Ajker Patrika

অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ

নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি নারীপক্ষের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি নারীপক্ষের

নারীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সম্প্রতি চালু হওয়া পিংক বাস উদ্যোগকে সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন নারীপক্ষ। তবে সংগঠনটি বলেছে, নারীর নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান আলাদা বাসে নয়; বরং সব গণপরিবহন ও জনপরিসরকে সবার জন্য নিরাপদ করে তোলার মধ্যেই রয়েছে। নারীর নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ চলাচল নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এ সব কথা জানানো হয়।

নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাস স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, যৌন হেনস্তা ও সহিংসতার কারণে গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ চলাচল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পিংক বাস তাৎক্ষণিকভাবে নারীদের কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারে। তাই উদ্যোগটিকে বিচ্ছিন্ন সমাধান হিসেবে না দেখে সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে নারীপক্ষ।

নারী নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বা অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে বৈষম্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

নারীপক্ষের ভাষ্য, বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ (৪) অনুচ্ছেদে নারীদের অনুকূলে রাষ্ট্র বিশেষ বিধান করতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)-এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নারী ও পুরুষের বাস্তব সমতা অর্জন ত্বরান্বিত করতে নেওয়া অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থা বৈষম্য হিসেবে গণ্য হয় না।

তবে নারীপক্ষ প্রশ্ন তুলেছে, ‘কেন নারীদের আলাদা বাসে নিরাপদ বোধ করতে হবে, অথচ সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসর সবার জন্য নিরাপদ হবে না?’

সংগঠনটি মনে করে, দীর্ঘ মেয়াদে এমন সমাজ ও জনপরিসর গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীরা বয়স, পোশাক, পেশা, শ্রেণি বা চলাচলের সময় নির্বিশেষে সব গণপরিবহন ও জনপরিসরে স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পিংক বাসের মতো উদ্যোগ যেন সকল নারীর জন্য গণপরিবহন ও জনপরিসর নিরাপদ করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আড়াল না করে। নারীর নিরাপত্তার সমাধান জনপরিসর থেকে তাকে আলাদা করা নয়; বরং জনপরিসরকেই সবার জন্য নিরাপদ করে তোলা। তবে কাঠামোগত পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত নারীর বর্তমান নিরাপত্তার প্রয়োজনকেও উপেক্ষা করা যাবে না।

পিংক বাসের প্রতীকী পরিচয়ে বেগুনি রং ব্যবহার করা হলে নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের বার্তার সঙ্গে তা আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলেও মনে করে নারীপক্ষ। তবে প্রতীকের চেয়ে নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

কাঠামোগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে নারীপক্ষ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহন ও জনপরিসরে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবহনকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং সহজলভ্য, নিরাপদ ও কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এ ছাড়া সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ, নগর ও পরিবহন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার এবং নারীসহ সবার জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ গণপরিবহন ও জনপরিসর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নারীপক্ষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত