Ajker Patrika

ফখরুল ইসলাম যেমন ‘ইসলাম’ নয়, ইসলামী ব্যাংক-জামায়াতও ‘ইসলাম’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফখরুল ইসলাম যেমন ‘ইসলাম’ নয়, ইসলামী ব্যাংক-জামায়াতও ‘ইসলাম’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের ওপর বক্তৃতায় দেশের টাকা বিদেশে পাচারে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘এখন বলা হচ্ছে–আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে, ইসলামের ওপর হাত দেবেন না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক–ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম–ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামী–ইসলাম নয়।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যেহেতু দাবি উঠেছে, এস আলম গ্রুপের লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগ তোলা হয়েছে, আমরা দাবি করছি—সমস্ত অর্থ পাচারের তদন্ত করা হোক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে করা হোক। যারা বাংলাদেশের টাকা, মানুষের টাকা পাচার করেছে বিদেশে, সকলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে তাকবিরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে। এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আরডিএস নামে একটা প্রকল্প আছে। এটা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প নামে।

বিরোধী দলের নির্বাচনকালীন কর্মকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভোটের আগে অনেক নারীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটের সময় তাঁর কর্মী এক বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করেছেন–‘মা আপনি কোথায় দিলেন? বলছে যে বাবা বলছে কোরআনের দল, না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে। বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে। আরও ১০ হাজার টাকা পাব। এইভাবে বোনাস হিসেবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া নিশ্চয়তাও দিয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই তাকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইন–কানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা না। তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।

সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তো বা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে একটি গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। পরে মালামাল বিক্রয় করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুষ্টু লোকেরা বলে–সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে। তারা একটা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেই টিভি চ্যানেলটা কোন পক্ষে খেলছে, সেটা আমরা জানি। তার ব্যাংক লাইবিলিটি হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হচ্ছে না? সে জন্য তদন্ত হবে।’

সকল আর্থিক লেনদেনের বিচার হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংকের থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তার উত্তরে বলা হয়েছে–যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এই অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যদি নতুনভাবে অভিযোগ আসে, সেটা তদন্ত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত