
সরকার দুই মাসের জ্বালানি তেলের মজুত থাকার আশ্বাস দিয়েছে। মজুত নিয়ে ভরসার কথা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে। কিন্তু মাঠের চিত্রের পরিবর্তন নেই। বরং তা দৃশ্যত দিন দিন কঠিন হচ্ছে। রাজধানীতে বহু মানুষ ভোর থেকে তেলের পাম্পের লাইনে দাঁড়ালেও অধিকাংশ পাম্পে দুপুরের আগে ডিপো থেকে তেল আসছে না। ফলে জ্বালানির জন্য পাম্পগুলোতে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আসাদগেট এলাকার তালুকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় শত শত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লাইন। সেখানকার কর্মী টিপু আজকের পত্রিকাকে জানালেন, সকালে তেল এলেও তা ১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। আবার তেল আনতে ডিপোতে ট্যাংক পাঠানো হয়েছে। তবে সন্ধ্যা ৬টার আগে তেল আসার সম্ভাবনা নেই।
তেল নিতে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। মাসুদ রানা নামের একজন রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলচালক জানালেন, তিনি এই ফিলিং স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছেন সেই সকাল ৬টার দিকে এসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর ধীরে ধীরে এগিয়ে পাম্প পর্যন্ত আসেন। কিন্তু তাঁর সামনে পাঁচটি বাইক থাকতেই পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। শুনেছেন সন্ধ্যা ৬টার আগে আর তেল আসবে না।
ক্লান্ত, বিরক্ত মাসুদ রানা আরও বললেন, ‘ইতিমধ্যেই কয়েক ঘণ্টা চলে যাওয়ায় লাইন আর ছাড়ছি না। রিজার্ভ ট্যাংকের তেল দিয়ে ২০ কিলোমিটার চলেছি। আর ১০ কিলোমিটার গেলে হয়তো গাড়িই বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এই পাম্পেই অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলাম।’
বেলা আড়াইটার দিকেও দেখা যায় পাম্পটির নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাইরে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার তেলের অপেক্ষায়। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার একঘেয়েমি কাটাতে অনেক গাড়ি ও বাইকচালক ফুটপাতে একটু ছায়া খুঁজে নিয়ে বসে খোশগল্প করছিলেন। এ সুযোগে ফেরিওয়ালারাও দুপয়সা বানাচ্ছে। তাদের কাছ থেকে বাদাম-চানাচুরের মতো এটা-সেটা কিনছেন চালকেরা।
বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের প্রায় সবারই গাড়িতে তেল শেষের পথে। সকাল ১০টার দিকে শুনেছেন সন্ধ্যা ৬টার আগে নতুন করে তেল পাওয়া যাবে না। রাস্তার উল্টো পাশেই রয়েছে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন নামে আরেকটি পেট্রল পাম্প। কিন্তু সেখানকার অপেক্ষার সারি আরও দীর্ঘ। আসাদ অ্যাভিনিউ হয়ে মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে গেছে সে লাইন।
ফুয়েল পাসেও ৮ ঘণ্টার অপেক্ষা
আসাদগেট এলাকায় পাশাপাশি থাকা তালুকদার ফিলিং স্টেশন আর সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন—দুটি পাম্পেই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুয়েল পাসের মাধ্যমে তেল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় ফুয়েল পাস দিয়ে তেল নেওয়ার ফিলিং স্টেশন রয়েছে মোট সাতটি।
ভোগান্তি এড়াতে ফুয়েল পাসের আওতায় এসেছেন মেহেদী হাসান। গতকাল সকাল ৬টার দিকে তেল নিতে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে এসে তিনি দেখেন, পাসধারী ও পাসহীন সবাই একই লাইনে দাঁড়িয়ে। কাজেই পাস দেখিয়ে ঝামেলাহীনভাবে দ্রুত তেল পাওয়ার সুযোগ মেলেনি। মেহেদীকে প্রথমে দাঁড়াতে হয়েছে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি। বেলা ৩টায় তিনি আসাদগেটের কাছাকাছি এসেছেন।
অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, ‘ফুয়েল পাস নিয়েও তো তেমন সুবিধা করতে পারলাম না। আমার বাইকের তেল প্রায় শেষ। ফলে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়াতে হলো। এখন শোনা যাচ্ছে পাসধারীদের ১ হাজার টাকার তেল দেওয়া হবে, অন্যরা পাচ্ছেন ৫০০ টাকার। আপাতত এটাই সান্ত্বনা।’
পাম্পের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ডিজেলের সেবা বন্ধ রয়েছে। জানা গেল বুধবার ও গতকাল দুপুর পর্যন্ত ডিজেলের কোনো চালান এই পাম্পে আসেনি। পাম্পের ব্যবস্থাপক পরিচয় দেওয়া একজন বললেন, ‘আমরা ডিজেলের চাহিদাপত্র না দেওয়ায় পাম্প থেকে ডিজেল সরবরাহ করা হয়নি। তবে বিকেল নাগাদ ডিজেলের একটি ট্যাংক আসতে পারে।’
গতকাল সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের ডিপো থেকে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপক।
অনেকের রুটিরুজিতে টান
আসাদগেট এলাকায় তেলের জন্য অপেক্ষমাণ রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক চালক ওবায়দুর রহমান জানান, যাত্রী পরিবহন করে তিনি দিনে সাধারণত এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কিন্তু তেলের সংকটের কারণে তাঁর দৈনিক আয় সম্প্রতি ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। কারণ কেবল তেল নিতেই দিনের বিরাট অংশ কেটে যাচ্ছে।
‘আজকে হয়তো ১২ ঘণ্টায়ও তেল পাব না। পেলেও মাত্র ৫০০ টাকার। দুই দিন আগে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে সাত ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার তেল নিয়েছিলাম। আমার দৈনিক আয় তলানিতে নেমেছে। জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে’, বলেন ওবায়দুর।
ফুয়েল অ্যাপে নিবন্ধন করছেন না কেন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মোটরসাইকেলটি ময়মনসিংহ জেলায় রেজিস্ট্রেশন করা। কিন্তু আপাতত দেওয়া হচ্ছে কেবল ঢাকা মেট্রো সিরিয়ালের ফুয়েল পাস। সব জেলার জন্য উন্মুক্ত না করলে আমার এ পাস পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।’
গতকাল বিকেলে দেশে জ্বালানি তেলের রাষ্ট্রীয় বিপণন প্রতিষ্ঠান বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা দেখা যায়। অন্যদিন পরিস্থিতি নিয়ে কমবেশি কথা বললেও এ দিন এ দপ্তরের কেউ কথা বলতে রাজি হলেন না। তেলের পরিস্থিতি নিয়ে এত দিন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো থেকে নিয়মিত কথা বলা হলেও কয়েক দিন ধরে অনেক কর্মকর্তাই চুপ থাকছেন।

২০৩০ সালের মধ্যে শুধু সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য একটি নীতিমালা এবং বিনিয়োগ সহযোগীকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
সরকার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে সচিব পদে রদবদল করেছে। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
৫ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট যাত্রা করবে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে। এর আগে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়...
৬ ঘণ্টা আগে