিলিয়ে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বানান, প্রয়োগ বিষয়ে পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীকে ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। পুরোনো কাঠামোতে বাংলা শিখন ও শিক্ষাদানের বন্দোবস্ত এই ভয়কে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে, বাংলা শেখার জন্য সহজতর কোনো রূপ আমরা হাজির করতে পারিনি। আনন্দের সঙ্গে বাংলা শিখন হয় না, আর তাই শুদ্ধ ও সর্বস্তরিক প্রয়োগ থেকেও জনগণ দূরে সরে যায়।

বাংলা ভাষায় প্রচুর বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ হচ্ছে। সেগুলোর মান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

বিদেশি সাহিত্যের প্রচুর অনুবাদ হওয়া খুবই আনন্দদায়ক ব্যাপার। বিগত তিন-চার দশকে আমরা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাববিস্তারি অনুবাদক পেয়েছি। যাঁরা অনুবাদের ইউরোপকেন্দ্রিক বৃত্ত ভেঙেছেন। তার আগপর্যন্ত অনুবাদ সাহিত্য ছিল মূলত ইংরেজি থেকে ইউরোপীয় সাহিত্যের অনুবাদ। কিন্তু এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গি গৌণ হয়ে পড়েছে। ‘বিশ্বসাহিত্য’ মানেই ছিল ইউরোপীয় সাহিত্য—অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই ধারণার মৃত্যু ঘটেছে। গত কয়েক দশকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যের প্রচুর সাহিত্য অনূদিত হয়েছে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে জাপানি ও চীনা ভাষা থেকে অনূদিত সাহিত্য। উপমহাদেশের ভাষাগুলোর মধ্যে উর্দু ও ফারসি সাহিত্যের অনুবাদ নতুন করে সংযোগ তৈরি করেছে। এসব অনুবাদের বিষয়ের বৈচিত্র্য, ভাষা ও বিন্যাস আকর্ষণীয় বলেই এত জনপ্রিয় হয়েছে। আমি যাঁদের কথা মনে রেখে বলছি, তাঁরা সবাই বাংলা ভাষাটা ভালো করে জানেন। তাঁদের ভাষাজ্ঞান বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের। অনুবাদে তাঁরা প্রাণবন্তভাবে উৎস ও উদ্দিষ্ট ভাষার স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে পেরেছেন।

আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে বাংলা ভাষার ‘অশুদ্ধ রূপ’ ও ‘অপপ্রয়োগ’ বিস্তার লাভ করছে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় কী?

রাষ্ট্র বা সরকার স্বয়ং যেখানে ‘অশুদ্ধ রূপ’ আর ‘অপপ্রয়োগে’র শীর্ষে সেখানে চ্যালেঞ্জ কে গ্রহণ করবে? বাংলাদেশ সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ওয়েবসাইটের ভাষা যদি আপনি খেয়াল করেন, তাহলে দেখতে পাবেন হাজার হাজার ভুল। বাঙালি জাতীয়তাবাদী সরকার টানা ১৫-১৬ বছর ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বাংলা ভাষা সবচেয়ে দুর্দশার শিকার হয়েছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল লেখালেখিতে অগণিত বানান ভুল, অশুদ্ধ প্রয়োগ আপনি পাবেন না। সরকার বাহাদুরের দশা যদি এ রকম হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ ভাষা নিয়ে কী ভাববে? তবু এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে হবে। সচেতনতার বাইরে প্রায়োগিক কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেমন শুদ্ধ বাংলা ভাষায় তৈরি করা যেতে পারে ডিজিটাল উপকরণ। আমরা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য বৃহৎ পরিসরের একটি জাতীয় অভিধানের কথা ভাবতে পারি; যেখানে থাকবে শব্দের মান উচ্চারণ, ব্যুৎপত্তি, বানান, অর্থ ও প্রয়োগবাক্য, থাকবে শব্দ-বাক্যের প্রয়োগ ও ব্যাকরণ-সংক্রান্ত ব্যাখ্যা। প্রচলিত ভুলগুলোর দৃষ্টান্তসমেত ব্যাখ্যা থাকবে। আর এই দৃষ্টান্তগুলো গ্রহণ করা হবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। পরিবেশন করা হবে অডিও-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে। মূলত ডিজিটাল যুগে বাংলাকে ডিজিটালি শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এ মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে দরকারি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় উদ্যোগ দেখা যায় না কেন?

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় উদ্যোগ দেখা যায় না, ব্যাপারটা সে রকম নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আছে। সেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ধরেই কাজ করছে। সমস্যা অন্য জায়গায়। রক্ষা করার এই প্রক্রিয়া কোনো দিনই কাজ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাষ্ট্র ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে। বাংলাদেশের অপরাপর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বৃহত্তর বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর উপেক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি আছে। আর তা রাষ্ট্র-সমর্থিত। যে রাষ্ট্রের সংবিধানে অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই, সে রাষ্ট্রে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করার ব্যাপারটা হাস্যকর হয়ে ওঠে। এ রাষ্ট্র তো প্রজাতন্ত্রের প্রধান ভাষা বাংলারই ঠিকঠাক যত্ন নেয় না, ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’র ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি রাষ্ট্র কী যত্ন নেবে! ভাষার সংরক্ষণ নয়, সক্রিয়তা দরকার; প্রয়োগক্ষেত্র না বাড়লে ভাষা সক্রিয় থাকবে না। সাঁওতালি ভাষায় যদি লেখাপড়ার সুযোগ থাকে, তবেই না সে ভাষা সক্রিয় হয়ে উঠবে। কোনো ভাষার সাংস্কৃতিক সচলতা যদি ঘরের কোণেই আটকে যায়, তাহলে সেই ভাষা কোনো দিন বৃহত্তর পরিসর পাবে না। ভাষাগুলোর প্রয়োগ-পরিসরকে রাষ্ট্র যথাযথভাবে প্রশস্ত করছে না। এ কারণে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতি ‘রক্ষা’র উদ্যোগ ভালো বা দৃশ্যমান কোনো ফল উপহার দিচ্ছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত