ঢাকার বাইরে বিদ্যুৎ ফিরলেও রাজধানীতে স্বাভাবিক হতে লাগবে মধ্যরাত

সাত ঘণ্টার বেশি সময় পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ ফিরছে। তবে পুরো মহানগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে মধ্যরাত পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। অবশ্য ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা দুই সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর কর্মকর্তারা আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, তাঁদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের যে চাহিদা সে অনুপাতে অনেক কম পাচ্ছেন। দুই সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে মধ্যরাত পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় গড় হিসাবে আজ মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ৯০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে ৭০০ মেগাওয়াটের মতো। অন্যদিকে ডিপিডিসি এলাকায় চাহিদা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ এর ৬০ শতাংশ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমীর আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার এলাকায় বিদ্যুৎ পুরোপুরি দিতে বেশ রাত হয়ে যাবে। এখন আমি যে ৭০০ মেগাওয়াট পেয়েছি তা দিয়ে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ দিলেও এখনো কিছু এলাকা বাকি আছে। যা বিদ্যুৎ আছে তা দিয়ে চেষ্টা করছি কোথাও সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে যেখানে এখনো বিদ্যুৎ দেওয়া হয়নি সেখানে দিতে।’
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি সংকট অবস্থা চলছে ডিপিডিসি আওতাধীন এলাকায়। ডিপিডিসি এলাকায় আজকে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ৬০ শতাংশ।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমার এলাকায় ধীরে ধীরে লোড পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পেরেছি। লোড পেলে আজ রাতের মধ্যে বাকি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।’
এদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়েছে— মিরপুর, মগবাজার, মাদারটেক, রামপুরা, গুলশান, উলন, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, আফতাবনগর, বনশ্রী, ধানমন্ডি (আংশিক), আদাবর, শেরে বাংলা নগর, তেজগাঁও, মিন্টু রোড, মতিঝিল, শ্যামপুর, পাগলা, পোস্তগোলাসহ বেশকিছু এলাকায়। পাওয়ার গ্রিডের ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানরা অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছেন, দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে। ধৈর্য ধারণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

বিদ্যুৎ নেই রাজধানীসহ দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায়







