Ajker Patrika

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ‘প্রকৃত মালিকদের’ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি বিরোধী দলীয় নেতার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ‘প্রকৃত মালিকদের’ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি বিরোধী দলীয় নেতার
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ার জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল, দাবি করে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির বর্তমান সংকটের সমাধান করতে হলে অতীতে যাদের কাছ থেকে শেয়ার নেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছেই মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নোটিশটি এনেছেন বিরোধী দলীয় নেতা।

নোটিশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। শফিকুর রহমান বলেন, ‘জোর-জবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে এই শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অতীতে বিশেষ একটি গোষ্ঠী চাপ সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘শেয়ার কী, সেই শেয়ারগুলো কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে, সারা দুনিয়া জানে। বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে তাদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল।’

শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তার মতে, ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি সততা, দক্ষতা ও গ্রাহকসেবার মাধ্যমে দেশের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এই ব্যাংক এককভাবে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ পর্যন্ত দেশে এনেছে। ডিপোজিট, তারল্য ও বিনিয়োগে এটি ছিল অনন্য।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এটা সকলের ব্যাংক। শুধু জামায়াতের মানুষের ব্যাংক নয়, বিএনপির বহু মানুষ আছেন, অন্য দলের মানুষ আছেন, অন্য ধর্মের মানুষ আছেন।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপকে ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ব্যাংকটাকে ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা। এস আলমকে তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যাংকটি দখলের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয় এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

নোটিশেও বলা হয়, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি এবং খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল ৪ শতাংশ। পরে নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে খেলাপি বিনিয়োগ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত