Ajker Patrika

সংসদে জামায়াত এমপির ‘অশ্লীল’ উপমা, বক্তব্যের অংশ এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংসদে জামায়াত এমপির ‘অশ্লীল’ উপমা, বক্তব্যের অংশ এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় নীলফামারী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত একটি উপমাকে কেন্দ্র করে আপত্তি তুলেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বক্তব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দকে ‘অরুচিকর’ ও ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়ে সেগুলো কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় নীলফামারী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সমালোচনার প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে ‘চালুনি’ ও ‘সুচের’ কথোপকথনের একটি উপমা দেন।

উপমাটিতে ব্যবহৃত কিছু শব্দ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য শেষে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। স্পিকার বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনো কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা চাই না।’ তিনি বলেন, ‘আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে। সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।’

সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে ‘এক্সপাঞ্জ’ বলতে কার্যবিবরণী থেকে কোনো বক্তব্য বা শব্দ বাদ দেওয়াকে বোঝায়। ফলে সেগুলো সংসদের আনুষ্ঠানিক নথির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।

এর আগে বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি দিক নিয়ে আপত্তি তোলেন।

এ সংসদ সদস্য বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়বে এবং রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার এমনিতেই অস্থির। যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বড় বাজেট ঘাটতি ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বাড়াতে পারে মন্তব্য করে আবদুস সাত্তার বলেন, এতে সুদের হার বাড়বে, বিনিয়োগ কমবে এবং সরকার ও করদাতাদের ওপর ঋণের চাপ আরও বাড়বে।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সরকারের মোট ঋণ ২১ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা জিডিপির প্রায় ৩৯ থেকে ৪১ শতাংশের সমপরিমাণ।

মাদ্রাসাশিক্ষা প্রসঙ্গে আব্দুস সাত্তার বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে কিছু বরাদ্দ বাড়লেও মাদ্রাসা সরকারিকরণের কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, তা এখনো আমাদের বোধগম্য হয়নি।’

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসা সরকারিকরণের প্রস্তাব দেন।

নিজ এলাকার কৃষি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন নীলফামারী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ধান, পাট, তামাক, আলু, হলুদ, মরিচ, তরমুজসহ বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের জন্য সরকারি হিমাগার নেই। এ কারণে ডোমার বা ডিমলা এলাকায় একটি সবজি ও ফল সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানান আবদুস সাত্তার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত