Ajker Patrika

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তবে তাদের মানবাধিকার রয়েছে: আইনমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৪০
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তবে তাদের মানবাধিকার রয়েছে: আইনমন্ত্রী
‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। ছবি: আজকের পত্রিকা

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা বলতে চাই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি না বা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী না। তবে আমরা বলতে চাই রোহিঙ্গারা মানুষ, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার আছে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে নীতি গবেষণা কেন্দ্র।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলতে চাই, সংস্কৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে তারা ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তারা কিছু সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি ও জায়গা থেকেই আমরা বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করার পক্ষে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হচ্ছে, আমরাও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছি। এটি মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী ও মিয়ানমারের মানুষ। তাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই জায়গা থেকে অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যাড্রেস করেছেন, পরবর্তী সরকারগুলো সেভাবে অ্যাড্রেস করেনি বা করতে পারেনি।

সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বুঝতে হবে— এই ভূখণ্ড, এই বাংলাদেশ সবার আগে। যখন ভূখণ্ডের কোনো বিষয় নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, তখন ধরে নিতে হবে, সেই আন্তর্জাতিক মোকাবিলা হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এবং দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। অনেকে বলতে পারেন, রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তখন বিষয়টি তো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে গেছে। আসলে তা নয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সুতরাং এটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয় নয়। এটি মানবাধিকারের বিষয়। হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা বিষয়টিকে দেখি। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুসারেও এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেখান থেকেই আমরা বলছি, রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসতে পারলে সেটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন— কীভাবে বিষয়টিকে অ্যাড্রেস করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার জন্য।

আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় ইস্যু। সেই অখণ্ডতা রক্ষা করতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিকে হয়তো আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা ডিপ্লোমেটিক, সোশ্যাল কনটেক্সটকেও কখনো বাইপাস করছি না। একই সঙ্গে আমরা মানবাধিকারের বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কোনোভাবেই না আসে।

একই সময়ে সেখানে ক্রমবর্ধমান খুন-জখমের প্রবণতা ও অপরাধের প্রবণতাকেও আমাদের অ্যাড্রেস করতে হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই উদ্যোগের পেছনে আপনারা থেকে সোশ্যাল প্রেশার গ্রুপ কিংবা ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। যাতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়।

আয়োজকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে যে বিষয়গুলো ভাবছেন, সেই ভাবনাটিই যে একমাত্র সঠিক— এমনটি না ভেবে আপনাদের ভাবনাগুলো আমাদের দিন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে কমিটি রয়েছে, সেখানে সেগুলো উপস্থাপন করুন। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কমিটি বিবেচনা করবেন। আমি নিজেও বলব, আপনাদের সোশ্যাল প্রেশার গ্রুপ হিসেবে যে সুপারিশগুলো আসছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে স্থায়ী সমাধানের পথে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য এস কে তৌফিক এম.হক, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাকিল আহম্মেদ ও রোহিঙ্গা নারী অধিকার কর্মী রাজিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত