Ajker Patrika

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার-নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৪১
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার-নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার আতিকুর রহমান টমাস ও বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল। ছবি: সিআইডির সৌজন্যে

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার পর এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ মঙ্গলবার সিআইডির মিডিয়া বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।

সিআইডি জানায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে মানব পাচার চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। চক্রের সদস্যরা তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে পাঠানোর চুক্তি করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন ভুক্তভোগী। ৭ এপ্রিল তাঁকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি ও সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন রাখার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে তাঁকে মিসরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখেন। পরে আগের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ছয় হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগী যুবককে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ভুক্তভোগীকেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ছয় লাখ টাকা দাবি করা হয়।

এরপর লিবিয়া পুলিশ তাঁকে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

সিআইডি জানায়, মামলাটির তদন্তভার নেওয়ার পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি আতিকুর রহমান টমাস ও বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত